ভুয়ো IAS দেবাঞ্জনের সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের ছবি

ভুয়ো IAS দেবাঞ্জনের সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের ছবি

কলকাতার কসবায় ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্প চালানোয় অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের মতলব নিয়ে এখনো আঁধারে তদন্তকারীরা। কলকাতা লাগোয়া আনন্দপুরের মাদুরদহের ২১৮ নম্বর হোসেনপুরের বাসিন্দা ২৮ বছরের দেবাঞ্জন। ভুয়ো ক্যাম্প চালানোর অভিযোগে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৪ বছর ধরে নিজেকে IAS বলে দাবি করে ঘুরে বেড়াতেন দেবাঞ্জন। ১০-১২ জন কর্মী রেখেছিলেন তিনি। তাঁদের ২৫ হাজার টাকা করে বেতন দিতেন।

ছিল তাঁর নিজের নিরাপত্তারক্ষী। সব মিলিয়ে মাসে খরচ কয়েক লক্ষ। এত টাকা তিনি কোথা থেকে পেতেন তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের অনুমান, দেবাঞ্জনের মাথার ওপর বড় কারও হাত রয়েছে। অভিযোগে ধৃত ভুয়ো IAS আধিকারিক দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে ছবি দেখা গেল রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও তৃণমূলের নামজাদা নেতাদের।

নিজেই সেই ছবি টুইট করেছিলেন দেবাঞ্জন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতা পরিবেষ্ঠিত হয়ে বসে রয়েছেন তিনি। কী ভাবে নেতা-মন্ত্রীদের কাছাকাছি তিনি পৌঁছলেন, উঠছে সেই প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ঘটনায় তৃণমূলের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে বলে দাবি করে বলেন, ‘সবাই সব জানত। এতদিন অন্যান্য জিনিসের সিন্ডিকেট চলতো। এখন ভ্যাক্সিনের সিন্ডিকেট চলছে। রাজ্যে ভ্যাকসিনের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা হচ্ছে কেন? তৃণমূল যেখানে আয়োজন করবে সেখান থেকেই টিকা নিতে হবে।

হাজার টাকা করে দিতে হবে ভ্যাকসিন পিছু। এর মধ্যে নেতা-এমএলএ এমপি, সবার হাত যুক্ত আছে। সবার চোখের সামনে এতদিন ধরে ভুয়ো শিবির চলছে প্রশাসন কিছু জানেই না? এই ঘটনা সাজানো। তৃণমূলের লোকই যুক্ত আছে টিকার কালোবাজারিতে।’ ওদিকে টুইটার থেকে প্রকাশ্যে এসেছে ধৃত দেবাঞ্জনের সঙ্গে তৃণমূলের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যা। প্রাক্তন মন্ত্রী তাপস রায় ও জোড়াসাঁকোর বিধায়ক স্মিতা বক্সির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

গত বছর ৩ ডিসেম্বর নিজেই সেই ছবি টুইট করেছিলেন দেবাঞ্জন। তদন্তে উঠে আসছে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চক্র চালাত দেবাঞ্জন। সেই চক্রে যুক্ত ছিলেন INTTUC-র একাধিক নেতা। বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া এতদিন ধরে এই ধরণের ভুয়ো কারবার চালানো অসম্ভব। সঠিক তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ্যে আসবে।