পোল্যান্ড | মধ্য ইউরোপের সার্বভৌম দেশ পোল্যান্ড

পোল্যান্ড | মধ্য ইউরোপের সার্বভৌম দেশ পোল্যান্ড

মধ্য ইউরোপের সার্বভৌম দেশ পোল্যান্ড। ১৬টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ষষ্ঠ জনবহুল দেশ এটি। এই পোল্যান্ড শুনতেই বহু বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সবুজের ছায়া মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া এক অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশের কথা মনে আসে। এর বাইরেরও দেশটির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইউরোপ মহাদেশের মধ্যস্থলের একটি রাষ্ট্র ও ঐতিহাসিক অঞ্চল ‘পোল্যান্ড’। এটি সরকারিভাবে পোল্যান্ড প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত। এর রাজধানীর নাম ওয়ার্শ। দেশটির পূর্বে ইউক্রেন ও বেলারুস, পশ্চিমে জার্মানি, উত্তরে বাল্টিক সাগর, লিথুয়ানিয়া ও রাশিয়া এবং দক্ষিণে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া অবস্থিত। এছাড়া বাল্টিক সাগরে পোল্যান্ডের সাথে ডেনমার্কের জলসীমান্ত রয়েছে। পোল্যান্ডের আয়তন ৩,১২,৬৭৯ বর্গ কিলোমিটার।

২০১৮ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, পোল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৮১ লাখের অধিক। পোল্যান্ডের সরকারি ভাষা ‘পোলীয়’। পোল্যান্ডের প্রায় ৯৮ শতাংশ লোক পোলীয় ভাষাতে কথা বলে। তাছাড়া অন্যান্য ভাষার মধ্যে প্রচলিত রয়েছে বেলারুশ, জার্মান, ইউক্রেনীয় এবং রোমানি ভাষা। তবে আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে দেশটি ইংরেজি ও রুশ ভাষা ব্যবহার করে। স্লাভিক উপজাতিরা প্রথম দেশটিতে বসতি স্থাপন করে। দশম শতাব্দীতে পিয়াস্ট রাজবংশের শাসনামলে রাজ্য হিসেবে পোল্যান্ড সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করে। ষোড়শ শতকের শেষের দিককে পোল্যান্ডের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা চলে।

এ সময়ই জাগিয়েলনীয় রাজবংশের তত্ত্বাবধানে পোল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে বৃহৎ, সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজ্য পোল্যান্ডের ওপর তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে চেষ্টা করে। ১৭৯১ সালের দিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া পোল্যান্ডকে অধিকার করে নিজেদের মধ্যে পোল্যান্ড রাজ্যটি ভাগ করে নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটি আবার স্বাধীনতার স্বাদ পায়। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আবার পোল্যান্ডের ওপর আঘাত আসে। জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে এবং দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে সূত্রপাত ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। সেসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন অপ্রত্যাশিত আক্রমণ করে। ফলে দেশটি আবার পূর্ব ও পশ্চিমে ভাগ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, পোল্যান্ড সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণাধীন এক রাজ্য কমিউনিস্ট পিপলস রিপাবলিক পোল্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে। ফলে পোল্যান্ড তার বহু বছরের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার যে সম্মিলিত ঐতিহ্য ছিল, তা থেকে বিচ্যুত হতে থাকে।  ১৯৮০ সালে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোতে প্রথম স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেসময় পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে। ১৯৮৯ সালে তৃতীয় পোলিশ প্রজাতন্ত্রের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পোল্যান্ড সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র থেকে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, প্রতিষ্ঠিত হয় উদার সংসদীয় গণতন্ত্র। এরপর ১৯৯৭ সালে দেশটির নতুন সংবিধান রচিত হয়। পোল্যান্ডের সংস্কৃতি ১ হাজার বছরেরও বেশি পুরানো এবং জটিল। ইউরোপীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেমিশে এটি এক অনন্য চরিত্রটি গড়ে তুলেছে।

