ফের অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দরবারে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ফের অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দরবারে  রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের

তাহলে কি তৃণমূল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন হতে চলেছে Rajib Banerjeeরাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়? এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজীব বৈঠক করেন বলে সূত্রের খবর। বস্তুত মুকুল রায়ের 'ঘরে' ফেরার পর থেকেই তৃণমূলে রাজীবের ফেরা নিয়ে জল্পনা উস্কে উঠেছিল। সেই জল্পনা উসকে ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক কখনও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বাড়িতে, কখনও আবার তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, আবার কখনও মুকুল রায়ের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

কিন্তু এবার তাঁর সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাই বলছে, রাজীবের তৃণমূলে ফেরা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে এদিন দুজনের মধ্যে প্রায় আধ ঘণ্টা কথা হয় বলে সূত্রের খবর। বিধানসভা ভোটের আগে চাটার্ড ফ্লাইটে করে দিল্লি উড়ে গিয়ে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজীব। তাঁকে নিজের জোমজুড় কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু নির্বাচনে হারের মুখ দেখতে হয় রাজীবকে।

তারপর থেকেই বিজেপির কর্মসূচিতে তেমন দেখা মিলছিল না তাঁর। হেস্টিংসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ডাকা রাজ্যস্তরের নেতাদের বৈঠকেও আমন্ত্রণ ছিল না রাজীবের। তার জেরে জল্পনা শুরু হয়েছিল, তাহলে কি তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী? সেই জল্পনার মধ্যেই রাজ্য সরকারের 'পাশে' থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন রাজীব। বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে বিজেপি যখন সুর চড়াচ্ছিল, সেই সময় ফেসবুক পোস্টে রাজীব লিখেছিলেন, 'সমালোচনা তো অনেক হল।

মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি, আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবেন না। আমাদের সকলের উচিত, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ইয়াস - এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।' এমনকী শুভেন্দু অধিকারীর লাগামছাড়া তৃণমূল আক্রমণকেও একহাত নিয়েছিলেন তিনি। যদিও রাজীবের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের জল্পনা শুরু হতেই কড়া বার্তা দিয়েছেন সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

একই অবস্থান অরূপ রায়েরও। তাঁদের মূলত মন্তব্য ছিল, 'দলনেত্রীর কাছে আর্জি জানাব, ভোটের আগে হাওড়ার যাঁরা দল ছেড়েছিলেন, তাঁদের যেন ফিরিয়ে না নেওয়া হয়।' কল্যাণের বক্তব্য ছিল, রাজীবের 'ভ্যালু শূন্য'। এমনকী রাজীবের বিরুদ্ধে ডোমজুড় এলাকায় একাধিক পোস্টারও পড়ে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজীবের সাক্ষাত্‍ প্রাক্তন মন্ত্রীর জন্য সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি অনেকটাই লাঘব করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।