উত্তরাখণ্ডের দর্শনীয় স্থান

উত্তরাখণ্ডের দর্শনীয় স্থান

ভারতের উত্তরে অবস্থিত পাহাড়ী রাজ্য Uttarakhand উত্তরাখণ্ড, পূর্বে উত্তরাঞ্চল নামে পরিচিত ছিল। হিমালয়ের প্রান্তে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড, চীন (তিব্বত) ও নেপালের সাথে তার সীমানা ভাগ করে নিয়েছে। এই রাজ্যের উত্তর পশ্চিমে হিমাচল প্রদেশ এবং তার দক্ষিণ দিকে উত্তর প্রদেশ অবস্থিত। উত্তরাখণ্ড সারা পৃথিবীর পর্যটকদের আকর্ষন করে। উত্তরাখণ্ডে অনেক পর্যটন গন্তব্যস্থল আছে, তাদের বেশিরভাগই নয়নাভিরাম।

রাজ্যটি কূমায়ুন ও গড়বাল-এই দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, এই অঞ্চলে প্রচুর পর্যটনস্থল রয়েছে।  পর্যটনের স্বর্গরাজ্য উত্তরাখণ্ড। দেশি বিদেশি পর্যটকে সবসময় ভর্তি থাকে উত্তর ভারতের এই অপূর্ব সুন্দর রাজ্যটি। অনেকেই দিল্লি ভ্রমণ করে উত্তরাখণ্ডের উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ আবার উত্তরপ্রদেশ হযে চলে যান উত্তরাখণ্ডে।

নৈনিতাল, হরিদ্বার, হৃষিকেশ, দেহরাদুন, চম্বা, মুসৌরি, জিম কর্বেট অভয়ারণ্য, গঙ্গা নদী, পাহাড়, জঙ্গল সব মিলিয়ে উত্তরাখণ্ড যেন এক রূপকথার রাজ্য। নানা স্থানে গাড়ি চড়ে ঘুরুন কিংবা ট্রেক করুন সেটা আপনার ইচ্ছে। একবারে সম্ভব নয় বলে ভাগে ভাগে প্ল্যান করে ঘুরতে পারেন উত্তরাখণ্ড। তবে হ্যাঁ, সেরাজ্যে গেলে এই জায়গাগুলি কিন্তু ভুলেও বাদ দেবেন না। দিলে নিজেই ঠকবেন। 

উত্তরাখণ্ডের পরিদর্শনমূলক শহরগুলঃ- ০১) দেরাদুন। ০২) মুসৌরি। ০৩) নৈনিতাল। ০৪) রানিখেত। ০৫) ধনৌলটি। ০৬) আউলি। ০৭) হরিদ্বার। ০৮) ঋষিকেশ। ০৯) কেদারনাথ। ১০) গঙ্গোত্রী। ১১) উত্তরকাশী। ১২) চামোলি। ১৩) পিথোরাগর। ১৪) ভীমতাল। ১৫) আলমোড়া।  

জিম করবেট  দেশের সবচেয়ে প্রাচীন অভয়ারণ্য উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যান। এটি অভয়ারণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৬ সালে। অভয়ারণ্যে প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্যে ছিল বিপন্ন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা। প্রথমে ব্যাঘ্র প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও পরে উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল এবং পৌড়ি গাড়োয়ালে অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যানে পরিণত হয়। নামকরণ হয় বিখ্যাত শিকারী এবং প্রকৃতিপ্রেমী জেমস্ এডওয়ার্ড করবেটের নামে। এটি দেশের ইকোট্যুরিজমের অন্তর্গত।

এখানে প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছপালা এবং প্রাণী আছে। পর্যটকদের জন্য যাবতীয় সুব্যবস্থা রয়েছে এই অরণ্যে। প্রতি বছর এখানে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রায় ৫২০.৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে পাহাড়, নদী, জলাভূমি, তৃণভূমি এবং একটি বিশাল হ্রদ। সমুদ্রতল থেকে এখানকার গড় উচ্চতা ১,৩০০ থেকে ৪,০০০ ফিট। শীতকালে এই জাতীয় উদ্যান ঘোরার আনন্দই আলাদা। রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা আর দিনের উজ্জ্বল রোদ গায়ে মেখে জঙ্গল ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতাই আলাদা। এখানে বিভিন্ন প্যাকেজের জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা আছে। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ সাদা কুমীর। এছাড়াও বাঘ, হাতি ইত্যাদির দেখা মেলে।