তবে বর্তমানে দেশটিতে সাংস্কৃতিক ধারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ওপর অগ্রাধিকার লাভ করেছে। তবে প্রাচীন কাল থেকেই পোলিশ শিল্পের বহুমুখীতা প্রকৃতিতে বিভিন্ন অবদান রেখেছে। ইতোমধ্যেই পোল্যান্ডের বহু দর্শনীয় স্থান পুরো বিশ্বে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। ক্র্যাকও, ওয়ারসজাওয়া, গেডেন্সক, চেজেস্টচওয়া, অসচয়িটজ, টাট্রা পর্বত পোল্যান্ডের খ্যাতিসম্পন্ন দর্শনীয় টুরিস্ট স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর সব থেকে পুরাতন শহরই হোক আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়া ত্রিমাত্রিক জগৎ, পোল্যান্ড ভ্রমণে গেলে এর কোনো কিছুই বাদ যাবে না। তাছাড়া বিনোদনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, টুরিস্ট মনোরঞ্জনকারী বিভিন্ন দল আর আশ্চর্যময় সব দর্শনীয় স্থান, যা পোল্যান্ডকে পর্যটন সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রসিদ্ধ করে তুলেছে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির চোখে পোল্যান্ড বিশ্বের ২৩ টি সুন্দরতম শহরের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। দেশটির ভিস্তুলা নদীর ধারে অবস্থিত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কপারনিকাসের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত তোরান শহর। শহরটিতে এখনও মধ্যযুগের বেশ কয়েকটি পুরনো স্থাপনা রয়েছে। শহরের টাউন হলটি ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত। ঐ সময়ের অনেক পুরাতন গির্জা, ক্যাথেড্রাল পর্যটকদের দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় স্থান। পজনান পোল্যান্ডের পুরনো রাজধানী। শহরটির অন্যতম স্থান ওল্ড টাউন স্কোয়ার। এখানকার বিভিন্ন স্থাপনাতে প্রাচীনকালের গোথিক স্থাপত্য দেখা যায়, যা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। টাউন স্কয়ারের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় ছাগলের নানা স্থাপত্য।

এই কারণে পজনান শহরকে বলা হয়ে থাকে, ‘দ্য সিটি অব হেড বাটিং গোটস’। পোলান্ডের কোনো কোনো অঞ্চল জনবিরল ও গহীন অরণ্যে আবৃত। ওই সব অঞ্চলে কৃষি ও শিল্প সম্পদের পরিমাণ কম। ২০১৪ সালের এক জরিপ অনুযায়ী দেখা গেছে, পোল্যান্ডের ৮৭ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্ট্রান ধর্ম পালন করেন। এছাড়া পোলিশ অর্থোডক্সসহ অন্যান্য কিছু গোষ্ঠীর মানুষ অন্য ধর্ম পালন করে। পোল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ভলিবল এবং ফুটবল। এছাড়াও পোল্যান্ডের মানুষ বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, বক্সিং, স্কাই জাম্পিং, আইস হকিং, টেনিস, সুইমিং এবং বাইক রাইডিং করতেও পছন্দ করে। পোল্যান্ডের জনগণের জন্য ফ্যাশান ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দেশটির জাতীয় পরিচয় বহন করে। দেশটির মানুষের খাদ্যাভ্যাস ইউরোপ, অষ্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইউক্রেন, রাশিয়া, ফ্রান্স ইত্যাদি অনেক দেশের সাথে মিলে যায়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিখ্যাত দেশ। অধিক মাত্রায় খোলামেলা পরিবেশের জন্য এদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ  অনেক বেশি। ২০১৩ সালে এক দম্পতি তাদের বিয়ের ৫০ বছর পালন করেন।যা ছিল পোল্যান্ডের  ইতিহাসে রেকর্ড এবং তার জন্য পোল্যান্ড সরকার তাদের পুরস্কৃত করেন।পোল্যান্ডের নারীরা বিয়ের পর সন্তান নিতে আগ্রহি নয় তাই এখানে ৪০ শতাংশ নারীর কোনো সন্তান নেই।পোল্যান্ডে কোনো দম্পতি যদি ২য় সন্তান নেন তাহলে সরকার তার ব্যয় বহন করেন তবুও এখনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক কম।

