সংসারের সুখ, শান্তি ফিরে পেতে সমস্তরকম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পাঠ করুন শনিদেবের এই মন্ত্র

সংসারের সুখ, শান্তি ফিরে পেতে সমস্তরকম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে  পাঠ করুন শনিদেবের এই মন্ত্র

আজবাংলা     ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এবং বাংলাদেশের হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে শনিদেবের ছোটবড় মন্দির দেখা যায়, এবং সেখানে সপ্তাহান্তে শনিবার বড় ঠাকুরের সাপ্তাহিক পুজার্চনা হয়ে থাকে। এছাড়াও সারা ভারতে বেশকিছু বড় বড় শনি মন্দির ও তীর্থস্থান উল্লেখযোগ্য, যেমন তিরুনাল্লার শ্রী শনিশ্চর কোইল ,দেওনার-এর শনি দেবালয়ম, মহারাষ্ট্রের শনি-সিঙ্গাপুর মন্দির, তিতওয়ালার শনি মন্দির, মাদুরাই এর নিকটে কুচানুর-এর শনি মন্দির। 

শনি সনাতন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা যিনি সূর্যদেব ও তাঁর পত্নী ছায়াদেবীর পুত্র, এজন্য তাঁকে ছায়াপুত্র-ও বলা হয়। শনিদেব, মৃত্যু ও ন্যায় বিচারের দেবতা যমদেব বা ধর্মরাজের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।

মন্ত্র :ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ
অস্ত্র :তীর , ধনুক , ত্রিশূল , গদা
সঙ্গী :নীলাদেবী
বাহন :শকুন

শনিদেব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা যতই ভয়ভীতিমিশ্রিত হোক না কেন, মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় শনিদেবের পূজার্চনা করার বিধান আছে। সাধারনত শনিদেবের মন্দিরে অথবা গৃহের বাইরে খোলা জায়গায় শনিদেবের পূজা হয়। নীল বা কৃষ্ণগ বর্ণের ঘট, পুষ্প, বস্ত্র, লৌহ, মাষ কলাই , কালো তিল, দুগ্ধ, গঙ্গাজল, সরষের তেল প্রভৃতি বস্তু শনিদেবের ব্রতের জন্য আবশ্যিক। নির্জলা উপবাস বা একাহারে থেকে এই ব্রত পালন করতে হয়। 

শনিদেবের মূর্তিতে প্রতিদিন সামান্য সরষের তেল লাগিয়ে প্রণাম করলে তার অশুভ প্রভাব ও দোষ দূর হয়। তাছাড়াও প্রতিদিন সকালে এবং দুপুরে খেতে বসার সময় নিজের খাবার আগে যদি খাস সামান্য খাবার সরিয়ে রাখা হয় এবং পরে সেই খাবারটি যদি কাককে খাওয়ানো হয়, তাহলে শনিদেবের উৎকট প্রভাব থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব। তাছাড়াও গাই গরুকে কালো তিল আর গুড় শনিবার খাওয়ালে শনি দেব এবং মা ভগবতী দুজনেই প্রসন্ন হন। নীল এবং কালো রঙের পোশাক এর উপরে শনির কুদৃষ্টি থাকে। এই রঙের পোশাক বা এই রঙের বিছানার চাদর কিংবা জানালার পর্দা একদমই হওয়া উচিত নয়।

১। আপনি শনিদেবের আশীর্বাদ পেতে প্রতি শনিবার সকালে স্নানের সময় সূর্যের দিকে তাকিয়ে প্রনাম করে -'আম প্রাণ প্রেম প্রন সে শনিশ্চরায় নমহঃ' এই মন্ত্রটি পাঠ করতে পারেন। এর ফলে আপনার মধ্যে শুভ শক্তির বিকাশ ঘটে আর শনিদেব আপনার ওপর সন্তুষ্ট হন।

