সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পাঠ করুন হনুমান চালিশা, জেনে নিন এর মাহাত্ম্য

সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পাঠ করুন হনুমান চালিশা, জেনে নিন এর মাহাত্ম্য

হিন্দু ধর্মে ভগবানের উদ্দেশ্যে যে সব কাব্য আছে তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হনুমান চালিশা। শ্রী হনুমানের উদ্দেশ্যে এটি পাঠ করা হয়। প্রতি মঙ্গলবার| হনুমান চালিশা পাঠ করলে জীবনের সকল সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। অনেকে মনে করেন যে হনুমান চালিশা পাঠ করার মধ্যে এমন একটি শক্তি আছে, যা আমাদের চারপাশের নেগেটিভ শক্তিকে সরিয়ে পজিটিভ শক্তি ভরিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

মনে করা হয় ১৬শ শতকের সাধু ও কবি তুলসীদাস যিনি রামচরিতমানস রচনা করেছিলেন, তিনিই হনুমান চালিশা রচনা করেন। পুরানো নথি ঘেঁটে জানা যায় যে ৪০ অধ্যায়ের হনুমান চালিশা লেখার পিছেন একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। কথিত আছে, তুলসীদাস একদিন মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের দরবারে গিয়েছিলেন। সেখানে বাদশাহ তাঁকে আদেশ দেন যে তিনি শ্রী রামের সঙ্গে তাঁর দেখা করিয়ে দিন। এর উত্তরে কবি জানান যে ভক্তের ভক্তি ও বিশ্বাস শীর্ষে না পৌঁছালে শ্রীরামের দেখা পাওয়া সম্ভব নয়।

তুলসীদাসের এই উত্তরে ক্ষুব্ধ ঔরঙ্গজেব তাঁকে কারাদন্ডে দণ্ডিত করেন। অন্ধকার কারাগারে থাকার সময় তুলসীদাস হনুমানের সম্পর্কে যা অনুভব করেছিলেন, তাই তিনি লিখতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে লেখকের ভাবনায় শব্দের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। দেখতে দেখতে শব্দবন্ধ আরও বেড়ে যায়। জন্ম হয় এক শক্তি কুন্ডের, যার নাম হয় হনুমান চালিশা। কথিত আছে, হনুমান চালিশা সঙ্গে থাকার কারণে জেলখানায় থাকাকলীন তুলসীদাসের কোনও কষ্টই হয়নি।

নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে শরীর ও মন পরিশুদ্ধ হয়ে ওঠে। হনুমান চালিশা পাঠ করলে নেগেটিভ চিন্তাভাবনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিদিনই সকালে স্নান সেরে উঠে হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন। তবে এটি পাঠ করার জন্য সবথেকে ভালো দিন হল মঙ্গলবার। মঙ্গলবার রাতে ১০০৮ বার হনুমান চালিশা পাঠ করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া বৃহস্পতিবার এবং শনিবারও হনুমান চালিশা পাঠ করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী হনুমান চালিশা পাঠের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। শনির কুদৃষ্টির প্রভাব অনেকটাই কাটাতে সাহায্য করে হনুমান চালিশা পাঠ। শনির সাড়ে সাতি চললে প্রতি শনিবার আট বার করে হনুমান চালিশা পাঠ করুন। যাঁদের মঙ্গলের দশা চলছে বা যারা মাঙ্গলিক, তাঁরাও হনুমান চালিশা পাঠ করলে বিশেষ উপকার পাবেন। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী টানা ৪০ দিন ধরে সম্পূর্ণ ভক্তি ও বিশ্বাস সহকারে হনুমান চালিশা পাঠ করলে ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের সমান পূণ্য অর্জন হয়।