মাত্র ২০ দিন সংসার করেছে পিঙ্কি, চিন্তায় কাঞ্চনের দিদিশাশুড়ি সাবিত্রী

মাত্র ২০ দিন সংসার করেছে পিঙ্কি,  চিন্তায় কাঞ্চনের দিদিশাশুড়ি সাবিত্রী

টলিউডে আপাতত জোর চর্চা কাঞ্চন মল্লিক-পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়-শ্রীময়ী চট্টরাজকে নিয়ে। খবর, বধূ নির্যাতনের অভিযোগ এনে শনিবারেই নিউ আলিপুর থানায় স্বামী কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন পিঙ্কি। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন পিঙ্কির সম্পর্কিত ঠাকুমা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও।কিংবদন্তি অভিনেত্রীর দাবি, ‘‘কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে কিছুই জানি না। তবে পিঙ্কিকে নিয়ে আমার বেশ চিন্তা হচ্ছে।’’ সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় পিঙ্কির বাবার মাসি।

সেই সূত্রে তিনি কাঞ্চনের দিদিশাশুড়ি। তাঁর কথায়, ‘‘পিঙ্কিকে খুঁজতে কাঞ্চন আমার কাছেও এসেছিল। যদিও সেই সময় পিঙ্কি নিউ আলিপুরে ছিল না।’’ অভিনেত্রীর বক্তব্য, পিঙ্কির ছোটবেলার বেশির ভাগ সময় কেটেছে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর কাছেই পিঙ্কি বড় হয়েছেন। বিয়ের পর কাঞ্চনও অনেকবার এসেছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সময়ও কাটিয়ে গিয়েছেন।

তাঁর মতে, কাঞ্চনের কথাবার্তা এক বারের জন্যেও তাঁর খারাপ লাগেনি। নাতজামাই হিসেবে তিনি পছন্দ করতেন বিধায়ক-অভিনেতাকে। কোনও দিন কোনও গুজবও শোনেননি কাঞ্চনের নামে।নাতনিকে ঠাকুমা হিসেবে তিনি কি কোনও পরামর্শ দেবেন? প্রবীণ অভিনেত্রীর ক্ষুব্ধ জবাব, ‘‘মুখ না খুলেই কাঞ্চনের চোখে আমরা দোষী। ওর ধারণা, আমরা নাকি সংবাদমাধ্যমের কাছে কাঞ্চনের নামে মিথ্যে অপবাদ রটিয়েছি। এখন কিছু বলতে গেলে আরও দোষের ভাগীদার হব। আমি তাই কাউকেই কিছু বলব না।’’ পিঙ্কি জানিয়েছেন, গোটা ঘটনা জানার পরেই ঠাকুমা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সেই খবর পেয়ে তিনি এবং তাঁর দাদা শনিবারেই দেখা করতে যান নিউ আলিপুরে, ঠাকুমার বাড়িতে। প্রবীণ অভিনেত্রীর কাছে জানতে পারেন, তাঁর খোঁজে শ্রীময়ীকে নিয়ে কাঞ্চন এসেছিলেন নিউ আলিপুরে। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় সেই সময় কাঞ্চনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, পিঙ্কি এখনই কথা বলতে না চাইলে কাঞ্চনের অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কাঞ্চন নাকি সে কথা মানতে চাননি। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক বলেন গত এক সপ্তাহ ধরে সাংবাদমাধ্যমে চোখ রাখতে পারছি না।

নোংরামি, কাদা ছোড়াছুড়ির জঘন্যতম পর্যায় চলছে। আমি চুপচাপ দেখে গিয়েছি। জলঘোলা করতে চাইনি। কিন্তু আমি না চাইলে কী হবে! পিঙ্কি চেয়েছে। আর চেয়েছে বলেই সংবাদমাধ্যমে যা ইচ্ছে বলে যাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। আমার সঙ্গে শ্রীময়ী চট্টরাজকে জড়িয়ে। এই পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি চিনি না। যাঁকে আমি ৯ বছর আগে বিয়ে করেছিলাম। এবং যে মানুষ আমার ৮ বছরের একমাত্র ছেলের মা! কেন এ রকম করছে পিঙ্কি? জানি না। তবে ওর ব্যবহার দেখে একটা প্রশ্ন বার বার উঠে আসছে, এত দিন পরে কেন মুখ খুলল পিঙ্কি?

কেন আরও আগে নয়? কেন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিককে নিয়ে হঠাৎ ওর এত ক্ষোভ? অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিককে নিয়ে তো কোনও দিন টুঁ শব্দ করেনি! কেন করেনি? অনেকেই পাল্টা জানতে চাইছেন, এটা কি তা হলে উদ্দেশ্য প্রণোদিত? পুরোটাই রাজনৈতিক চক্রান্ত? আমি বলব, আমি জানি না। তবে এ বার আমারও কিছু বলার আছে। আপনারা কেউ জানেন, বিয়ের পরে মাত্র ২০ দিন সংসার করে পিঙ্কি বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছেন?

কেন গিয়েছেন? আমার মায়ের সঙ্গে নাকি থাকা যায় না! আমি মেনে নিয়েছি। আমার মা এর পর গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ২ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন। একটা সময় চির বিদায় নিয়েছেন। গত বছর আমার বাবাও চলে গিয়েছেন। পিঙ্কিকে কিন্তু পাশে পাইনি। তাই নিয়েও আমার কোনও অভিযোগ নেই। আমি কোনও দিন মুখও খুলিনি এই নিয়ে কোথাও। তাই আজ এক তরফা পিঙ্কির কথা শুনে অনেকেই আমায় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।