মহাকাশে শুধু মানুষই নয়, পৌঁছেছিল মাছ, শিম্পাঞ্জি, টিকটিকি!.....

মহাকাশে শুধু মানুষই নয়, পৌঁছেছিল মাছ, শিম্পাঞ্জি, টিকটিকি!.....

আজ বাংলা: মহাকাশের রহস্য ভেদ করতে  ঝাঁপিয়েছে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলি। আমেরিকা, চিনের মতো মহাকাশে চক্কর কাটছে একাধিক ভারতীয় উপগ্রহ। জানা যায়, ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই স্যাটার্ন ৫ রকেটে চেপে চাঁদে পাড়ি দিয়েছিল অ্যাপোলো ১১। 

তিন জন মহাকাশচারী সে দিন চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন- নীল আর্মস্ট্রং, এডুইন (বাজ) অলড্রিন এবং পাইলট মাইকেল কলিন্স। চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন নিল আর্মস্ট্রং। তার পরে নামেন এডুইন অলড্রিন। এই তথ্য তো আশা করি সকলেরই জানা...তবে আপনারা কি জানেন যে, মহাকাশে পরীক্ষামূলক ভাবে পাঠানো হয়েছে একাধিক জীবজন্তুকে। এখনও পর্যন্ত সাতটি দেশ মহাকাশে মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণী পাঠিয়েছে।

মাছি: ১৯৪৭ সালে প্রথম মহাকাশে মাছি পাঠিয়েছিল আমেরিকা। কসমিক রশ্মির প্রভাব এবং ভবিষ্যতে নভোচরদের উপর তার প্রভাব বুঝতে প্রথমে মাছি পাঠানো হয়েছিল মহাকাশে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত V টু (V-2) মিসাইলে মাছি ভর্তি করে আকাশে ১০৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পাঠানো হয়েছিল। 

লাইকা (কুকুর): মস্কো বেছে নিয়েছিল পথের কুকুর লাইকাকে। ১৯৫৭-এর ৭ নভেম্বর ছিল রুশ বলশেভিক বিপ্লবের ৪০ তম বর্ষপূর্তি। সেই তারিখটাকেই স্থির করা হল সোভিয়েতের মহাকাশ-মাইলফলক স্থাপনের জন্য। তার জন্য মস্কোর রাস্তা থেকে বেছে নেওয়া হয়েছিল তিন বছরের স্ত্রী প্রজাতির একটি কুকুরকে। রুশ বিজ্ঞানীদের যুক্তি ছিল, মস্কোর পথের কুকুর হওয়ার কারণে সে কষ্টসহিষ্ণু। কারণ, অনাহার ও তীব্র ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা আছে তার।  তবে দীর্ঘ সময় ধরে লাইকার মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছিল রাশিয়া। প্রথমে বলা হয়েছিল, স্পুটনিক-২ তার গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার পরে কয়েক দিন জীবিত ছিল লাইকা। কিন্তু, বহু বছর পরে স্বীকার করে নেওয়া হয়, স্পুটনিক-২ লঞ্চ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মারা গিয়েছিল কুকুরটি। ১৯৯৩ সালে এই তথ্য প্রকাশ করেন রাশিয়ান স্পেস ডগ ট্রেনার ওলেগ গেজেঙ্কো। জানা গিয়েছিল নিরীহ লাইকা-র মৃত্যুর মূল কারণ ছিল আতঙ্ক।

ইঁদুর: ফ্রান্সের প্রথম নভোচর প্রাণী। তবে লাইকার মতোই ভাগ্য ভালো ছিল না ইঁদুরটির। মহাকাশে গিয়ে সফলভাবে ফিরে আসতে পারেনি সে। ১৯৫০ সালে মহাকাশে গিয়েছিল ইঁদুরটি। আকাশে ১৩৭ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে প্যারাশুটের মাধ্যমে নামানো হয়েছিল ইঁদুরটিকে। তবে সে সময়ই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার।

শিম্পাঞ্জি: মহাকাশে পৌঁছনোও প্রথম শিম্পাঞ্জির নাম ছিল অ্যালবার্ট ২। ১৯৪৯ সালে ১৩৪ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল সে। তবে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় মৃত্যু হয় ওই শিম্পাঞ্জির। পরের বছর একই প্রচেষ্টা হয় অ্যালবার্ট ১ দিয়ে। তবে তারও মৃত্যু হয়।

মাকরসা: জানা যায়, ১৯৭৩ সালে দুটি মাকড়সাকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন স্কাইল্যাব যানে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল দুই স্ত্রী মাকড়সা অ্যারাবেলা ও অনিতাকে। মহাশূন্যে মাকড়সার জাল কীভাবে বুনবে, তা জানতেই এই পরীক্ষা। তবে মিশন ব্যর্থ হয়। দুটি মাকড়সারই মৃত্যু হয়েছিল। 

টিকটিকি: মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল একটি পুরুষ ও চারটি স্ত্রী টিকটিকি। ফোটোন- এম ৪ (Foton-M4) স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়েছিল টিকটিকিগুলিকে। তবে সবক'টিই মারা যায়।

মাছ: হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলেও মহাকাশে গিয়েছে মাছও। ১৯৭৩ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র উদ্যোগে মহাশূন্যে পৌঁছেছিল মাছ। তবে অল্প সময়েই মৃত্যু হয় মাছগুলির। এরপর ২০১২ সালে মহাকাশে মাছ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।