মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় অনুপস্থিত বিক্ষুব্ধ বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় অনুপস্থিত বিক্ষুব্ধ বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল

নির্বাচনের আগে তৃণমূলে ভাঙ্গন অব্যাহত। কেউ দল ছাড়ছেন আবার কেউ দল ছেড়ে সোজা গেরুয়া শিবিরে সাড়ম্বরে যোগদান করছেন।আজ হুগলির পুড়শুড়া য় আছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের বেকায়দায় পড়তে হলো। জানা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যাচ্ছেন না প্রবীর ঘোষাল। ইতিমধ্যেই ঘনিয়েছে জল্পনা। বস্তুত, গত কয়েক দিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে যা চলছে, তাতে স্বাভাবিক ভাবেই এই অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হওয়া অবধারিত।

 দলের কর্মীদের একাংশ নানাকিছুই অনুমান করছেন, কী বলতে পারেন তিনি আগামীকাল। এমনও শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দুর মতো দলবদল করতে পারেন এই বিধায়কও। কারণ গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর নানা মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে দলের প্রতি অসন্তোষ ও অনুযোগ ধরা পড়েছে। এসবের মধ্যে নিজের জেলার দলীয় সভায় তাঁর অনুপস্থিতি তাতপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। দলের আশঙ্কা বাড়িয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, যা বলার মঙ্গলবারই বলবেন।

বিদ্রোহী প্রবীর ঘোষালের কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'কে এলো, কে গেল তাতে কিছু আসে যায় না।'তবে পুরশুড়ার সভায় হাজির হয়েছেন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন,অপরূপাও বিজেপি-তে যোগ দেবেন। এর আগে তৃণমূলের হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল (Prabir Ghosal)।

দলের সাংগঠনিক রদবদল থেকে সরকারি প্রকল্পের কাজ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দলের কার্যকলাপকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। দলের সংগঠনে রদবদল হলেও, তা আদপে কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে? তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। রাস্তা না হওয়ায় সরকারি কাজ নিয়েও ক্ষোভ দেখান উত্তরপাড়ার বিধায়ক। তিনি বলেন,'উন্নয়নে ঘাটতি থেকে গিয়েছে।

সেটা মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।' আর সেটা শুধু তাঁর কেন্দ্রে নয়, বিভিন্ন জায়গাতেই বলে দাবি করেছেন প্রবীর ঘোষাল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, 'এগুলোর সমাধান করতে না পারলে একুশের লড়াই কঠিন হবে।' তার আগেও জেলায় দলের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রবীর ঘোষাল। লোকসভা নির্বাচনে হুগলি আসনে তৃণমূল হেরে যায় বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কাছে।

সেই সময় প্রবীর ঘোষালকে বলতে শোনা গিয়েছিল, কিছু তৃণমূল নেতার মাতব্বরির জেরে বিজেপির কাছে হেরেছে তৃণমূল।জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই; মন কষাকষি চলছে প্রবীর ঘোষালের। সেই কারণেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তাঁর। শেষ পর্যন্ত খোদ দলনেত্রীর সভা এড়িয়ে; তিনি দলকে চরম বার্তা দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের যে বিধায়করা বিজেপি-তে যেতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে; সেই তালিকায় অন্যতম প্রবীর ঘোষালের নাম। এদিন মমতার সভায় গরহাজির; সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষও।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই প্রবীর ঘোষাল অভিযোগ করেন, তাঁকে ভোটে হারানোর চক্রান্ত চলছে। এরপরই দলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তাঁর ক্ষোভ মেটাতে আসরে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। এদিকে দিনকয়েক আগেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী চন্দননগরে এসে হুঁশিয়ারি দেন, বিধানসভা নির্বাচনে 'হুগলি জেলায় তৃণমূল শূন্য পাবে'। অপরদিকে গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার হুগলির জেলা তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনে হুগলির জেলা থেকেই জয়ী হয়েছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপাড়ার বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিলে বেগ পেতে হতে পারে তৃণমূলকে।