পেন তৈরির ব্যবসা

পেন তৈরির ব্যবসা

একটি কলম সব সময় কাজে লাগা জিনিসগুলির মধ্যে একটি। বাড়ি থেকে স্কুল এবং স্কুল থেকে অফিস সর্বত্র এটির প্রয়োজন। খুব অল্প টাকায় এর ব্যবসা শুরু করা যায়। বিশেষ করে বল কলমের ব্যবহার সর্বস্তরের মানুষের কাছে খুবই পছন্দের। একটি বল পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এর লেখা দ্রুত শুকিয়ে যায়। বল পেন শিল্প বা ব্যাবসা খুব সহজেই আপনার বাড়িতে শুরু করা যেতে পারে। 

এত অল্প টাকার ব্যবসা যা থেকে আপনি প্রতিমাসে 50 হাজার টাকা চোখ বুজিয়ে ইনকাম করতে পারেন। এর থেকে অল্প টাকার ব্যবসা হয়তো আপনি খুঁজলেও পাবেনা। আর এই ব্যবসার নি সারা বছর করতে পারবেন তাই আর বেশি দেরি না করে এই ব্যবসার শুরু করুন এবং আপনার জীবনের চাবিকাঠি আপনি নিজেই বদলে দিন। 

কলম তৈরি করতে গেলে আপনার কি কাঁচামাল গুলো লাগছে সেটা হলো- পেনের ব্যারেল (প্লাস্টিকের পেনের অংশটা), এডাপ্টার, বলপেন নিভ, বলপেনের ক্যাপ। আর কালি ( কালো, নীল, লাল যেকোনো রঙের হতে পারে)।  মাত্র 10 হাজার টাকা খরচ করে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কারণ এই ব্যবসা শুরু করলে আপনার যে মেশিন এবং কাঁচামাল গুলো কিনতে হবে সমস্ত কিছু জিনিসই আপনি 10 থেকে 12 হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। 

এত অল্প টাকার ব্যবসা যা থেকে আপনি প্রতিমাসে 50 হাজার টাকা চোখ বুজিয়ে ইনকাম করতে পারেন। এর থেকে অল্প টাকার ব্যবসা হয়তো আপনি খুঁজলেও পাবেনা। আর এই ব্যবসার নি সারা বছর করতে পারবেন তাই আর বেশি দেরি না করে এই ব্যবসার শুরু করুন এবং আপনার জীবনের চাবিকাঠি আপনি নিজেই বদলে দিন।

পেন বানানোর পাঁচ প্রকার মেশিন হয়।

এডাপ্টার ফিক্সিং মেশিন- এডাপ্টার নিয়ে এই মেশিনে দেওয়ার পর পেনের ব্যারেল ফিট করতে হয়। তারপর প্রেস করলে অটোমেটিক এডাপ্টার টা পেনের ব্যারেল সঙ্গে জুড়ে যায়।

ইঙ্ক ফিলিং মেশিন(কালি ভরানোর মেশিন) – এই মেশিনে অটোমেটিকালি সেট করা থাকে, তাই পেনটা নিয়ে সেট করে চাপ দিলেই পেনের ভেতরে একটা নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত কালি ভর্তি হয়ে যায়।

 নিভ ফিক্সিং মেশিন- কালি পড়ানো হয়ে গেলে এই মেশিনে একটা নিভ সেট করে পেনটা দিয়ে চাপ দিলেই নিভটা পেন এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় তারপর দেখতে লাগে পুরো পেন এর মতনই।

সেন্টারিং মেশিন- পেনের নিভ সেট হয়ে গেলেও নিভের ভেতরে কালি আসে না তাই জন্য এই মেশিনের ভেতরে পেনটা দিয়ে ইলেকট্রিক চালিয়ে দিলেই পেনটা ঘুরতে থাকে এবং সাথে সাথে পেনের মুখে সামনে কালি চলে আসে যা লেখার জন্য উপযুক্ত হয়।

