চন্দন গাছের চাষ

চন্দন গাছের চাষ

চন্দন এমন একটা গাছ যে গাছ শুধু সুগন্ধ ছড়ায় না, যারা চাষ করেন, তাদেরকে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা এনে দেয়। সুগন্ধ এবং ঔষধি গুণ এর কারণে এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি। চাষ এর বিশেষত্ব হলো এটি আপনি পুরো ক্ষেতে লাগাতে পারবেন এবং চাইলে ক্ষেতের কোণায় কোণায় লাগিয়ে দিতে পারবেন এবং ক্ষেতের মাঝখানে অন্য কিছুও চাষ করতে পারবেন। তথ্য অনুযায়ী মনে করা হয় চন্দনের একটি গাছ থেকে আপনি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

এক একরে আপনি ৬০০টি চন্দন গাছ লাগাতে পারবেন। যদি আপনি ৬০০টি গাছ লাগান তাহলে আপনি ১২ বছরে ৩০ কোটি টাকা আয় করতে পারবেন।  চন্দন চাষ করতে গেলে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মাথায় রাখতে হবে, সেটি হল যে চন্দনের চাষে বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ কারণে চন্দনের গাছ নীচু এলাকায় ভাল করে বেড়ে ওঠে না। আরেকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে, চন্দনের গাছ কখনও একা লাগানো উচিত না।

চন্দনের গাছের পাশে অন্য কোন হোস্ট গাছ লাগিয়ে দিতে হবে। হোস্ট গাছ লাগানো কেন জরুরি? বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হোস্ট প্রয়োজন হয় কারণ হোস্টের চারা শিখর যখন চন্দনের গাছের শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন চন্দনের বিকাশ খুব তাড়াতাড়ি হয়। চন্দনের চারা ৪-৫ ফিট দূরত্বে হোস্টের গাছ লাগানো যেতে পারে। চন্দন গাছের কোনও নির্দিষ্ট সময়ের দরকার নেই।

যে কোনও সময় লাগানো যেতে পারে। শুধু এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, যখন আপনি চন্দনের গাছ লাগাবেন, তখন তার চারার বয়স যেন আড়াই বছর হয়। চন্দন গাছ লাগানোর পরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সঙ্গে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে গাছের কাছে জল না জমে। বর্ষার সময়ে চন্দন গাছ এর আশপাশে যাতে জল জমে না যায় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সেখানে চন্দন গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু করে দিতে পারেন এতে জল না জমে।

চন্দনের গাছে সবচেয়ে বেশি দামের কাঠ পাওয়া যায়। একটা গাছ থেকে কৃষক আরামে ১৫ থেকে ২০ কেজি কাঠ পেতে পারে। ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় কিনতে পারবেন চন্দনের চারা। সেখানে এটি লাগানোর পরে হোস্ট চারার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা হবে। চন্দনের চারা লাগানোর আট বছর পর্যন্ত এটি কোন রকম বাইরের সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু যখনই চন্দনের গাছ পাকতে শুরু করে এর গন্ধ বাইরে ছড়াতে থাকে। তখন চন্দনের গন্ধে অন্য জন্তু-জানোয়ার এমনকী সাপ আসে। তখন এটি ঘেরোটোপের মধ্যে রাখতে হয়। চন্দন কেনা এবং বিক্রি করার জন্য সরকারের অনুমতি নিতে হয় এবং আপনি এটি উৎপাদন করে সরকারের কাছে সরাসরি বেচতে পারবেন। ২০১৭ সালে তৈরি হওয়া নিয়ম অনুযায়ী চন্দনের চাষ যে কেউ করতে পারে। কিন্তু চন্দনের এক্সপোর্ট শুধু সরকারই করতে পারবে। সুতরাং আপনার বিক্রি করা নিয়ে চিন্তা নেই। সরকারই সরাসরি আপনার চন্দন কিনে নেবে।

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা