বিয়ে নয়, নিখিলের সঙ্গে সহবাস করেছি, জানালেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান

বিয়ে নয়, নিখিলের সঙ্গে সহবাস করেছি, জানালেন তৃণমূল  সাংসদ নুসরত জাহান

২০১৯ সালের ১৯ই জুন নিখিল জৈনের Nikhil Jain সঙ্গে রূপকথার বিয়ে সেরেছিলেন নুসরত জাহান Nusrat Jahan। দু-বছরের মাথাতে নুসরত বললেন ওটা নাকি বিয়ে নয়! বুধবার নিখিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের চর্চা নিয়ে অবেশেষে নীরবতা ভাঙলেন তারকা সাংসদ। নুসরত বলেন, ‘তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই বিয়েটা অবৈধ। তারউপর এটা যেহেতু হিন্দু-মুসলিম বিয়ে সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে এই বিয়েতে স্বীকৃতি দরকার।

সেটা হয়নি। ফলে এটা বিয়েই নয়’। মিডিয়া বিবৃতি জারি করে নুসরত আরও জানান, ‘আইনের চোখে এটাই বিয়েই নয়, বরং একটা রিলেশনশিপ বা বলা যায় লিভ ইন রিলেশনশিপ। তাই ডিভোর্সের প্রশ্নটাই উঠে না। আমারা বহুদিন আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছি। তবে আমি এই নিয়ে কিছু বলতে চাইনি। কারণ আমার ব্যক্তিগত জীবনটা আমি ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছিলাম।

তাই আমি কী করছি, সেটা ওই বিচ্ছেদের উপর ভিত্তি করে নির্ভরশীল নয়।আমাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের বা অন্য যে কারুর প্রশ্ন তোলাটা সাজে না। এই বিয়েটা আইন সম্মত নয়, বৈধ এবং কার্যকর নয়’।  মা হবেন নুসরত। অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় কী? গত ৫ দিন ধরে অভিনেত্রী এবং সাংসদ নুসরত জাহানকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। শুধু তাই নয়, নিখিলের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে না কেন, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চার দিক থেকে।

এমনকি লেখিকা তসলিমা নাসরিনও নুসরতের নীরবতা নিয়ে কথা বলেছিলেন নেটমাধ্যমে। লিখেছিলেন, ‘…এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনও সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি’। নিখিলের কথায়, ‘‘যে দিন জানলাম, নুসরত আমার সঙ্গে থাকতে চায় না, অন্য কারও সঙ্গে থাকতে চায়, সে দিনই দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছি আমি।

নুসরতের মা হওয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত নিইনি আমি।’’ এমনকি আগামী জুলাই মাসে যে আদালতে এই মামলার শুনানি, নিখিল সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। বিবৃতি জারি করেই বুধবার নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে নুসরত লিখেছেন, ‘যে মহিলা সব শুনেও নীরব থাকেন, এ রকম পরিচয়ে পরিচিত হব না আমি’। তাঁর বিরুদ্ধে উঠে আসা অসংখ্য বিরোধী স্বরের মুখোমুখি হলেন নায়িকা। ২০১৯ সালের ১৯ জুন ও ২০শে জুন তুরস্কের বোদরুমে দুটি রীতি মেনে বিয়ের পর্ব (যদিও নুসরত এই বিয়ে অস্বীকার করলেন) সেরেছিলেন নুসরত-নিখিল।শহরে ফিরে জুলাইয়ের ২ তারিখ কলকাতার এক সাত তারা হোটেলে বসেছিল এই জুটির গ্র্যান্ড রিসেপশন, যেখানে হাজির ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর কোনও সরকারি অনুষ্ঠান থেকে প্রাইভেট পার্টি, হামেশাই একসঙ্গে দেখা মিলেছে এই জুটির। দুর্গাপুজোর অষ্টমীর অঞ্জলি, দশমীর সিঁদুরখেলা থেকে ইস্কনের রথের অনুষ্ঠান, নুসরতের পাশে থেকেছেন তাঁর ‘স্বামী’ নিখিল জৈন। জৈন পরিবারের বউমা হিসাবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন নুসরতও।  গত বছর অক্টোবরে সুরুচি সঙ্ঘের পুজোয় অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে শেষবার একসঙ্গে পৌঁছেছিলেন নুসরত-নিখিল। সেই শেষ.. এরপর আর জনসমক্ষে একত্রে দেখা যায়নি মিঁয়া-বিবিকে।

চলতি বছর জানুয়ারির শুরুতেই প্রকাশ্যে আসে তাঁদের চর্চিত বিচ্ছেদের কাহিনি। সেই সময় যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে রাজস্থান ট্রিপে ছিলেন নুসরত জাহান। তারপর থেকেই নুসরত-নিখিলের সম্পর্কের চর্চা থেকেছে সংবাদ শিরোনামে। এরমধ্যে গত সপ্তাহে নুসরতের মা হওয়ার সিদ্ধান্ত তথা চর্চিত প্রেগন্যান্সির খবর প্রকাশ্যে আসতেই হইচই কাণ্ড বেঁধে যায়। নিখিল সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, ছয় মাস ধরে তিনি আলাদা নুসরতের থেকে। পাশাপাশি যোগ করেন, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মার্চ মাসে দাখিল নিখিলের সেই মামলার পরবর্তী শুনানি ২০শে জুলাই। যেহেতু নুসরত-নিখিলের ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন হয়নি। সেই কারণেই অ্যানালমেন্ট করেই নুসরতের সঙ্গে আলাদা হতে চান নিখিল। তবে নুসরতের এই বিস্ফোরক বিবৃতির পর নিখিল কী বলেন, এখন নজর সেদিকেই!