পাচারের আগেই ৫৭ লাখ টাকার সোনার বিস্কুট সহ গ্রেফতার এক

পাচারের আগেই  ৫৭ লাখ টাকার সোনার বিস্কুট  সহ গ্রেফতার এক

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের জওয়ানরা চোরাচালানকারীদের সবরকম চেষ্টা ভেস্তে দিচ্ছেন। কার্যত চোরাচালানকারীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে বিএসএফ। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ জওয়ানরা কড়া হাতে চোরাচালান দমন করছেন। পাচারকারীদের পরিকল্পনা ক্রমাগত বানচাল করে দিচ্ছেন । আজ জওয়ানরা ১০ টি সোনার বিস্কুট সহ এক চোরাচালানকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন।

আটক করা সোনার বিস্কুটের ওজন ১ কেজি ২৪১ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ৫৭ লাখ ১২ হাজার ৮১৯ টাকা। ধৃত ব্যক্তি ওই সোনার বিস্কুটগুলি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে আসছিল। আজ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে, সীমান্ত চৌকি হাকিমপুর, ১১২ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে একটি অভিযান চালান। বেলা আনুমানিক ০৩ টে ৩৫ মিনিটের দিকে, জওয়ানরা হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে এক সন্দেহজনক মোটরসাইকেল চালককে আসতে দেখে, যে হাকিমপুর থেকে বিথারী বাজারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

প্রাপ্ত পূর্ব সূচনা অনুসারে বিএসএফ জওয়ানরা তাকে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি করতে চাইলে পাচারকারী পালানোর চেষ্টা করে। সতর্ক জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলেন । বিএসএফ জওয়ানরা তল্লাশি করলে তার মোটরসাইকেলের চেসিস ফ্রেম থেকে ১০ টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়। জওয়ানরা শীঘ্রই সোনার বিস্কুটগুলি বাজেয়াপ্ত করে এবং চোরাচালানকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। ধৃত চোরাচালানকারীর নাম কাজি আসিফ ইকবাল। বয়স ৫০ বছর।

ধৃত ব্যক্তি উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত চোরাচালানকারী কাজিম আসিফ ইকবাল জানায়, সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং গত কয়েকদিন ধরে চোরাচালানের কাজ করছে। আজ সকালে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এক বাংলাদেশি চোরাচালানকারী আশাদুল সরদার তাকে ১০ টি সোনার বিস্কুট দিয়েছিল যা কলকাতার মহাত্মা গান্ধী রোডে অভিজিত্‍ নামে একজনের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। এই কাজের জন্য সে এক হাজার টাকা পেত ।

ধৃত ব্যক্তি আরও বলে যে সে বিএসএফের নজর থেকে আড়াল করার জন্য মোটরসাইকেলের চেসিস ফ্রেমে লুকিয়ে এই সমস্ত বিস্কুট বহন করছিল। কিন্তু হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ডিউটি ​​লাইন অতিক্রম করার সময় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক জওয়ানরা তাকে সোনার বিস্কুট সহ ধরে ফেলে । ধৃত চোরাচালানকারী এবং আটক করা সোনার বিস্কুটগুলি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তেঁতুলিয়ার কাস্টমস অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক ১১২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের সাফল্যের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে এটি কেবলমাত্র কর্তব্যরত জওয়ানদের সতর্কতার কারণে সম্ভব হয়েছে। অফিসার স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তাঁর জওয়ানদের নজর থেকে কিছুই লুকানো যাবে না। তিনি আরও বলেছেন যে চোরাচালান সম্পর্কিত সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য তার একটি দুর্দান্ত দলও রয়েছে।