জোটে আব্বাস সিদ্দিকিকে চেয়ে সনিয়া গাঁধীকে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান

জোটে আব্বাস সিদ্দিকিকে চেয়ে সনিয়া গাঁধীকে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান

এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হতে চলেছে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। রাজ্য জুড়ে এমন বাতাবরণই দেখা যাচ্ছে। বাম-কংগ্রেস জোটে আব্বাস সিদ্দিকিকে চেয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে চিঠি দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। বৃহস্পতিবার ওই চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

দলনেত্রীকে চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মান্নান বলেন, ''সম্প্রতি আব্বাস একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট দু'পক্ষই তাঁকে জোটে পেতে আগ্রহী। নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও হচ্ছে। কিন্তু তাঁকে যাতে জোটে আনা যায় সে ব্যাপারে সভানেত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেই আমি চিঠিটি পাঠিয়েছি।'' গত ২১ জানুয়ারি 'ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট' নামে একটি রাজনৈতিক দল গড়েন আব্বাস।

সেই দলের সঙ্গে কংগ্রেস ও বাম নেতাদের জোট নিয়ে আলোচনাও চলছে। ইতিমধ্যে কংগ্রেস ও বাম— দু'পক্ষের মধ্যে ১৯৩টি আসন নিয়ে রফা করে হয়েছে। বামফ্রন্ট ১০১ এবং কংগ্রেস ৯২টি আসনে প্রার্থী দেবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি এখন মাত্র ১০১টি আসন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা হলে কি বাকি ১০১টির মধ্যেই আসন দেওয়া হবে ফুরফুরা শরিফের 'ভাইজান'কে?

 সকলেই জানেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল করেছেন। সেই দলের সঙ্গে জোট চাইছে বাম এবং কংগ্রেস দুই পক্ষই। সেক্ষেত্রে বাম, কংগ্রেসের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট আরো বেশি করে আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে তাঁরা মনে করছেন। যদিও আব্বাসের দলকে কোনো ধর্মীয় তকমা দিতে চান না তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান।

অন্য দিকে, বাম-কংগ্রেসকে জোট নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আব্বাস। আগামী রবিবার জোট চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে তারা। এই অবস্থায় সনিয়াকে চিঠি লিখে আব্বাসের সঙ্গে জোটের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন মান্নান। তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের ৯০ শতাংশই বাংলা ভাষায় কথা বলেন।

তাঁদের মধ্যে আব্বাসের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। ফুরফুরা শরিফের একটি নামজাদা পরিবারের সদস্য তিনি। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নামে রাজনৈতিক দল গড়ে সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনজাতি, আদিবাসী তথা দলিতদের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাই বাম-কংগ্রেস জোটে আব্বাসকে যোগ করতে পারলে, লাভবান হবে সব পক্ষই।

চিঠির শেষাংশে মান্নান লিখেছেন, 'বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট তৈরি করতে এআইসিসি-র অনুমোদন প্রয়োজন। তাই দ্রুত তাঁর সঙ্গে যাবতীয় বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিক এআইসিসি'। বাম-কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আব্বাসের সঙ্গে আসন রফার বিষয়ে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমকে।