ক্যান্সার ও পেটের যত্নে পাতে রাখুন ইলিশ

ক্যান্সার ও পেটের যত্নে পাতে রাখুন ইলিশ

আজবাংলা-  বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইলিশ। ভোজনরসিক মানুষের পাতে বর্ষাকালে ইলিশ থাকবে না বিষয়টি ভাবা যায় না। কারণ এটি স্বাদে, গুণে অতুলনীয়। সেই সঙ্গে পুষ্টিতেও ভরপুর ইলিশ মাছ। সরষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, দই ইলিশ, ইলিশের টক, ভাজা, ইলিশের ডিম আরো নানাভাবে ইলিশ খাওয়া যায়।স্বাদের পাশাপাশি ইলিশের যে পুষ্টিগুণ রয়েছে তা আমাদের জানা উচিত। আজকের প্রতিবেদনে সেই আলোচনার মাধ্যমে জেনে নেব ইলিশের জানা অজানা গুনাগুন-

১. ইলিশ মাছে আরজিনিন থাকায় তা ডিপ্রেশনের জন্যও খুব ভালো৷ তা ছাড়া ইলিশ মাছ ক্যান্সার প্রতিরোধক৷ আবার সর্দি-কাশি প্রতিরোধেও দারুণ কার্যকরী।

২. খাবার তালিকায় ইলিশ মাছ রাখলে পেটের সমস্যা অনেক কম হয়। আলসার, কোলাইটিসের হাত থেকে রক্ষা করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড।

৩. সামুদ্রিক মাছে থাকা ইপিএ ও ডিএইচএ ওমেগা-থ্রি- শরীরে ইকসিনয়েড হরমোন তৈরি রুখতে পারে। এই হরমোনের প্রভাবে রক্ত জমাট বেঁধে শিরা ফুলে যায়। ইলিশ মাছ খেলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।

৪. ইলিশ মাছে থাকা প্রোটিন কোলাজেনের অন্যতম উপাদান। এই কোলাজেন ত্বক টাইট ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।

৫. ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের সঙ্গে অস্টিও আর্থ্রাইটিসের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিনের ডায়েটে সামুদ্রিক মাছ থাকলে বাতের ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

৬. ইলিশ মাছ এবং ইলিশ মাছের তেল হার্টের জন্যও খুব ভালো৷ যাদের কোলেস্টেরল বেশি তারাও ইলিশ মাছ খান৷ কারণ ইলিশ খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে দেয়, যা হার্ট ব্লক করতে পারে।

৭. ইলিশ মাছ প্রোটিন, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে৷ ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে রয়েছে ২২.৩ শতাংশ প্রোটিন৷ করোনাকালে জিঙ্কের গুরুত্ব সকলেই এত দিন জেনে গেছেন৷ এ ছাড়া জিঙ্ক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব ভালো৷ সেলেনিয়াম আবার অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কাজ করে৷

তবে ইলিশ মাছের যে পদই রান্না করুন না কেন, খেয়াল রাখবেন তা যেন  খুব বেশি ভাজা না হয়। খুব বেশি পরিমাণ মাছ ভাজা হলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।