​হৃষিকেশ   হৃষিকেশ নামটা শুনলেই মনে হয় বয়স্ক মানুষদের তীর্থ ক্ষেত্রে। কিন্তু সেখানে যে বন্ধুবান্ধব নিয়ে হইচই করা যায় তা জানেন কি? এখানে বন্ধুদের সঙ্গে রিভার রাফটিং সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেখানে গেলে প্রতিযোগী দলও পেয়ে যাবেন। নিজের বন্ধুদের গ্যাং-এর সঙ্গে অপরিচিত গ্যাং-এর নৌকা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে নিজের অজান্তে। নদীর ধারে বোনফায়ারের আনন্দেরও কোনও তুলনা হয় না। চাইলে তাঁবুতেও থাকতে পারেন।

রিভার রাফটিং ছাড়াও ক্যাম্পেইনিং, বাঞ্জি জাম্পিং সহ একাধিক অ্যাভেঞ্চার গেম রয়েছে হৃষিকেশে। এছাড়াও হৃষিকেশকে বলা হয় যোগের রাজধানী। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এখানে আসেন যোগ এবং ধ্যান করার উদ্দেশ্যে। গঙ্গা নদীর ঊর্ধ্ব গতির খরস্রোত দেখে মুগ্ধ হবেন। পাহাড় চিড়ে গঙ্গার নেমে আসার দৃশ্যও অসাধারণ। হৃষিকেশ ঘোরার সেরা সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এবং অক্টোবর ও নভেম্বর মাস। ​

চোপতা  বিশ্বের উচ্চতম শিব মন্দির টুঙ্গনাথ রয়েছে এই চোপতা-তে। তীর্থক্ষেত্র হলেও হিমালয় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত চোপতা অসম্ভব শান্ত একটি গ্রাম। পাহাড়ে ঘেরা গ্রামটির চারদিক সবুজে সবুজ। নিরিবিলি যাঁরা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য আদর্শ স্থান এটি। পায়ে হেঁটে এলাকা ঘুরতে দারুণ মজা লাগে। শীতকালে এখানে বরফ পড়ে। সব মিলিয়ে অবসর যাপনের একটি আদর্শ স্থান এটি। ​

আউলি     শীতকালের সেরা পর্যটন ক্ষেত্র হতে পারে আউলি। ওক গাছে ঘেরা এই স্থানে জঙ্গলগুলি অনেকটা শঙ্কু আকৃতির। আসলে জঙ্গল গড়ে উঠেছে পাহাড়ের গায়ে। আর পাহাড়ের আকারের কারণ অরণ্যের আকৃতি উপরের দিকে সরু এবং নীচের দিকে মোটা। শীতে আউলি বরফের চাদরে ঢাকা থাকে। আউলি থেকে মানা পর্বত, মাউন্ট নন্দাদেবী এবং নর পর্বতের ঝলক দেখতে পাওয়া যায়। আউলিতে আছে মিষ্টি জলের একটি গভীর হ্রদ। নাম ছত্রকুণ্ড। আর আছে ট্রেকিং করার সেরা জায়গা কুমারী পাস। শীতে চারদিকে শুধু বরফ আর বরফ। তবে শুধু শীতেই নয় গরমকালেও আউলি ঘোরা যায় আরামসে। এখানে গেলে জ্যোতির্মঠ, নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যান দেখতে ভুলবেন না যেন।

