বিমানে উঠতে হুড়োহুড়ি| প্রাণে বাঁচতে দেশ ছাড়ার হিড়িক আফগানদের মধ্যে

বিমানে উঠতে হুড়োহুড়ি|  প্রাণে বাঁচতে দেশ ছাড়ার হিড়িক আফগানদের মধ্যে

 প্রাণে বাঁচতে তাই দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে আফগানদের মধ্যে। কাবুল বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। একে অপরকে ঠেলে ফেলে যে ভাবেই হোক বিমানে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কাবুল বিমানবন্দর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এমনই ভিডিয়ো নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তর হতই। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তা হয়ত কল্পনাতেও ভাবেননি কেউ। অপ্রতিরোধ্য তালিবান বাহিনীকে রোখা যায়নি। ২০ বছর পরে রবিবারই আফগানিস্তানের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে তালিবান বাহিনী।

দখল নিয়েছে কাবুলের। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আসরফ গনি। কাবুলের দখল নেওয়ার পরে ইতিমধ্যেই প্রায় সব সরকারি ভবন খালি হয়ে গিয়েছে। সেই সব ভবনের মাথায় উড়ছে তালিবানের পতাকা। গোটা শহর জুড়ে ক্ষমতা বদলের ছবি স্পষ্ট। বিভিন্ন প্রদেশ ছেড়ে রাজধানীতে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার মানুষ এখন কার্যত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দেশ ছেড়ে পালাবার হিড়িক পড়ে গেছে। সেই ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছে কাবুল বিমানবন্দরে। বিমান ধরতে শয়ে শয়ে মানুষের হুড়োহুড়ি ভিড়।

তল্পিতল্পা গুটিয়ে বিমানবন্দরে বাইরে কাবুলের বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। শনিবারই খবরটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। কাবুলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে তালিবান বাহিনী। একের পর এক জেলের দরজা খুলে দিচ্ছে তালিবানরা। জঙ্গিরা মুক্ত হয়ে শহরে ঢোকার চেষ্টা করছে। অস্ত্র হাতে রাস্তায় রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তালিবান সেনা। প্রাণভয়ে পালাবার চেষ্টা করছেন মহিলা, শিশু থেকে পুরুষ। কাবুলে তালিবান বাহিনী পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করার পরেই দেশ ছেড়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালাবার ধুম পড়ে গেছে। কালই দেখা গেছে, পাসপোর্ট অফিসের সামনে হুড়োহুড়ি ভিড়। সারারাত ধরে লাইন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে অনেককে।

পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরা বলছেন. আগে প্রতিদিন পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ত ২ হাজার, তা এখন ৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার। সকালে উঠেই কেউ সপরিবারে গিয়েছেন বিমানবন্দরে। ব্যাঙ্কের সামনে লম্বা লাইন। নিজেদের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্য কাবুল বিমানবন্দরে একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে এনেছে। এক ঝলক দেখলে বিমানবন্দর বলে বোঝা যাবে না। মনে হবে কোনও ভিড় বাসস্ট্যান্ডের ছবি। এমন গাদাগাদি ভিড় সাধারণত কোনও বিমানবন্দরে দেখা যায় না।

পড়িমড়ি করে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছেন মানুষজন। শিশুদের বুকে আঁকড়ে বিমানে ওঠার সিঁড়ি থেকে প্রায় ঝুলছেন মহিলারা। প্রাণভয়ে কে কত তাড়াতাড়ি দেশ ছাড়বেন সেই চেষ্টা চলছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরে যে'কটা আন্তর্জাতিক বিমান দাঁড়িয়ে আছে, তার সবকটির সামনে ঠাসাঠাসি ভিড়। বিমানে ওঠার জন্য হমড়ি খেয়ে পড়েছেন সকলে। দিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিবান আধিপত্য থেকে বাঁচতে আফগানিস্তানের সরকারি আধিকারিকরাই গা ঢাকা দিতে শুরু করেছেন।

অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে কাবুল, কন্দহর, মাজার-ই-শরিফ-এর মতো শহর থেকে নিরাপত্তাবাহিনী-সহ সমস্ত আধিকারিক ও কর্মীকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কী ভাবে উদ্ধারকার্য চালানো হবে, তার পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তবে শুধু ভারতই নয়, অন্য দেশের তরফেও নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তত্‍পরতা শুরু হয়েছে। আমেরিকা ও ব্রিটেনও তাদের দূতাবাস থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। সূত্রের খবর, আমেরিকা ৩০০০ ট্রুপ পাঠাচ্ছে কাবুলে, সেখানকার দূতাবাস থেকে নিজেদের দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করার জন্য। ব্রিটেনও ৬০০ জনের দল পাঠাচ্ছে তাদের দূতাবাস খালি করার জন্য।