পাক সেনাপ্রধানের সফরের মাঝেই অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ

পাক সেনাপ্রধানের সফরের মাঝেই অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ

আজবাংলা    পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) আলিয়াবাদ হুঞ্জায় কারাবন্দি রাজনৈতিক নেতা বাবা জনসহ ১৪ জনের মুক্তির দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণকে নিয়ে সরকারবিরোধী 'উসকানিমূলক' কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১১ সালে তাঁদের আটক করা হয়। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পিওকে পরিদর্শন করার সময় এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর গিলগিটে বিশেষ যোগাযোগ সংস্থার (এসসিও) উদ্যোগে অত্যাধুনিক সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন করেছেন বাজওয়া।

কারাগারে বন্দি নেতাদের মুক্তি দাবিতে গঠিত একটি সংস্থা আসিরান-ই-হুনজা রিহাই কমিটি এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), পাকিস্তানি মুসলিম লীগ (নওয়াজ) (পিএমএল-এন), ধর্মীয় ও স্থানীয় সংস্থাগুলো এবং বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভে সমবেত হয়েছিল।

বিক্ষোভকারীরা আলিয়াবাদ হুনজার কলেজ চক, করকরাম হাইওয়ে অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিসহ তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে। বিক্ষোভকারীরা হুনজার ১৪ জন রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির জন্য স্লোগানও দেয়।বিক্ষোভকারীরা বলেছে যে, আতাবাদ হ্রদ বিপর্যয়ের শিকার ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হওয়ায় বাবা জনসহ আরো ১৩ জনকে ২০১১ সালে অবৈধভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

তারা বলেছিল আশ্চর্যজনক যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন (এটিএ) জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলা মানুষদের কণ্ঠরোধ করছে।বাবা জন ৯০ বছরের সাজা ভোগ করছেন। তিনি এমন একজন নেতা, যিনি তৎকালীন পাকিস্তান প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। যারা মূলত গিলগিট-বালতিস্তানের মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছিল।

পাকিস্তানের সংস্থাগুলো গিলগিট-বালতিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের চূড়ান্ত অপব্যবহার করেছে। মানুষের যুক্তিসংগত অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দিতেই এই আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে শুধু পাকিস্তানি শাসন চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই অ্যান্টি টেরোরিজম আইনকে হাতিয়ার করা হয়েছে।

গিলগিট এবং মুজাফফরাবাদের পুতুল সরকারগুলো, যারা মূলত ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির সামন্তবাদী অভিজাতদের নির্দেশমতো কাজ করে। তারা এ অঞ্চলের মানুষকে দমন করার জন্য এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করতে নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।