​মুসৌরি   মুসৌরি এমনিতেই সুন্দরী। শীতে তার রূপ যেন আর খোলসা হয়ে যায়। প্রধানত গরম এবং শীতকালেই এখানেই পর্যটকরা ভিড় জমান। যাঁরা গরমে দু দণ্ড শান্তি চান তাঁরা গ্রীষ্মকালে এখানে যেতে পারেন। আর যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন তাঁরা যেতে পারেন শীতকালে। এই সময় পাহাড়গুলিতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়া আর কেউ জানেন না। অবকাশ যাপনের জন্য এটি আদর্শ স্থান। হোটেলের বারান্দায় বসে কফিতে চুমুক দিতে দিতে প্রকৃতির শোভা দেখার আনন্দই আলাদা।

এছাড়া বেড়াতে যেতে পারেন নহাতা এস্টেট, গানহিল, কেম্পটি জলপ্রপাত মিস্ট (কুয়াশা) হ্রদ, মুসৌরি হ্রদ, ভট্ট জলপ্রপাত, ঝরিপানি জলপ্রপাত, নাগ দেবতার মন্দির, জ্বালাদেবী মন্দির (বেনোগ পর্বত), বেনোগ অভয়ারণ্য। বেনোগ অভয়ারণ্যে আছে একটি প্রাচীন দেবদারু গাছ এবং পাইন গাছের সারি। প্রচুর ওষধি গাছের চাষ হয় এখানে। তাই এখানে রয়েছে একটি আঞ্চলিক গবেষণার কেন্দ্র। অভয়ারণ্যটিতে রয়েছে হোয়াইট ক্যাপ্ড ওয়াটার রেডস্টার্ট, রেড বিল্ড ব্লু ম্যাগপাই, চিতা, হরিণ, ভাল্লুক এবং হিমালয়ান ছাগল।

মুসৌরি দেরাদুন থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরত্বে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৩০৩ মিটার উচ্চতায় গড়বাল পাহাড়ে অবস্থিত। ভারতের একটি চিত্তাকর্ষক শৈল শহর হল মুসৌরি। মুসৌরির গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থল নিচে দেওয়া হল :

 গুনা হিল এটি মুসৌরির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। গুনা পর্বত হিমালয় শৈল শ্রেণীর বুন্দেরপুঞ্চ, পিথবারা শ্রীকান্তা এবং গঙ্গোত্রীর একটি সুন্দর দৃশ্য প্রদান করে থাকে। এটি মুসৌরি শহর এবং দূন উপত্যকার একটি পক্ষীসুলভ দৃশ্য দেখার প্রস্তাব দেয়।

মিউনিসিপাল গার্ডেন    মিউনিসিপাল গার্ডেন একটি বিস্ময়কর পিকনিক স্থল, এখানে একটি সুন্দর বাগান এবং একটি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে যেখানে নৌকাচালনের সুবিধাও পাওয়া যায়। * চিলডারস লজ এটি লাল টিব্বার কাছাকাছি মুসৌরির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এটি পর্যটন অফিস থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই স্থান থেকে আকর্ষনীয় তুষারপাতের দৃশ্য দর্শন করা যেতে পারে।

 ক্যামেল’স ব্যাক রোড়  এই রাস্তাটি প্রায় ৩ কিলোমিটার বিস্তৃত, রিঙ্ক হলের কাছাকাছি কুলরি বাজার থেকে শুরু হয়ে লাইব্রেরী বাজারে শেষ হয়েছে। এই জায়গাটির প্রধান আকর্ষণ হল অশ্বারোহন। এখানে হিমালয়ের চিত্তাকর্ষক সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য পরিত্যাগ করা উচিত নয়।

ঝরিপানি জলপ্রপাত   এটি মুসৌরির মুসৌরি-ঝরিপানি রাস্তা থেকে ৮.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভ্রমনার্থীরা বাসে করে বা গাড়িতে ৭ কিলোমিটার ভ্রমণ করে ঝরিপানি আসেন এবং সেখান থেকে ঝর্ণা আরও ১.৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। * ভট্ট জলপ্রপাত এটি মুসৌরির মুসৌরি-দেরাদুন রাস্তা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গাড়ী বা বাস দ্বারা বালটা গ্রামে পৌঁছে সেখান থেকে আরোও ৩ কিলোমিটার দূরত্বে ঝর্ণা অবস্থিত।

