Ram Navami in Bengali রামনবমীর তাৎপর্য

Ram Navami in Bengali রামনবমীর তাৎপর্য

 Ram Navami in Bengali রামনবমী হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনটি ভগবান শ্রীরাম-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। প্রতি বছর, রামনবমী চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমীতে পালিত হয়। এই দিনটি চৈত্র নবরাত্রিরও শেষ দিন। তাই, রামনবমী রাম নবরাত্রি হিসেবেও পরিচিত। এই বছর রামনবমী ৩০ মার্চ ভারতজুড়ে পালন করা হবে। রাম নবমী (সংস্কৃত: राम नवमी ) অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যা সন্তান রামের জন্মগ্রহণ উদ্‌যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি হিন্দু উৎসব। রাম বিষ্ণুর সপ্তম অবতার, ভগবান বিষ্ণুর মানবীয় রূপের প্রাচীনতম অবতার।

  এই পবিত্র দিন শুক্লপক্ষের নবম দিনে পড়ে, হিন্দু পঞ্জিকার চৈত্র মাসের নবম দিন। চৈত্রের নয় দিনে বসন্তের নবরাত্রি পালন করা হয়। রাম নবমী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসবের মধ্যে একটি। এই নবমীতে দেবী পার্বতী আবির্ভূত হয়েছিলেন । তাই এই দিনকে সনাতন ধর্মের “বিশ্ব মাতৃ দিবস” হিসেবে পালন করেন সনাতনীরা। দিনটি হিন্দু ইতিহাস গ্রন্থ রামায়ণ থেকে আবৃত্তি করে চিহ্নিত করা হয় যা রামের কাহিনী বর্ণনা করে। হিন্দুরা মন্দিরে গিয়ে, প্রার্থনা করে, উপবাস করে, আধ্যাত্মিক বক্তৃতা শুনে এবং ভজন বা কীর্তন (ভক্তিমূলক গান) গেয়ে উৎসব উদযাপন করে। 

যেহেতু রামের জন্মদিন তাই কিছু ভক্ত রামের একটি মূর্তি একটি দোলনায় রেখে শিশুর মতো পূজা করে।  দাতব্য অনুষ্ঠান এবং সম্প্রদায়ের খাবারেরও আয়োজন করা হয়। উৎসবটি অনেক হিন্দুদের জন্য নৈতিক প্রতিফলনের একটি উপলক্ষ।  এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ উদযাপনগুলি সারা ভারতে অযোধ্যা এবং অসংখ্য রাম মন্দিরে সঞ্চালিত হয়। রাম, সীতা, লক্ষ্মণ এবং হনুমানের রথযাত্রা বিভিন্ন স্থানে হয়। অযোধ্যায়, অনেকে পবিত্র সরায়ু নদীতে ডুব দিয়ে তারপর রাম মন্দিরে যান। 

 রামের জীবন সম্পর্কে রামায়ণ কিংবদন্তিতে উল্লিখিত কয়েকটি শহর প্রধান উদযাপন পালন করে।  এর মধ্যে রয়েছে অযোধ্যা (উত্তরপ্রদেশ),  রামেশ্বরম ( তামিলনাড়ু ), ভদ্রাচলম ( তেলেঙ্গানা ) এবং সীতামারহি (বিহার)। কিছু স্থান রথযাত্রা (রথ শোভাযাত্রা) সংগঠিত করে, আবার কিছু স্থান রাম ও সীতার বিবাহ বার্ষিকী উৎসব ( কল্যাণোৎসব ) হিসাবে উদযাপন করে।  রামের নামে উৎসবের নামকরণ করা হলেও, উৎসবে সাধারণত সীতা, লক্ষ্মণ এবং হনুমানের প্রতি শ্রদ্ধা অন্তর্ভুক্ত থাকে, রামের জীবন কাহিনীতে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

কিছু বৈষ্ণব সম্প্রদায় রামকে স্মরণ করে এবং রামায়ণ পাঠ করে চৈত্র (বসন্ত) নবরাত্রির নয়টি দিন পালন করে, কিছু মন্দির সন্ধ্যায় বিশেষ আলোচনা পর্বের আয়োজন করে। অভাবীদের সাহায্য করার জন্য দাতব্য অনুষ্ঠান এবং সম্প্রদায়ের খাবার মন্দির দ্বারা সংগঠিত হয়। কর্ণাটকে, স্থানীয় মন্ডলী (সংগঠন) দ্বারা শ্রী রামনবমী উদযাপন করা হয় কিছু জায়গায়, এমনকি ফুটপাথে, বিনামূল্যে পানকাম (একটি গুড়ের পানীয়) এবং কিছু খাবার ছড়িয়ে দিয়ে। উপরন্তু, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে, শ্রী রামসেবা মন্ডলী, RCT (R.) চামরাজপেট, ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, মাসব্যাপী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসবের আয়োজন করে।