২। প্রতি শনিবার বড় ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জালিয়ে সন্ধ্যাবেলা 'শাজায়াম চ ভার্তিশানইয়াকতাম ভাহানিনা ইয়াজিতাম মায়া দীপাম গ্রিহান দেবাশন ত্রিলোকিয়া তিমিরা পাহাম!' এই মন্ত্রটি ১০৮ বার পাঠ করলে ভালো ফল অবশ্যই পাবেন। আপনার জীবন সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে।

৩। প্রতি শনিবার স্নানের পর 'আম শনিশ্চারায় ভিদমাহে ছায়াপুত্রায়া ধিমাহে তানো মান্দঃ প্রাচোদায়াত' মন্ত্রটি ১০৮ বার উচ্চারন করুন। দেখবেন আপনার অনেক মঙ্গল হবে আর আপনি আর্থিক দিক থেকে উন্নতি করবেন। এরপর আপনি পূর্ন ভক্তির সঙ্গে 'ওম শাম শানিশ্চারায় নমহঃ' মন্ত্রটি ১০৮ বার পাঠ করুন। দেখবেন আপনার জীবনে ভালো সময় নিশ্চই আসবে।

৪। প্রতি শনিবার আপনার সুবিধামতো যে কোন সময়ে 'ওম ত্রয়ম্বকম ইজামাহে সুগন্ধম পুষ্টি-বার্ধানাম উর্বারুকা মিভা বন্ধনাম মৃত্যুর মুকশো মামরাত' এই মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করুন। দেখবেন আপনার ওপর শনির সু-দৃষ্টি পড়বে। আপনার জীবন সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে।

নবগ্ৰহ স্তোত্ৰম্ 

ওঁ জবাকুসুমস্ঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধ্বান্তরিং সৰ্ব্বপাপঘ্নং প্ৰণতোহস্মি দিবাকরম্।। ১

দিব্য শঙ্খ তুষারাভ্যং ক্ষীরোদাৰ্ণব সম্ভবম্।
নমামি শশিনং ভক্ত্যা শম্ভোৰ্মুকুট ভূষণম্।। ২

ধৰণী গৰ্ভসম্ভুতং বিদ্যুত্পুঞ্জ সমপ্ৰভম্।
কুমারং শক্তিহস্তঞ্চ লোহিতাঙ্গং নমাম্যহম্।। ৩

প্ৰিয়ঙ্কুকলিকা শ্যামং রূপেণাপ্ৰতিমং বুধম্।
সৌম্যং সৰ্ব্বগুণোপেতং নমামি শশিনং সুতম্।। ৪

দেবতানামৃষীণাঞ্চ গুরুং কণকসন্নিভম্।
বন্দ্যভূতং ত্ৰিলোকেশং তং নমামি বৃহস্পতিম্।। ৫

হিমকুন্দমৃণালাভং দৈত্যানাং পরমং গুরুম্।
সৰ্ব্বশাস্ত্ৰ প্ৰবক্তারং ভাৰ্গবং প্ৰণমাম্যহম্।। ৬

নীলাঞ্জনচয় প্ৰখ্যং রবিসুত মহাগ্ৰহম্।
ছায়ায়া গৰ্ভসম্ভুতং বন্দো ভক্ত্যুা শনৈশ্চরম্।। ৭

অৰ্দ্ধকায়ং মহাঘোরং চন্দ্ৰাদিত্য বিমৰ্দ্দকম্।
সিংহিকায়াঃ সুতং রৌদ্ৰং তং রাহুং প্ৰণমাম্যহম্।। ৮

পলালধূমসঙ্কাশং তারগ্ৰহ বিমৰ্দ্দকম্।
রৌদ্ৰং রুদ্ৰাত্মকং ক্ৰুরং তং কেতুং প্ৰণমাম্যহম্।। ৯

