দুবলারচরে হিন্দু দের রাসমেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ সরকার

দুবলারচরে হিন্দু দের রাসমেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ সরকার

সুন্দরবনের বাগেরহাটে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে দুবলারচরে প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ বা অগ্রহায়ণের শুরুতে শুক্লপক্ষের পূর্ণিমায় রাসমেলা বসে। সেখানে সব সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। প্রায় আড়াই শ বছর আগে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের শাসনামলে ওই মেলা চালু হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যাঁরা কৃষ্ণের অনুসারী তাঁরা এই দিনটি রাধা ও কৃষ্ণের বিহারের সময় হিসেবে ওই পূজা ও মেলা শুরু করেন।

তবে এই মেলার মাধ্যমে প্রকৃতি বন্দনাও হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিবছর নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সুন্দরবনের দুবলারচরে এই রাসপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর চলতি মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত এই মেলা হওয়ার কথা ছিল। তবে এবার নতুন ওই নির্দেশের ফলে মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে না। প্রতিবছর ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ ওই মেলায় অংশ নিতেন।

 সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সিদ্ধান্ত জারি করা হয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন ১০টি জেলার প্রশাসকদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সেখানে রাসপূজা ও পুণ্যস্নানের জন্য যেতে পারবেন। অন্য ধর্মের অনুসারীদের সেখানে যাওয়া সীমিত করা হয়েছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

সেখানে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় বিধায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নান চালু রাখা হবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে রাসমেলা ২০২১ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং এ সময়ে পুণ্যার্থী বা তীর্থযাত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।