  1. পুরো নাম : পোল্যান্ড প্রজাতন্ত্র।
  2. রাজধানী ও সর্ববৃহত্ শহর : ওয়ারশ।
  3. দাপ্তরিক ভাষা : পোলিশ।
  4. জাতিগোষ্ঠী : ৯৪.৬১ শতাংশ পোলিশ।
  5. ধর্ম : মূলত খ্রিস্টান।
  6. সরকার পদ্ধতি : ইউনিটারি সেমি-প্রেসিডেনশিয়াল রিপাবলিক।
  7. প্রেসিডেন্ট : আন্দ্রেজ দুবা।
  8. প্রধানমন্ত্রী : মাতেওসজ মোরাউইকি।
  9. আইনসভা : জাতীয় পরিষদ, উচ্চকক্ষ সিনেট,
  10. নিম্নকক্ষ সেজম।
  11. আয়তন : তিন লাখ ১২ হাজার ৬৭৯ বর্গকিলোমিটার।
  12. জনসংখ্যা : তিন কোটি ৮৪ লাখ ২২ হাজার।
  13. ঘনত্ব : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১২৩ জন।
  14. জিডিপি : মোট এক হাজার ১১০ বিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু ২৯ হাজার ২৫০ ডলার।
  15. মুদ্রা : জুয়োতে।
  16. জাতিসংঘে যোগদান : ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫।

পজনান পজনান পোল্যান্ডের পুরনো রাজধানী। শহরটির অন্যতম স্থান ওল্ড টাউন স্কোয়ার। এখানকার বিভিন্ন স্থাপনাতে প্রাচীনকালের গোথিক স্থাপত্য দেখা যায়, যা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। টাউন স্কয়ারের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় ছাগলের নানা স্থাপত্য। এই কারণে পজনান শহরকে বলা হয়ে থাকে, ‘দ্য সিটি অব হেড বাটিং গোটস।

 ভ্রচুয়াব ওডার নদীর ধারে অবস্থিত পশ্চিম পোল্যান্ডের এক বৃহত্তম শহর রক্লো । শতাব্দী ধরে প্রিসিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি এবং বোহেমিয়াদের দ্বারা শাসিত হয়েছে এই শহর। কিন্তু ১৯৪৫ সালের পর থেকে শহরটি পোল্যান্ডের অংশ হয়ে গেছে। শহরটিতে রয়েছে অনন্যসাধারণ কিছু স্থাপত্য। তবে শহরের প্রধান আকর্ষণ মার্কেট স্কয়ার, ওল্ড টাউন হল ও সেন্ট এলিজাবেথ চার্চ। এই শহরটির চারপাশ দেখার জন্য চার্চের সাথে রয়েছে একটি অবজারভেশন টাওয়ার। এখানেই রয়েছে পোল্যান্ডের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা। পর্যটকদের জন্য ওডার নদীতে নৌকায় চেপে শহরটির চারদিক ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

 ওয়ারস   পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারস শাস্ত্রীয় সুরকার ফ্রেড্রিক চপ্পিনের জন্মস্থান। দ্বাদশ শতকের কাছকাছি সময়ে শহরটির গোড়াপত্তন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শহরটির অনেকটাই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। বিশ্বযুদ্ধের পর শহরটিকে আবার নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে শহরটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শহরের ওল্ড টাউন স্কোয়ারের মাঝখানে রয়েছে ঢাল-তলোয়ার হাতে মারমুখী মৎস্যকন্যার এক বিশাল স্থাপত্য। এই স্থাপত্যের কারণে ওয়ারসকে বলা হয় ‘দ্য সিটি অফ মারমেইড’। এখানে রয়েছে কোপারনিকাস বিজ্ঞান কেন্দ্র।