এই ৮০ বছরের পুরানো বাদ্যযন্ত্রের অনন্যতা হল যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পীরা, তাদের ধর্ম নির্বিশেষে, উভয় ধারার – কর্ণাটিক (দক্ষিণ ভারতীয়) এবং হিন্দুস্তানি (উত্তর ভারতীয়) – রাম এবং সমবেত শ্রোতাদের কাছে তাদের সঙ্গীত পরিবেশন করতে নেমে আসেন। তেলেঙ্গানার ভদ্রাচলম মন্দির রাম নবমী উদযাপনের অন্যতম প্রধান স্থান। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো পূর্ব ভারতীয় রাজ্যে, জগন্নাথ মন্দির এবং আঞ্চলিক বৈষ্ণব সম্প্রদায় রাম নবমী পালন করে এবং গ্রীষ্মকালে তাদের বার্ষিক জগন্নাথ রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করার দিন হিসাবে এটিকে বিবেচনা করে ।

ইসকনের সাথে যুক্ত ভক্তরা দিনের উপবাস রাখেন। ক্রমবর্ধমান স্থানীয় হিন্দু ধর্মসভার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ইসকন মন্দির ছুটির উপলক্ষ্যে আরও বিশিষ্ট উদযাপনের প্রচলন করেছে। যদিও এটি ছিল ঐতিহ্যবাহী গৌরাব্দ বর্ষপঞ্জির একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান, যেদিন ভক্তরা একটি নির্দিষ্ট অতিরিক্ত দিন উপবাস পালন করে।

রাম নবমী হল একটি হিন্দু উৎসব । ভারতীয় চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের বংশধর যারা ব্রিটিশ-প্রকৌশলী দুর্ভিক্ষের কারণে ভারত ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং তারপর ১৯১০ সালের আগে ব্রিটিশ মালিকানাধীন বাগান ও খনিগুলিতে ঔপনিবেশিক দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তারপরে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ শাসনের অধীনে বসবাস করতে থাকে। রামায়ণ পাঠ করে এবং ত্যাগরাজ ও ভদ্রচাল রামদাসের ভজন গেয়ে রাম নবমী উদযাপন করে। প্রতি বছর ডারবানের হিন্দু মন্দিরগুলিতে এই ঐতিহ্যটি সমসাময়িক সময়ে অব্যাহত রয়েছে। 

একইভাবে, ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো, গায়ানা, সুরিনাম, জ্যামাইকা, অন্যান্য ক্যারিবিয়ান দেশ, মরিশাস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য অনেক দেশে ঔপনিবেশিক যুগের হিন্দু বংশধরদের সাথে ব্রিটিশ ভারত ত্যাগ করতে বাধ্য করা শ্রমিকরা তাদের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাথে রাম নবমী পালন করে চলেছে।  এটি ফিজির হিন্দুদের দ্বারাও উদযাপন করা হয় এবং সেই সমস্ত ফিজি হিন্দুরা যারা আবার অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে।  বাংলাদেশে রাম নবমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। 

রাম নবমী উৎসবের তাৎপর্য   রামনবমীর এই দিনটি নবরাত্রীর শেষ দিন সুতরাং দুটি প্রধান হিন্দু উৎসব একসাথে, এই উৎসবটির গুরুত্ব আরো বেশি বাড়িয়ে তোলে। রামনবমীর উপবাস করলে পাপের ক্ষয় হয় এবং শুভ ফল দেয় বলে মনে করা হয়। রাম নবমী উপলক্ষে আবৃত্তি, ভজন, কীর্তন এর আয়োজন করা হয়। দেশের প্রতিটি প্রান্তে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। এই দিন বেশিরভাগ মানুষ উপবাস করে থাকেন এবং নদীতে স্নান করে সমস্ত ভক্তরা রামের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। রামচন্দ্রের ত্যাগ মানুষকে অনেক বেশি শান্ত করতে সাহায্য করে।

কেননা তিনি রাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করার পরেও রাজবাড়ীর সমস্ত আরাম, আয়েশ ছেড়ে দিয়ে বনের জীবনকে মেনে নিয়েছিলেন, শুধুমাত্র পিতার আদেশে। সেই কারণে রামচন্দ্রের আশীর্বাদ গ্রহণ করার জন্য তার জন্মতিথিতে প্রতিবছর রাম নবমী উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসবটি পালন করার পদ্ধতি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। বিশেষ করে অযোধ্যা ও বানারসে গঙ্গা ও সরায়ু নদীতে স্নান করে এবং ভগবান রাম, সীতা ও হনুমানের রথযাত্রা আয়োজন করা হয়। একইভাবে সিতামণি, অযোধ্যা, বিহার এই সমস্ত জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয় আনন্দ উৎসব উপভোগ করার জন্য।