ব্র্যান্ড নেম প্রিন্টিং মেশিন- সব কাজ হয়ে গেলে আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ড নেম প্রিন্টিং মেশিনের ভিতরে প্রিন্টার দিয়ে যে কালারের প্লাস্টিক দেয়া আছে সেই অনুযায়ী হিট দিলেই আপনার ব্র্যান্ডের নামটা পেনের গায়ে প্রিন্ট হয়ে যায় এবং পেনটা রেডি হয়ে যায় মার্কেটে বিক্রি করার জন্য।

এই ব্যবসা যদি আপনি করতে চান তাহলে আপনার খুব বেশী বড় জায়গার প্রয়োজন হবে না, যদি আপনি একা নিজে থেকে ব্যবসা করেন তাহলে আপনার 10/12 ফুটের এক কামরা ঘর হলেই এই ব্যবসা আপনি নিঃসন্দেহে করতে পারবেন। আর আপনি যদি এই রকম অনেকগুলো মেশিন কিনে কমার্শিয়ালি ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনার আরও বড় জায়গার প্রয়োজন। যেখানে অনেক কর্মচারী কাজ করবে এবং তারা মেশিনে পেন তৈরি করবে।

 পিন তৈরির ব্যবসায়ী আপনি যদি নিজে প্রথম আঁকা শুরু করেন তাহলে আপনার একটা ট্রেড লাইসেন্স হলেই যথেষ্ট। এই ট্রেড লাইসেন্স আপনি আপনার নিকটবর্তী সরকারি অফিস অর্থাৎ পঞ্চায়েত কিংবা শহরের কর্পোরেশন অফিস থেকে পেয়ে যাবেন। মাসে 50000 টাকার অধিক যখন আপনি ইনকাম করা শুরু করবেন তখন আপনি আপনার কোম্পানির নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নেবেন। আর মাসে যখন আপনার দুই থেকে চার লক্ষ টাকা ইনকাম হবে তখন আপনাকে GST জন্য এপ্লাই করতে হতে পারে। 

 টীম তৈরি হয়ে গেলে আপনি আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ডের নামের কোন প্লাস্টিক তৈরি করতে পারেন, তার ভেতরে আপনি দশটা করে পেন ভরে ফেলতে পারেন আবার আপনি চাইলে আরও একটা এক্সট্রাফেন বেশি দিতে পারেন যাতে আপনার মার্কেটিং করতে বেশি সুবিধা হয়। কাগজের সুন্দর ডিজাইনের প্যাকেট তৈরি করা যায় যা আপনি আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ডের নামে তৈরি করতে পারেন যার ভেতরে পেনটা ভরবেন। মনে রাখবেন যত সুন্দর দেখতে লাগবে আপনার প্যাকেটিং এবং আপনার পেন গুলোকে ততো বেশি মার্কেটে বিক্রি হবে কারন এখনকার দিনে যেটা যত বেশি সুন্দর দেখতে সেটারই বেশি সেল হয়।

 স্কুল-কলেজ ,কোচিং সেন্টার এই সমস্ত অঞ্চলের যে সকল দোকান আছে বিশেষত বই দোকান সেইসব দোকানগুলোতে আপনি আপনার পেন বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া কিছু হোলসেলার থাকে যারা আপনার কাছ থেকে পেন কিনে নিয়ে গিয়ে নিজেই মার্কেটিং করবে তাই সেই সমস্ত হোলসেলার এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদেরকে আপনার পেন গুলো দিন। আপনার প্যাকেটের ভিতরে দশটা পেন আছে কিন্তু আপনি যেহেতু এক্সট্রা একটা কিংবা দুটো পেন দিচ্ছেন , তার জন্য যেকোনো দোকানদারকে আপনার কাছ থেকে পেন কিনবে আপনি দশটা পেনের দাম দেবেন।