 তোরুন      ভিস্তুলা নদীর ধারে অবস্থিত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কপারনিকাসের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত তোরান শহর। শহরটিতে এখনও মধ্যযুগের বেশ কয়েকটি পুরনো স্থাপনা রয়েছে। শহরের টাউন হলটি ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত। ঐ সময়ের অনেক পুরাতন গির্জা, ক্যাথেড্রাল পর্যটকদের দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় স্থান।

চেষ্টোহোভা জাস্না গোরা মনেস্ট্রিতে অবস্থিত শহরটির গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান ব্ল্যাক ম্যাডোনার স্থাপত্য।এটা পোল্যান্ডের জাতীয় ঐতিহাসিক মনুমেন্টগুলোর একটি। ব্ল্যাক ম্যাডোনা স্থাপত্যটিতে রয়েছে কুমারী মেরি এবং তার কোলে শিশু যীশু, দুজনেই কৃষ্ণাঙ্গ। পোলিশদের বিশ্বাস, ব্ল্যাক ম্যাডোনার কাছে কোনো কিছু তীব্রভাবে চাইলে তিনি তা পূরণ করেন।

ক্র্যাকো  পোল্যান্ডে ওয়াওয়েল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ক্র্যাকো শহরটি। ক্র্যাকোকে ধনীদের শহর বলা হয়ে থাকে। এটি পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। সপ্তম শতাব্দীতে একটি গ্রাম হিসেবে ক্র্যাকো পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে শহরটি সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অধিক পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, নাৎসিরা ইহুদীদের ধরে এনে ক্র্যাকোর একটি ঘাঁটিতে প্রাথমিকভাবে রাখার ব্যবস্থা করেছিল এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে তাদেরকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হতো। শহরটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভিস্তুলা নদী। পুরাতন শহরের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ক্র্যাকো।

ম্যালবর্ক     মধ্যযুগের নিদর্শনের এক শহর ম্যালবর্ক এর জার্মানীদের দেয়া ‘মেনেনবুর্গ’ নামটি সর্বাধিক পরিচিত। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে টিউটনিক সাম্রাজ্য এখানে তাদের সদর দফতর প্রতিষ্ঠা করে। মধ্যযুগীয় নানা নিদর্শনের সাক্ষী এই ম্যালবর্ক। এখানে রয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম গোথিক দুর্গ, যার নামকরণ করা হয়েছে ভার্জিন মেরির নামে। শহরটিতে রয়েছে তিনটি ঐতিহাসিক দুর্গ। এগুলো বিশ্বের প্রথম ইটের তৈরি দুর্গ। এই দুর্গ নির্মাণে নাকি আনুমানিক ২৩০ বছর লেগেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দুর্গের অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে পেলিশ সরকার তা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়।

গ্ডানস্ক     ডানচিহ নামেও শহরটি পরিচিত। উত্তর পোল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর এবং প্রধান বন্দর এই গ্ডানস্ক। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত দশম শতকের কাছাকাছি সময়ে নগরটি প্রতিষ্ঠিত। শহরটির এক মিশ্র রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। বিভিন্ন সময়ে শহরটি জার্মানি এবং পোল্যান্ডের অন্তর্গত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পোল্যান্ডের স্থায়ী এক অংশ হিসেবে শহরটি আত্মপ্রকাশ করে। শহরটিতে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। পোলিশ রাজাদের ভ্রমণের জন্য নির্মিত রয়েল রোড, সেন্ট মেরি গির্জা এবং বিশ্বের বৃহত্তম ইট গির্জা অন্যতম দর্শনীয় স্থান।