ঢাকেশ্বরী শক্তিপীঠ | একান্ন সতীপীঠের এক সতীপীঠ Dhakeshwari

ঢাকেশ্বরী শক্তিপীঠ | একান্ন সতীপীঠের এক সতীপীঠ Dhakeshwari

বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত Dhakeshwari ঢাকেশ্বরী মন্দির।  আটশো বছর আগে থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজিত হন মা দুর্গা। এটি একটি সতীপীঠও। একসময় পাকিস্তানি সেনার গোলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷ পরে বাংলাদেশ সরকার সংস্কার করে ফের ফিরিয়ে আনে সেটিকে৷ বুড়িগঙ্গার তীরে মহানগর ঢাকার বিখ্যাত মন্দির দেশী-বিদেশী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র৷ কথা হচ্ছে বাংলাদেশের ঢাকেশ্বরী মন্দির নিয়ে৷ এই মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় সম্পত্তি৷

কথিত আছে দেবী স্বয়ং মহানগর ঢাকার রক্ষাকত্রী৷ তাই তিনি ঢাকার ঈশ্বরী অর্থাৎ ঢাকেশ্বরী৷মন্দিরের ইতিহাস বেশ লম্বা-চওড়া৷ কথিত রয়েছে, ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন রাজা বল্লাল সেন মন্দিরটি স্থাপন করেছিলেন৷ তবে এই কথা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে৷ আদতে রাজা বল্লাল সেন এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে৷

কেউ বলেন তিনি মন্দিরটি তৈরি করেন নি, তো কারোর আবার দাবি তিনিই এই ঐতিহাসিক মন্দিরটির স্থপতি৷ আরও একটি প্রবাদ, সতী দেহ ছিন্ন হবার পর এই স্থানে তার কিরীটের ডাক এই জায়গায় পড়ে তাই এটা উপ-পীঠ। ডাক হল উজ্জ্বল গহনার অংশ। ডাক থেকেই Dhakeshwari ঢাকেশ্বরী নামের উৎপত্তি।  শুরু থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি দুর্গা প্রতিমার স্থায়ী মন্দির। প্রথম দিকে এখানে ছিল অষ্টভুজার প্রতিমা।

পরবর্তী সময় স্থাপন করা হয় দশভুজার দুর্গা প্রতিমা। শোনা যায়, শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মূল বিগ্রহের উচ্চতা দেড় ফুটের মতো৷ দেবীর দশ হাত। কাত্যায়ণী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে অবস্থান করছেন দেবী। পাশে রয়েছেন লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং নিচে কার্তিক ও গণেশ। বাহন রূপে পশুরাজ সিংহ দণ্ডায়মান যার ওপর দাঁড়িয়ে দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছেন। শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে এই মন্দিরে। ঢাকার নামকরা যে কয়েকটি পুজা মণ্ডপ আছে ঢাকেশ্বরী মন্দির তার মধ্যে অন্যতম।

পূজার শুরু থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত প্রতিবছর আনুমানিক গড়ে ৭০-৮০ হাজার পুণ্যার্থী এখানে মায়ের আরাধনা করতে আসেন। কালের বিবর্তনে মন্দিরের আকারগত অনেক পরিবর্তন হলেও মায়ের প্রতি ভক্তদের আরাধনায় খাদ মেশেনি। এই মন্দিরে পূজা দিতে আসা ভক্তরা প্রতি বছর একবার হলেও দুর্গাপুজাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসেন। এখানকার খোলামেলা পরিবেশ লোকজনকে মুগ্ধ করে।

দেশভাগের পর পাকিস্তানের ভূখণ্ডে পড়ে গোটা পূর্ব বাংলা৷ তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরটিও সেই অর্থে পাকিস্তানের ঐতিহ্যশালী স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত হয়৷ দেশবিভাগের পর থেকেই বেশ কয়েকবার মন্দিরটি আক্রান্ত হয়েছে৷ পরবর্তী কালে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর ফের মন্দিরটির সংস্কার করা হয়৷ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঢোকার সময়েই আপনাকে স্বাগত জানাবে একটি রাজফটক। রাজদরবারের মতো উঁচু আর প্রশস্ত ফটকটি মনে হবে যেন দুই হাত বাড়িয়ে আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। ঢোকার পরেই হাতের ডানদিকে পাবেন ঢাকেশ্বরীর মূল মন্দির। এই মন্দিরের মূল ফটক দুটি।

তবে সাধারণত বেশির ভাগ মানুষ মাঝখানের গেটটি দিয়েই মন্দিরে প্রবেশ করে। গেটটি দিয়ে প্রবেশ করলেই আপনি পা রাখবেন নাটমন্দিরে। নাটমন্দিরের সোজাসুজি দেখতে পাবেন দুর্গা দেবীর প্রতিমা। নানা রকম অলংকারে সুসজ্জিত প্রতিমা আর দেবীর মুখ দেখলে নিমেষেই মুক্তি পেয়ে যাবেন সব মানসিক চাপ থেকে আর পাবেন সব বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার আত্মবিশ্বাস।ঢাকেশ্বরীর সৌন্দর্যে অন্য মাত্রা যোগ করেছে ঢাকেশ্বরীর পুকুর। পরিচ্ছন্ন এই পুকুরটিতে দর্শনার্থী বা ভক্তরা ভোগ দিয়ে থাকেন। পুকুরটির চারপাশ বাঁধাই করা। পুকুরে ছোট-বড় কিছু মাছও রয়েছে। 

কীভাবে যাবেন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর থেকে রিকশা, বাস অথবা সিএনজি যেকোনো একটাতে চড়েই যেতে পারেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মিরপুর থেকে বিকল্প বা সেফটি পরিবহনে করে সরাসরি যেতে পারবেন ঢাকেশ্বরীতে। তা ছাড়া মতিঝিল থেকেও যেতে পারবেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। ভাড়া ২৫ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া যাঁরা শাহবাগ, গুলিস্তান এসব জায়গা থেকে যাবেন, তাঁরা রিকশায় করেই যেতে পারেন। ভাড়া দরদাম করে নেওয়াই ভালো।