চর খুঁড়তেই একের পর এক শিবলিঙ্গ, প্রাচীন হিন্দু জনপদের ইঙ্গিত?

চর খুঁড়তেই একের পর এক শিবলিঙ্গ, প্রাচীন হিন্দু জনপদের ইঙ্গিত?

করোনা আবহের মধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে অজয় নদীর বুকে ঘটলো এক বিরল ঘটনা। গরমের দাপটে নদীর জল শুকিয়ে চারদিক বালিতে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনার সাথে গ্রামের মানুষজন পরিচিত। কিন্তু এবার যা ঘটলো তা একেবারে অবিশ্বাস্য। দুর্গাপুরের লাউদোহা ফরিদপুর ব্লকের গোগলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত নতুন ডাঙ্গা এলাকার মধ্যে দিয়েই বয়ে গেছে অজয় নদী।

প্রতিবারের মতো এবারো গ্রামের লোকজন বালি তুলতে নদীতে যায়। বুধবার বালি তুলতে গিয়েই কিছু মানুষ ১টি শিবলিঙ্গ দেখতে পান। প্রথমটা অত গুরুত্ব না দিলেও পরের দিন অর্থাত্‍ বৃহস্পতিবার ফের স্থানীয়রা বালি তুলতে গিয়ে হদিস পান ৯টি শিবলিঙ্গর। এভাবেই বালি খুঁড়লেই উঠে আসছে একের পর এক শিবলিঙ্গ। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। এদিন অজয় থেকে বালি তোলার সময় একটি শিবলিঙ্গ দেখতে পান এলাকার লোকজন। তবে খুব একটা বিশেষ গুরুত্ব তাঁরা দেননি।

স্থানীয়রা জানান, হঠাত্‍ই বালি খুঁড়তে একটি মাঝারি আকারের শিবলিঙ্গ উঠে আসে। তারা ধরে নিয়েছিলেন কেউ হয়ত অজয়ের চরে তা রেখে গিয়েছিল। বালির স্তূপে তা ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ফের বালি তুলতে গিয়ে একই ঘটনার সম্মুখীন হন এলাকার লোকজন। এবার অজয়ের চর থেকে ৯টি শিবলিঙ্গ উঠে আসে। মুহূর্তে সে খবর রটে যায় গ্রামে গ্রামে। স্বয়ং মহাদেব এই মহামারী থেকে তাঁদের রক্ষা করতে এসেছে বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেন এলাকার লোকজন। যে যাঁর বাড়ি থেকে ধূপধুনো, বেলপাতা-সহ অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নিয়ে ছুটে আসেন। মন্ত্রোচ্চারণ করে শুরু হয় পুজোপাঠ।

শিবলিঙ্গের সামনে ক্রমেই বাড়তে থাকে খুচরো পয়সার স্তূপ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, করোনা থেকে উদ্ধার করতে মহাদেব পাতাল ফুঁড়ে উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মালা বাদ্যকর বলেন, “আমাদের গ্রামে যখন উঠেছে বাবা, গ্রামেই যেন থাকে। আমরা গ্রাম থেকে নিয়ে যেতে দেব না। একটা সমস্যায় পড়েছি, করোনার সমস্যা, বাবাকে নিয়ে যেতে দেব না। বাবাকে গ্রামের মন্দিরে বসাব।” খবর পৌঁছয় প্রশাসনিক মহলেও।

ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লাউদোহা ফরিদপুর থানার পুলিশ এবং বীরভূম জেলার খয়রাশোল থানার পুলিশ। এ বিষয়ে দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের বিডিও দেবজিত্‍ দত্ত জানান, তাঁদের কাছে খবর আসা মাত্রই শিবলিঙ্গগুলি নজরদারির জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারি যা নিয়ম রয়েছে তা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে, জানিয়েছেন বিডিও।