ওটস দ্রুত ওজন কমানোর সাথে সাথে আরো পাঁচটি রোগ-ব্যাধি দূর করে !

ওটস দ্রুত ওজন কমানোর সাথে সাথে আরো পাঁচটি রোগ-ব্যাধি দূর করে !
ওটস

আজ বাংলা : আমরা সকলেই চাই আমাদের দেহের অতিরিক্ত ওজন যেন কমে যায় । অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনের চাপে ঠিকমতো ব্যায়াম করা হয়ে ওঠে না।  তাই এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে দেহের অতিরিক্ত ওজন কমে যাবে।

 এরমধ্যে ওটস খাবার উপকারিতা অপরিসীম । চলুন জেনে নিই ওটস কি এবং এটি দ্রুত ওজন কমাতে কিভাবে সাহায্য করে । ওটস হলো এমন একটি খাদ্যশস্য যা আমাদের দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে, উচ্চ রক্তচাপ , নিরাময় করতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ।

ওটস এ অন্যান্য খাদ্যশস্যের তুলনায় বেশি পরিমাণে আঁশ জাতীয় দ্রব্য থাকায় এটি দ্রুত হজম হয় । গবেষণায় দেখা গেছে এতে রয়েছে অতি উচ্চমাত্রার  সহজে দ্রবণীয় বেটাগ্লুকন যেটি অতিরিক্ত কোলেস্টেরল  নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে । এবং হূদরোগ কমাতেও সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখে এই খাদ্যশস্য ।

এছাড়াও এতে আরো কিছু উপকারী উপাদান আছে যেমন আলফার টকটেরিওনল এবং আলফার টোকোফেরল এই উপাদানগুলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদযন্ত্র কে সুস্থ রাখতে এবং আলজাইমার রোগ,  গ্লকোমা প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে ।

এই কারণে ওটসের উপকারিতা এত বেশি ওটস নামক খাদ্যশস্যে এত পরিমাণে ফাইবার থাকে যেটি আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।  তালে প্রতিদিন নিয়মিত ওটস খেলে আমাদের কি কি উপকার হতে পারে । 

১. কোলেস্টেরল কমায় - ওটস এ বিদ্যমান ফাইবার লিপিড বা চর্বি কমাতে সাহায্য করে । আর ওটস এ বিদ্যমান বেটা গ্লুকন শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমায় । এই উপাদানটি আমাদের শরীরের খিদে কমায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে ।

২. ওজন কমায়  - যারা দেহের অতিরিক্ত কম ওজন কমাতে চান তারা প্রতিদিন সকালে এক বাটি ওটস জলখাবার হিসেবে খেতে পারেন। ওটস প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ তাই এটি দীর্ঘক্ষন পেটভরা রাখতে সাহায্য করে ।  গবেষকদের মতে অন্যান্য যেকোন খাদ্যশস্যের তুলনায় ওটমিল বেশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে । কারণ এতে আছে বেটা গ্লুকন এবং পেপটাইড এর বন্ধন এই দুটি হলো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন । 

৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় - ওটস উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফ্রিরেডিকেল এর কাজ করে । ফলে ওটস হৃদরোগের প্রদাহ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় । ওটস হৃদয়ের রক্তপ্রবাহ কে প্রবাহকে সচল রাখে এবং একই সাথে আর আর্টারি কে স্বাভাবিক রাখে ফলে যেকোনো হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় । গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত ওষুধ খায় তাদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ২৯ শতাংশ কমে যায় । 

৪. রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে : ওটস এ  আছে সমানুপাতিক মাত্রায়  শর্করা তাই সকালে জল খাবার হিসেবে ওটস খেলে সারাদিনের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে । এছাড়াও এতে রয়েছে অধিক পরিমাণে ফাইবার তাই এটি ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ সঠিক রাখে । তাই ওটমিল খুব সহজেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । 

৫. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে : উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটস সহায়ক হিসেবে কাজ করে । দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ওটমিল রাখলে এটি সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে । ওটস বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে । এছাড়াও ওটস শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।