রানিখেতের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যসমূহ :

  চৌবাতিয়া চৌবাতিয়া বাগানের ভিতর একটি বিস্ময়কর স্থান। মোটরোপযোগী রাস্তায় এটি রানিখেত থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এখানে সরকারি ফল গবেষণা কেন্দ্রটি অবস্থিত। পরিষ্কার সকালে চৌবাতিয়া থেকে ৩০০ কিলোমিটার ব্যাপী তুষারাবৃত হিমালয়ের শিখরগুলি পরিষ্কার দেখা যায়। এখান থেকে নন্দা দেবী, নন্দা ঘুণ্টি, ত্রিশূল এবং নীলকান্ত শিখর পরিষ্কার দেখা যায়। এখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে ভালুধামে একটি কৃত্রিম হ্রদ আছে।

 কূমায়ুন  উত্তরাখণ্ডের কূমায়ুন তুষারাবৃত পর্বত, উপত্যকা, হিমবাহ, আলপাইন তৃণভূমি, হ্রদ এবং বনাঞ্চল সহ একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যস্থল।এর প্রধান আকর্ষণ হল : ডরোথীস সিট, চীনা পিক।

 নন্দা দেবী   ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত হল নন্দা দেবী। এটি গড়বাল হিমালয়ের একটি অংশ। এটি উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পূর্বে গোরিগঙ্গা উপত্যকা ও পশ্চিমে ঋষিগঙ্গা উপত্যকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। উত্তরাখণ্ডের নন্দা দেবীর প্রধান আকর্ষণ হল ট্রেকিং এবং নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যান।

 বিনসার   বিনসার, আলমোড়া থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতে চাঁদ রাজাদের সময়কালে গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ছিল বিনসার। বিনসার হল কূমায়ুন হিমালয়ের একটি নয়নাভিরাম স্থান এবং একটি জনপ্রিয় পাহাড়ি গন্তব্যস্থল। বিনসার পাহাড়ের উচ্চতা হল ২৪১২ মিটার।

রুদ্রপুর  উধম সিং নগর জেলার সদর দপ্তর হল রুদ্রপুর। রুদ্রপুর একটি সমৃদ্ধিশালী শহর। রুদ্রপুর পরিদর্শন ছাড়া উত্তরাঞ্চল সফর অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

পঞ্চ ধারা উত্তরাখণ্ডের পঞ্চ ধারার গুরুত্বপূর্ণ প্রবাহ ভৃগু ধারা, কয়েকটি উৎকীর্ণ গুহার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আপনাকে একটি সন্মোহনের রাজ্যে নিয়ে যাবে। এখানে বিস্ময়কর গুহার দেওয়ালের ভিতর অনেক কাল্পনিক পৌরাণিক গল্প অঙ্কিত করা রয়েছে। এই রাজকীয় গুহাগুলি প্রকৃতপক্ষে এতো মনোরম যে আপনি চোখ ফিরিয়ে নিতে পারবেন না।

 ল্যান্সডাউন্ এটি ১,৭০৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং পৌরী থেকে প্রায় ৮১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এটি ভারতের একটি নির্জনতম শৈল শহর।

 কৌসানী এটি আলমোড়ার উত্তরে ৫৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। হিমালয়ের ৩০০ কিলোমিটার ব্যাপী একটি সুস্পষ্ট দৃশ্য কৌসানীকে চিত্রবৎ শৈল শহর হিসাবে গড়ে তুলেছে। উত্তরাখণ্ডের কৌসানী সমুদ্রতল হইতে ৬০৭৫ ফুট উচ্চতায় একটি সংকীর্ণ শৈলশিরার উপর অবস্থিত। কৌসানীকে তার অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে।

 ছাম্বা ছাম্বা হল একটি পাহাড়ী জেলা যা ২০০০ ফুট থেকে ২১০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। ছাম্বাতে পর্যটকরা তুষারাবৃত পর্বত, উপত্যকা, গিরিখাত, নদী, তৃণভূমি, হ্রদ।

ছোড়াবারি যদি আপনি কেদারনাথ যান, তাহলে ছোড়াবারি (গান্ধী সরোবর) পরিদর্শন করতে যেতে পারেন, এখানে একটি হ্রদ আছে যেখানে জলের উপর বরফ ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। এটি বাসুকী তাল বরাবর, কেদারনাথ এর কাছাকাছি আরেকটি চিত্তাকর্ষক স্থান। এই উভয় হ্রদ ৪.১৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। উত্তরাখণ্ডের ছোড়াবারির অসাধারণ সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। এখানকার অবিশ্বাস্য সামগ্রিক দৃশ্যের সঙ্গে অগণিত তুষারাবৃত শৃঙ্গের সুশোভিত অনুপম নান্দনিক সৌন্দর্য, রডোডেনড্রন বনাঞ্চল এবং হ্রদের চারিপাশের এলাকায় আলপাইন তৃণভূমির সৌন্দর্য কখনও কেউ জীবনেও ভুলতে পারবে না।

 ভীম পূল ভীম পূল, মানা গ্রামের এক দিকে এবং পাথুরে গুহা ব্যাস গুফার বিপরীতে অবস্থিত। ভীম পূল হল একটি বিশাল পাহাড়, যা উচ্ছৃঙ্খল সরস্বতী নদীর উপর একটি প্রাকৃতিক সেতু গঠন করেছে। ভীম পূল সরস্বতী নদীর একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখার প্রস্তাব করে, এখানে এটি প্রবলবেগে সংকীর্ণ পাথরের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে।

 নৈনিতাল উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল কূমায়ুন পাহাড়ের অভ্যন্তরে একটি সুন্দর পাহাড়ি শৈলশহর, যা পূর্বে সাবেক যুক্ত প্রদেশের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ছিল। হ্রদের সমন্বয়ে উৎকীর্ণ একে ‘৬০ হ্রদের শহর’ বা ‘ছাকতা’ বলা হয়ে থাকে।

 গোমুখ গোমুখ, গঙ্গোত্রী হিমবাহের মধ্য থেকে উদগত হয়েছে। গঙ্গা নদীর একটি প্রধান উপনদী হল ভাগীরথী যা গোমুখ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।গোমুখকে একটি গরুর মুখের সদৃশ কল্পনা করা হয়ে থাকে এবং এই কারণে এই জায়গাটির নাম গোমুখ দেওয়া হয়েছে (‘গৌও’ মানে গরু এবং ‘মুখ’ মানে মুখ)। গোমুখ শিবলিং পর্বত ঘাঁটির নিকটে অবস্থিত। সাম্প্রতিক কালে, এখানে হিমবাহ খুব দ্রুত গতিতে অপসৃত হচ্ছে। গঙ্গোত্রী থেকে গোমুখ এই ১৮ কিলোমিটার দূরত্ব পায়ে হেঁটে বা টাট্টুর সহায়তায় পার করা হয়ে থাকে। গঙ্গোত্রী থেকে গোমুখ ভ্রমণ বেশ সহজ এবং আপনি একই দিনে ফিরেও আসতে পারেন।

 আলমোড়া আলমোড়া তার সহজ প্রবেশযোগ্যতার কারণে পর্যটকদের একটি মনোরম ভ্রমনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে থাকে।

 সাতোপনাথ সাতোপনাথ লেক এবং সাতোপনাথ তাল হল উত্তরাখণ্ড রাজ্যের একটি কঠিনতম ট্রেকিং গন্তব্যস্থল। এই জায়গাটিকে পৃথিবীর স্বর্গ হিসাবেও গণ্য করা হয়ে থাকে। কোন একক শব্দ দ্বারা এর ঋজু সৌন্দর্য ও নির্মলতাকে বর্ণনা করা যায় না। উত্তরাখণ্ডের সাতোপনাথ ১৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।সাতোপনাথ পর্বত ভ্রমণ একজন ব্যক্তির কাছে সত্যিই একটি চ্যালেঞ্জ মনে হতে পারে।