ইতি ব্যাস মুখোদ্গীতং য পঠেত্ সুগমাহিতং।
দিবা বা যদি বা রাত্ৰৌ শান্তিস্তস্য ন সংশয়ঃ।।
ঐশ্বৰ্যমতুলং তেষামারোগ্যং পুষ্টিবৰ্ধনম্।
নর-নারী-প্ৰিয়ত্বঞ্চ ভবেদ্দুস্বপ্ননাশনম্।।
তক্ষকোহগ্নিৰ্যমো বায়ূৰ্যে চান্যে গ্ৰহপিড়কাঃ।
তে সৰ্বে প্ৰশমং যান্তি ব্যাসো ব্ৰুয়ান্ ন সংশয়ঃ।।

ইতি শ্ৰীব্যাসদেবভাষিতং নবগ্ৰহস্তোত্ৰম্ সমাপ্তম।।

 নবগ্ৰহ কবচম 

ব্ৰহ্মোবাচ

শিরো মে পাতু মাৰ্তণ্ডঃ কপালং রোহিণীপতিঃ।
মুখমঙ্গারকঃ পাতু কণ্ঠাঞ্চ শশিনন্দনঃ।।
বুদ্ধিং জীবঃ সদা পাতু হৃদয়ং ভৃগুনন্দনঃ।
জঠরঞ্চ শনিঃ পাতু জিহাং মে দিতি-নন্দনঃ।।
পাদৌ কেতুঃ সদা পাতু বারাঃ সৰ্বাঙ্গমেব চ।
তিথয়োহষ্টৌ দিশঃ পান্তু নক্ষত্ৰাণি বপুঃ সদা।।


অংসৌ রাশিঃ সদা পাতু যোগশ্চ স্থৈৰ্যমেব চ।
এতাং রক্ষাং পঠেদ্যস্তু অঙ্গং স্পৃষ্টব্যাপি বা পঠেত্।।
স চিরায়ুঃ সুখী পুত্ৰী যুদ্ধে চ বিজয়ী ভবেত্।
রোগী রোগাত্ প্ৰমুচ্যেত বদ্ধো মুচ্যেত বন্ধনাত্।।
শ্ৰিয়ঞ্চ লভতে নিত্যং রিষ্টিস্তস্য ন জায়তে।।
যঃ করে ধারয়েন্নিত্যং তস্য রিষ্টিৰ্ন জায়তে।


পঠানাত্ কবচস্যাস্য সৰ্বপাপাত্ প্ৰমুচ্যতে।।
মৃতবত্সা চ যা নারী কাকবন্ধ্যা চ যা ভবেত্।
জীববত্সা পুত্ৰবতী ভবত্যেব ন সংশয়ঃ।।

ইতি শ্ৰীযামলে নবগ্ৰহ-কবচং সম্পূৰ্ণম্।।

 শনি স্তোত্ৰম্ 

শ্ৰীশনৈশ্চরায় নমঃ। অস্য শ্ৰীশনৈশ্চরস্ত্ৰোত্ৰ মন্ত্ৰস্য দশরথ ঋষিঃ।
শনৈশ্চরো দেবতা ত্ৰিষ্টুপ্ ছন্দঃ শনৈশ্চরপ্ৰীত্যৰ্থং জপে বিনিয়োগঃ।।
দশরথ উবাচ
কোণোহন্তকো রৌদ্ৰযমোহথঃ বভ্ৰুঃ কৃষ্ণ শনি পিঙ্গলমন্দসৌরিঃ।
নিত্যং স্মৃতো যো হরতে চ পীড়াং তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ১
সুরাসুরাঃ কিম্পুরুষোরগেন্দ্ৰা গন্ধৰ্ববিদ্যাধর পন্নগাশ্চ।
সীদন্তি সৰ্বে বিষমস্থিতেন তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ২
নরা নেরেন্দ্ৰাঃ পশবো মৃগেন্দ্ৰা বন্যাশ্চ যে কীটপতঙ্গভৃঙ্গাঃ।
সীদন্তি সৰ্বে বিষমস্থিতেন তম্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ৩


