ঠাকুরের জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনার সন্ধান রইল প্রথম পর্বে

ঠাকুরের জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনার সন্ধান রইল প্রথম পর্বে

আজবাংলা   শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনের নানান দৈব ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রায় কমবেশি সকলেই সব ঘটনাই জানি আমরা, ঠাকুরের বিষয়ে। কিন্তু এমনও কিছু ঘটনার স্থান, কাল, কথা বা অমৃতবানী রয়ে গেছে, যেইগুলো হয়ত বাকি ঘটনার মত সামনে আসেনি।

আমরা এই প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে যে পাঁচটি ঘটনা তুলে ধরতে চলেছে, এই ঘটনাগুলি সেই অর্থে সকলের সামনে সমান ভাবে আসেনি। এমন অনেকেই আছেন যারা যারা কিছুটা জানেন আবার কেউ সবটা। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই বিস্ময়কর পাঁচটি ঘটনা।    

১} একবার মাতা চন্দ্রাদেবী শিব মন্দিরে গিয়েছিলেন পূজা দিতে। সেইসময় তিনি লক্ষ্য করেন, এক দিব্যজ্যোতি শিব ঠাকুরের মূর্তি থেকে নির্গত হয়ে প্রবেশ করছে তাঁর শরী‌রে। এই ঘটনার কিছুদিন পরেই গর্ভবতী হন চন্দ্রা দেবী। এই ঘটনা যখন ঘটে, তখন ক্ষুদিরাম ছিলেন গয়ায়। 

২} এটি ঠাকুরের ছেলেবেলার ঘটনা। তখন শিবরাত্রির সময়ে পাড়ার প্রতিবেশী সীতানাথ পাইনের বাড়িতে শিবের আগমনের অপর এক যাত্রা করা হচ্ছে। সেটি দেখতে ঠাকুরও গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন কারনবসত শিবের ভূমিকায় যে ছেলেটির অভিনয় করার কথা সে আসতে পারেনি।

শেষমেশ সকলের অনুরোধে শিবের ভূমিকায় অভিনয় করতে রাজি হল বাল্য গদাধর। শিবের সাজসজ্জা পরিহিত অবস্থায় মঞ্চে নামার হওয়ার পরে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বালক গদাই। একেবারে পরের দিন সকাল পর্যন্ত এরকমই তন্ময় অবস্থায় কাটে তার।

৩} ঠাকুরের বিয়ে দেবেন বলে মনস্থ করেছেন মা চন্দ্রাদেবী আর দাদা রামেশ্বর। কিন্তু পছন্দমতো পাত্রী আর পাওয়া যাচ্ছে না। শেষে ভাবাবিষ্ট ঠাকুরই একদিন বলে দিলেন, ‘‘জয়রামবাটী গ্রামের শ্রীরামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যে পঞ্চম বর্ষীয়া কন্যা, সেই আমার উপযুক্ত।’’ ঠাকুরের নির্দেশিত বাড়িতে খোঁজ করতেই সন্ধান মিলল সারদামণির।

৪} দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিত নিযু‌ক্ত হওয়ার পরে দেবীর দেখা না পেয়ে শ্রী রামকৃষ্ণ অস্থির হয়ে পাগল হয়ে যান। শেষে একদিন ঠিক করেন আত্মাহূতি দেবেন, এই ভেবে মায়ের হাতের খাঁড়াটির দিকে এগিয়ে যান। তখনই মায়ের দর্শন হয়। মায়ের দেখা পেয়েই আনন্দে অধীর হয়ে যান। এরপরেই জ্ঞান হারান।

৫} দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অন্যতম মথুর বিশ্বাস একবার রামকৃষ্ণের কাছে বলেন যে, ঠাকুরের যেমন ভাবসমাধি হয়, তেমনই ভাবসমাধির অভিজ্ঞতা লাভ করতে চান তিনিও। এরপর ঠাকুর বহুভাবে মথুরবাবুকে বিরত করার অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু মথুরবাবু হাল ছাড়েন না। অবশেষে ঠাকুর একপ্রকার বাধ্য হয়ে বলেন, ‘‘ঠিক আছে, মা-কে বলব, তিনি যা করার করবেন।’’

এর ঠিক কয়েকদিন পরেই সমাধিস্থ হয়ে যান মথু‌রবাবু। তাঁর চোখ থেকে অবিরল ধারায় ঝরতে থাকে জল। সেই অবস্থায় ঠাকুরকে দেখে তাঁর পা জড়িয়ে ধরেন মথুর। গদগদ কন্ঠে বলেন, ‘‘এ কী করলে গো ঠাকুর! আমার যে বিষয়কর্ম কিছুতেই মন বসে না আর। আমাকে মুক্তি দাও এ থেকে।’’ এরপর ঠাকুর হেসে জানিয়েছিলেন, ‘‘আগেই বলেছিলেম, ভাবসমাধি সকলের সয় না।’'

ঠাকুরের জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনার সন্ধান রইল শেষ পর্বে