 দেওরিয়া তাল দেওরিয়া তালে একটি সুন্দর হ্রদ রয়েছে যা এই উত্তরাখণ্ড রাজ্যের একটি অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। জায়গাটি সারি গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত। চোপতা-উখিমঠ রাস্তা বরাবর এই গ্রামটি হল শেষ বাস স্টপেজ। এই সারি গ্রাম থেকে ২ কিলোমিটার ভ্রমণ করে পর্যটকেরা দেওরিয়া তালে পৌঁছতে পারে। এই আনন্দদায়ক হ্রদটি ২,৪৩৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, এই হ্রদের জলে তুষারবৃত শৃঙ্গের এক চমৎকার প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয় যা আপনার মনোযোগকে আকর্ষিত করবে।

 শয়নচট্টি  উত্তরাখন্ডের শয়নচট্টি, যমুনোত্রী থেকে খুবই নিকটে অবস্থিত এক অন্যতম উৎসাহপ্রবণ পরিদর্শিত স্থান হিসাবে স্বীকৃত হয়ে উঠেছে। উত্তরাখণ্ডের শয়নচট্টির আরেকটি সুবিধা হল, এখানে ১৯৮২ মিটার উচ্চতায় একটি হ্যামক্ সদৃশ পাহাড়ী চূড়া রয়েছে। শয়নচট্টির চূড়া থেকে সমগ্র অঞ্চলের দৃশ্য মনো-মুগ্ধকর।

ভ্রমনের শ্রেষ্ঠ সময়ঃ- গ্রীষ্মকালে এই রাজ্যের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত চলে যেতে পারে, পাশাপাশি শীতকাল ঠাণ্ডা হয়। বর্ষাকালে এই রাজ্যে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর হল উত্তরাখণ্ড পরিদর্শনের শ্রেষ্ঠ সময়।

ভ্রমনের খরচঃ- উত্তরাখণ্ড একটি প্রধান পর্যটন স্থল হওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের ভ্রমনের প্রস্তাব দিয়ে থাকে, যেমন – দু:সাহসিক ভ্রমণ, তীর্থযাত্রা ভ্রমণ, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী ভ্রমণ এবং অন্যান্য ভ্রমণ। আপনি আপনার পছন্দসই উপলব্ধ বিকল্পের মধ্য থেকে একটি ভ্রমণ নির্বাচন করতে পারেন। উত্তরাখণ্ড পর্যটন উন্নয়ন পর্ষদ (ইউ.টি.ডি.বি.) এবং বিভিন্ন বেসরকারি পরিচালকদের মধ্যে থেকে আপনি অনেক ধরনের প্যাকেজ পাবেন। চার ধাম ভ্রমনের জন্য, প্রতি ব্যক্তির প্রায় ১০,০০০/- টাকা ব্যয় হতে পারে, দু ধাম ভ্রমনের জন্য ৮,৫০০/- টাকা ব্যয় হতে পারে।

ভ্রমন করতে কত দিন যথেষ্ট? উত্তরাখণ্ড আপনাকে বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে যাওয়ার প্রস্তাব প্রদান করে, আপনি কী ধরনের ভ্রমন পচ্ছন্দ করবেন; যেমন – ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, দুঃসাহসিক ভ্রমন, অথবা শুধুমাত্র পাহাড়ে ছুটি কাটানো – এই সবের উপর ভ্রমনের দিনের সংখ্যা নির্ভর করে।

হোটেল এবং বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থাঃ- উত্তরাখণ্ডে বিকল্প বাসস্থান হিসাবে এবং সকলের সামর্থ্য অনুযায়ী অসংখ্য হোটেল, গেস্ট হাউস (অতিথিশালা) এবং রিসর্ট রয়েছে। উত্তরাখণ্ড একটি পর্যটন চালিত রাজ্য হওয়ায় এখানে উচ্চ থেকে নিম্ন বাজেট পরিসীমার সমস্ত ধরনের হোটেল পাওয়া যায়।