দেশাশ্চ দুৰ্গাণি তথা বলানি সেনানিবাসাঃ পুরপত্তনানি।
সীদন্তি সৰ্বে বিষমস্থিতেন তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ৪
তিলৈৰ্যবৈৰ্মাষগুড়ান্নদানৌৰ্লহেন নীলাম্বর দানতো বা।
প্ৰীণাতি মন্ত্ৰৈৰ্নিজবাসর য স্তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ৫
প্ৰয়াগকূলে যমুনাতটে চ সরস্বতী পুণ্যজলে গুহায়াম্।
যো যোগিনাং ধ্যানগতোহতিসূক্ষ্ম স্তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ৬


যোহন্য প্ৰদেশাত্ স্বগৃহং প্ৰবিষ্টস্ত্বদীয়বারে স নরঃ সুখী স্যাত্।
গৃহদ্গতো যো ন পুনঃ প্ৰয়াতি তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ৭
স্ৰষ্টা স্বয়ম্ভুৰ্ভুবনত্ৰয়স্য পাতা হরিঃ সংহরতে পিণাকী।
একস্ত্ৰিধা ঋগ্যজুঃসামমূৰ্তি স্তস্মৈ নমঃ শ্ৰীরবিনন্দনায়।। ৮
শন্যষ্টকং যঃ প্ৰযতঃ প্ৰভাতে নিত্যঃ সপুত্ৰৈঃ পশুবান্ধবৈশ্চ।লভেচ্চ সৌখ্যং ভুবি ভোগযুক্তঃ প্ৰাপ্নোতি নিৰ্বাণপদং তদন্তে।। ৯
কোণোহথ পিঙ্গলো বভ্ৰুঃ কৃষ্ণো রৌদ্ৰোহন্তকো যমঃ।সৌরিঃ শনৈশ্চৰো মন্দঃ পিপ্পলাদেন সংস্তুতঃ।। ১০
এতানি দশনামানি প্ৰাতরূত্থায় যঃ পঠেত্।
শনৈশ্চরকৃতা পীড়া ন তস্য ভবতি ক্কচিত্।।

ইতি শ্ৰীদশরথকৃত শ্ৰীশনৈশ্চর স্তোত্ৰং সম্পূৰ্ণম্।।

শ্ৰীশনৈঃ কবচম্

দেব্যুবাচ
কবচং বহুধা গীতং গ্ৰহাণাং দেব ভৈরব।
ইদানীং শ্ৰোতুমিচ্ছামি শনেঃ কবচমুত্তমম্।।
সৰ্বতন্ত্ৰেষু দেবেশি গোপিতং পরমাদ্ভূতম্।
কবচং দুৰ্লভং লোকে তব স্নেহাত্ প্ৰকাশিত্ম।।
অস্য শ্ৰীশনেঃ কবচস্য গৌতম ঋষিৰ্বিরাট্ ছন্দঃ
শনৈশ্চরো দেবতা আপদুদ্ধারণে বিনিযোগঃ।।
ওঁকারো মে শিরঃ পাতু ঐংকারঃ কণ্ঠেদেশকে।


হ্ৰীং মে হৃদি সদা পাতু শ্ৰীং মে পাতু সদা মুখম্।।
ওঁ ঐং হ্ৰীং শ্ৰীং শনৈশ্চরঃ পাতু মে সৰ্বতঃ স্থিতম্।
ইতি য কবচং পুণ্যং ধারয়েদ্দক্ষিণে ভুজে।।
কণ্ঠে বা পরমেশানি সৰ্বত্ৰ বিজয়ী ভবেত্।
চিরজীবী ভবেন্নিত্যমরোগী নাত্ৰ সংশয়ঃ।।
তস্য তুষ্টঃ সদা সৌরিঃ পঠেদযঃ সুসমাহিতঃ।
শনৈশ্চরকৃতা পীড়া নাস্তি তস্য কদাচন।।

ইতি শনৈঃ কবচম্ সমাপ্তম্।।