গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড ছড়িয়ে দেওয়ার সুর তুলে তিন দলকে একত্রিত করলেন প্রদ্যুত্‍

গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড ছড়িয়ে দেওয়ার সুর তুলে তিন দলকে একত্রিত করলেন প্রদ্যুত্‍

গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড-এর আওয়াজ আরও তীব্র করে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সদস্য প্রদ্যুত্‍ কিশোর দেববর্মা আজ তিপ্রা-কে আরও দুটি রাজনৈতিক দল আইপিএফটি (তিপ্রাহা) এবং তিপ্রাল্যান্ড স্টেট পার্টি-র সাথে একত্রিত করেছে। এডিসি নির্বাচনের লক্ষ্যেই তিন দল একত্রিত হয়ে নতুন পরিচিতি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিজেপির সাথে আঁতাত রেখেই শিবির পরিবর্তন করলো ত্রিপুরায় শাসক জোট আইপিএফটি। এডিসি নির্বাচনে হাত ধরেছে তিপ্রাহা-র। বৃহত্তর স্বার্থের যুক্তি তুলে ত্রিপুরায় জোটসঙ্গী বিজেপি-র সাথে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে তিপ্রাহা-র সাথে হাত মেলানো হয়েছে, দাবি আইপিএফটি-র। আসন্ন এডিসি নির্বাচনে তারা জোট বেঁধে লড়াইয়ের ঘোষণা করেছে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে আইপিএফটি সভাপতি তথা রাজস্বমন্ত্রী এনসি দেববর্মা, দলের সাধারণ সম্পাদক তথা জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী মেবারকুমার জমাতিয়া এবং প্রদ্যুত্‍কিশোর দেববর্মন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই সমঝোতার ঘোষণা করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে যৌথভাবে এই ঘোষণা করেছেন প্রদ্যুত্‍ কিশোর। তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন আইপিএফটি (তিপ্রাহা)-র সভাপতি বুধুকুমার দেববর্মা এবং তিপ্রাল্যান্ড স্টেট পার্টি-র সভাপতি চিত্তরঞ্জন দেববর্মা। প্রদ্যুতের সাফ কথা, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

তাতে জাতি-জনজাতি সকল অংশের মানুষের অধিকার আদায়ে মঞ্চ তৈরি হবে। উন্নয়ন পরিষদ গঠনের মাধ্যমে দিল্লি পর্যন্ত আওয়াজ পৌঁছানো হবে। এ-ক্ষেত্রে মিজোরামের মামিথ জেলা হোক কিংবা প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা জেলায় প্রবাসীদের জন্য একত্রে সুর তোলা যাবে। এদিন তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনও জাতিকে সহায়তার জন্য গঠিত হয়নি নতুন এই রাজনৈতিক দল। "তিপ্রাহা ইন্ডিজিনিয়াস প্রোগ্রেসিভ রিজিওনাল এলায়েন্স" ত্রিপুরার জাতি-জনজাতি সকলের জন্য চিন্তা করবে, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে অধিকার প্রতিস্থাপন করবে।

তাঁর কথায়, এডিসি নির্বাচনের লক্ষ্যে তিন দল একত্রিত হয়েছে। তবে, নির্বাচনের পরেও সম্পর্ক অটুট থাকবে, দাবি করেন তিনি প্রদ্যুত্‍। প্রদ্যুতের কথায়, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডকে সমর্থন জানালে যে কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে জোট গঠনে প্রস্তুত তিপ্রাহা। এক্ষেত্রে জাতীয় দলকে লিখিতভাবে জোটের প্রস্তাব দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, সিপিএম-ও গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডকে সমর্থন দিলে তাদের সাথেও জোটে আপত্তি নেই, জানালেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, বিজেপি কিংবা কংগ্রেস নির্বাচনি আঁতাতে তাঁদের কারোর প্রতি আপত্তি নেই।

কিন্তু, লিখিত প্রস্তাব আসলে তবেই হাত বাড়াবে তিপ্রাহা। প্রদ্যুত্‍ আজ বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের অর্থ নির্বাচনে জয়ী হওয়া কিংবা পৃথক রাষ্ট্র নয়। অধিকার আদায়ে মঞ্চ হিসেবে উন্নয়ন পরিষদের আদলে গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড গঠন করা হোক। তিনি বলেন, এডিসি নির্বাচনে তিপ্রাহা জয়ী হলে প্রথম কাজ হিসেবে স্বশাসিত জেলা পরিষদ উন্নয়ন পরিষদ গঠন করার প্রস্তাব আনবে। তাতে অবশ্যই মিজোরামের মামিত জেলা থেকে শুরু করে প্রতিবেশী বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা সহ চাকলা রোশনাবাদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, কাউকে বাদ দিয়ে ভাববে না তিপ্রাহা।

বিজেপি চাইলে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। এদিন মেবারকুমার জমাতিয়া বলেন, ত্রিপুরা সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট হতে পারছি না। জনজাতিদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে, তিপ্রাহা-র সাথে জোট গঠন ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। এনসি দেববর্মা সাথে যোগ করেন, মতাদর্শগত ভাবে আমরা ভিন্ন।ফলে, যে কোনও দল অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে জোট গঠন করতেই পারে। তা অসাংবিধানিক নয়, দাবি করেন তিনি। আইপিএফটি-র এই সিদ্ধান্তে অনেকটাই স্পষ্ট, এডিসি নির্বাচনের লক্ষ্যে দরকষাকষির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে শাসক জোট শরিক। বিজেপি-র সাথে আঁতাত রেখেই এডিসি নির্বাচনে শিবির পরিবর্তন, সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।