তৃণমূলের আশঙ্কা বাড়িয়ে শুভেন্দুর পদযাত্রায় দুই তৃণমূলের বিধায়ক

তৃণমূলের আশঙ্কা বাড়িয়ে শুভেন্দুর পদযাত্রায়  দুই  তৃণমূলের বিধায়ক

খেজুরিতে ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই মিছিলে শুভেন্দু তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কোনও বার্তা দেননি। সেটা দেওয়ার কথাও ছিল না। কামারদার সভায় শুভেন্দু বক্তৃতা করেছেন। কিন্তু সেখানেও তাঁর বক্তব্যে কোনও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ আসেনি। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করি।

এই শান্তি, এই গণতন্ত্র, এই বাক স্বাধীনতা চিরস্থায়ী হোক। আমি ২০১০-এ এসেছিলাম। ২০১১ থেকে ২০১৯-এও এসেছিলাম। আমি আপনাদের পাশে সর্বদা এভাবেই থাকতে চাই। আজ বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ শুরু হল শুভেন্দু অধিকারীর এই পদযাত্রার অনুষ্ঠান। পদযাত্রা চলাকালীন এলাকায় ছোলা ও বাতাসা বিতরণ করলেন শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা।

এভাবে শাসকদলের দুজন বিধায়ক রঞ্জিত মন্ডল ও বনশ্রী মাইতিকে খেজুরিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে দেখে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে গেল শাসকদল তৃণমূল। কারণ আগামী দিনের শুভেন্দু অধিকারী কী করতে চলেছেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে তৃণমূলের।

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে বেশকিছু বিধায়ক দল ছাড়তে পারেন, এমন একটা আশঙ্কার কথা কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল। সেই আবহে ২ জন তৃণমূল বিধায়কের শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পদযাত্রায় অংশগ্রহন যথেষ্ট তাত্‍পর্যপূর্ণ বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে শাসকদল তৃণমূলে ক্রমশই বাড়ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিভাজনের আশঙ্কা বাড়ছে দলে। সোমবারই শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের একপ্রস্ত আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনা ‘অমীমাংসিত’ রয়েছে বলেই সূত্রের খবর। শাসক দল তৃণমূলের মধ্যে যখন বাড়ছে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব।

জেলায় জেলায় যখন দেখা যাচ্ছে শাসক দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ছবি। সেই পরিস্থিতিতে গতকাল পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল নেতা পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। গতকাল সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ খান তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হলেন সিরাজ খান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, স্বচ্ছতার সঙ্গে দফতরে কাজ করতে পারছেন না তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খাদ্য দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিকের দুর্নীতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন তিনি। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সিরাজ খান জানিয়েছেন যে, যে দলে গেলে জনগণের জন্য তিনি ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন, সে দলে চলে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এভাবে দলবদলের জল্পনাকে বাড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এই নেতা। এদিকে কিছুদিন ধরেই তার দলবদলের কানাঘুষা চলছে। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সঙ্গে তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে শাসক দল তৃণমূল।

এ