অশোকনগরে আরও লগ্নি ওএনজিসি-র

অশোকনগরে আরও লগ্নি ওএনজিসি-র

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এখন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি-র অন্যতম বাজি। সেখানে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং খননে আরও বেশি জোর দিচ্ছে তারা। এ জন্য আগামী তিন বছরের মধ্যে বেঙ্গল বেসিনের অঙ্গ ওই প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকা লগ্নির পরিকল্পনা করেছে সংস্থা। আরও বেশি জমি কিনেছে প্রকল্পটির পরিধি বাড়ানোর জন্য।

তবে তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী ওএনজিসি-র দাবি, শুধু অশোকনগর নয়, দেশ জুড়েই জ্বালানির অনুসন্ধান এবং উত্তোলন বাড়াতে চায় তারা। এ জন্য আগামী তিন বছরে খরচ করা হবে মোট ৩১,০০০ কোটি টাকা। ওএনজিসি-র অনুসন্ধান বিভাগের ডিরেক্টর আর কে শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর প্রকল্পটিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

সেই জন্যই সেখানে আরও বেশি পুঁজি ঢালা হবে। আগামী তিন বছরে ৫০০ কোটি টাকা লগ্নি হবে। এ ছাড়া, প্রকল্পটির আয়তন বাড়াতে যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ৩২৩ একর জমি।’’ অশোকনগরের বাইগাছি এলাকায় ওএনজিসি ইতিমধ্যেই দু’টি কূপ খনন করেছে। নিয়মিত উত্তোলনের কাজ চলছে। যে তেল-গ্যাস পাওয়া গিয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রকল্প মূল্যায়নের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীবাস্তব।

তাঁর দাবি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে মূল্যায়ন শেষ হবে। তার পরেই পুরোদস্তুর উত্তোলন শুরু।  সম্প্রতি ওএনজিসি জানিয়েছিল, বাইগাছির পরে অশোকনগরেরই দৌলতপুরে তেল-গ্যাস মজুত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সংস্থা সূত্রের খবর, বেঙ্গল বেসিনের অঙ্গ হিসেবে এ বার বনগাঁর গরীবপুরেও খুব শীঘ্রই একটি কূপ খনন করে অনুসন্ধান চালানোর পরিকল্পনা করেছে তারা।

এ দিন সংস্থার সিএমডি অলকা মিত্তল বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দেশে পেট্রল-ডিজ়েল এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে তেল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির মুনাফা বেড়েছে। তবে কেন্দ্র ওই মুনাফার উপরে অতিরিক্ত কর বসাবে বলে মনে করেন না তিনি। মিত্তল বলেন, ‘‘ভারত এখন জ্বালানির জন্য বিশ্ব বাজারের উপরে নির্ভরশীল। সেই নির্ভরশীলতাই কমাতে চাইছে কেন্দ্র।

তাই দেশে সেগুলির উৎপাদনে জোর দিতে লগ্নি বাড়াতে বলছে।’’ সূত্রের ব্যাখ্যা, ওএনজিসি যা আয় করে তার উপরে প্রতি টাকায় ৬৫-৬৬ পয়সা কর আদায় করে সরকার। বাকি টাকা তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে খরচ হয়। গত অর্থবর্ষে সংস্থাটির রেকর্ড নিট মুনাফা হয়েছে, যার অঙ্ক ৪০,৩০৬ কোটি টাকা। আয় ছুঁয়েছে ১,১০,৩৪৫ কোটি।