অনেক জায়গায় প্যান্ডেল করে সেখানে ভগবান রামের প্রতিমা স্থাপন করা হয়। ঘরে ঘরে ক্ষীর, পুলি, হালুয়া, রান্না করা হয়। অনেক জায়গায় রামায়ণ এবং গান হয়, রামায়ণ পাঠ করা হয়, রথযাত্রা বের হয়, মেলার আয়োজন করা হয়, এইভাবে বিভিন্ন জায়গায় আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে উদযাপন করা হয় রামনবমী উৎসব। যা কিনা রামচন্দ্রের জন্মদিন পালন করার সাথে সাথে আনন্দ উৎসবের শুরুটাও হয়ে যায়। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বহু রাম মন্দিরে রঙিন ফুল এবং আলোকসজ্জার সঙ্গে এই রামনবমী উৎসবটির আয়োজন করা হয়।

পবিত্র নদীতে স্নান করে পারেণ্যের সাথে ঈশ্বরের নাম জপ করে মন্ত্র উচ্চারণ করেন। শ্রী রামচন্দ্রের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য অনেক হিন্দু ভক্ত রামনবমী উপলক্ষে উপবাস ও রাখেন। রামচন্দ্রের জন্মের উদ্দেশ্য সমাজে অধর্মকে ধ্বংস করে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করা। তেমনি রামচন্দ্রের ত্যাগ, ধৈর্য এবং সহ্য শক্তি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে জীবনে চলার পথে। সেই কারণে এই রামনবমী উৎসব শ্রী রামচন্দ্রের জন্মদিন পালনের সাথে সাথে তার আশীর্বাদ প্রাপ্ত করার জন্য নিষ্ঠা ভরে পূজা, ব্রত ও উপবাস রাখা হয়। তাছাড়া এই দিনে সমস্ত রাম মন্দির সেজে ওঠে ফুল আর আলোক সজ্জায়। স্থানীয় জায়গাতে মেলা, রামায়ণ পাঠ, গান ইত্যাদি চলে বেশ কয়েক দিন ধরে।

যেটা স্থানীয় মানুষদের কাছে এই রামনবমী উৎসবকে অনেক বেশি আনন্দমুখর করে তোলে। চৈত্র মাসে বিভিন্ন ধরনের উৎসব লেগেই রয়েছে। তার মধ্যে এই রামনবমী উৎসব একেবারে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে পরিচিত। ফুল, ফল, নৈবেদ্য অর্পণ করে দেশের বিভিন্ন কোণ ফুল ও আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে। যেন সমস্ত দেশ এর সাথে সাথে প্রকৃতিও সেজে ওঠে বিভিন্ন রঙে। রামনবমী উৎসব উপলক্ষে আনন্দ অনুষ্ঠান চলে অনেকদিন যা ছোট থেকে বড় সকলের কাছে রামনবমী উৎসবকে আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, তাই সারা বছর ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন বহু মানুষ।

রামনবমীর তাৎপর্য  ১) ভগবান রামের ভক্তরা এটিকে অত্যন্ত শুভ দিন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তারা এই গোটা দিনটিতে ভগবান রামের কাহিনী শোনেন।২) এই দিনে রাম মূর্তির পূজা করা হয় এবং ভক্তরা নদী ও জলাশয়ে পবিত্র ডুব দেন।৩) ভক্তরা ভগবান রামকে সন্তুষ্ট করতে এবং তাঁর কাছে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য এই দিনে উপবাস করেন।৪) ভক্তরা ভগবান রামের কীর্তন এবং ভজনে নিজেকে জড়িত রাখেন।৫) ভগবান রাম ও তাঁর ভাইদের জন্মস্থান অযোধ্যাতে এই উৎসবটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সহিত উদযাপিত হয়। গোটা দেশের মন্দিরগুলি, এইদিনে বিশেষ পুজোর আয়োজন করে থাকে।

১) খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে নিন।

২) পরিষ্কার কাপড় পরুন এবং ভগবান সূর্যকে অর্ঘ্য (জল বা দুধের নৈবেদ্য) দিন।

৩) তুলসী পাতা, পদ্ম ফুল, চন্দন, গঙ্গাজল, ফুল, ধান বা চাল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পূজা সামগ্রী দিয়ে ভগবান রামের উপাসনা করুন।

৪) প্রভুর জন্য ফল এবং মিষ্টি নৈবেদ্য প্রস্তুত করুন।

৫) ভগবান রামকে হলুদ রঙের পোশাক অর্পণ করুন এবং তাঁর কপালে তিলক লাগান। আপনার পরিবারের সদস্যদের কপালেও এই তিলক লাগান।৬) পূজা শেষ হয়ে গেলে, প্রসাদ বিতরণ করুন।

এই বছর রাম নবমী 2024 কবে? Ram Navami Puja 17 April 2024 Wednesday Navami Muhurat Start 1:20 PM on 16 April 2024 Navami Muhurat End 3:20 PM on 17 April 2024 রাম নবমীর বাংলায় তারিখ রাম নবমী পূজা ১৭ এপ্রিল ২০২৪ বুধবার নবমী মুহূর্ত শুরু ১৬ এপ্রিল ২০২৪, দুপুর ১ঃ২০ টায় নবমী মুহূর্ত শেষ ১৭ এপ্রিল ২০২৪, দুপুর ৩ঃ২০ টায় 

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা