ইতিহাসে শনিবার | Saturday

ইতিহাসে  শনিবার | Saturday

 জ্যোতিষ শাস্ত্রের আলোকে  Saturday শনিবার শনি গ্রহের সাথে সম্পর্কিত ভারতবর্ষেও প্রাচীন হিন্দু জ্যোতিষীরা দেবতাদের নামে গ্রহের নাম আর গ্রহের নাম অনুসারে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের নাম রেখেছেন। ধারণা করা হয়, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শতাব্দীতে গুপ্ত শাসনামলে এই নামকরণ করা হয়। সংস্কৃত ভাষায় বারের নামগুলো হলো, শনি> আদিত্য (সূর্য বা রবি) > সোম (চাঁদ)> মঙ্গল> বুধ> বৃহস্পতি> শুক্র শনি: হিন্দু পুরাণ মোতাবেক শনি  এক   দেবতা।

শনির কুদৃষ্টি খারাপ ফল বয়ে নিয়ে আসে। সে মূলত সূর্য ও তার স্ত্রী ছায়ার সন্তান।  প্রাচীনযুগে এই নিয়মের সপ্তাহের দিনগুলোর ক্রমধারা ঠিক করা হয়েছিলো, আজ অবধি সেই নিয়ম চালু আছে।  এই নামগুলোর উৎপত্তি ঠিক কোন ভাষা হতে, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন মত দেখা যায়। তবে, প্রধান মতটি হচ্ছে, ইংরেজি এই বারগুলোর নাম এসেছে স্যাক্সনদের কাছ থেকে। স্যাক্সন হলো একটি জার্মানীয় জাতি, যারা প্রাচীন জার্মানির উত্তরাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে বসবাস করতো।

পরে এরা ইংল্যান্ডের একটি বড় অংশ অধিকার করে নেয়। এই জাতির ভাষা ও সংস্কৃতি থেকেই হাল আমলের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের উদ্ভব। এই স্যাক্সন জাতিগোষ্ঠী বিভিন্ন দেব-দেবীর নামে সপ্তাহের সাতটি বারের নাম রাখে। ইংরেজি ভাষার পুরোটাই প্রায় গড়ে উঠেছে এই স্যাক্সন জাতির ভাষা থেকে। ইংরেজি সাতটি দিনের নামও সেখান থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।

তবে, শনিবারের যে ইংরেজি রূপ মানে Saturday, সেটি স্যাক্সন ভাষায় এই রূপটি পাওয়া যায়নি। এবার জেনে নেয়া যাক স্যাক্সনরা এই নামগুলো কীভাবে রাখলো বা কোত্থেকে পেলো। আগেই বলেছি, স্যাক্সনরা হলো আদিতে জার্মানিক জাতিগোষ্ঠী। তো এই স্যাক্সন বা জার্মানিক জাতিগোষ্ঠী মূলত রোমকদের স্থলাভিষিক্ত, বা বলা যায় তাদের উত্তরকালের জাতি। এরা রোমকদের কাছ থেকে সপ্তাহের সাত বারের নাম জেনেছে এবং প্রত্যেকটি বারের নামের ক্ষেত্রে রোমান দেবতার নামের জায়গায় নিজ নিজ অনুরূপ দেবতার নাম বসিয়েছে।

রোমক ভাষাতে সপ্তাহের সাতটি দিনের নাম রোমান দেবতাদের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই দেবতাগুলো স্যাক্সন ভাষার দেবতাদের অনুরূপ। ফলে সাতটি বারের নামের মধ্যে এক অদ্ভুত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। আমরা যে বলছিলাম ইংরেজি ‘Saturday’ নামটির উৎসমূল স্যাক্সন ভাষায় পাওয়া যায়নি, সেটি আসলে রোমান ভাষা থেকেই নেওয়া হয়েছে।  এবার আরেকটু পিছিয়ে যাই। রোমানরা কেন এ ধরনের নাম রাখলো, সেই সূত্র খুঁজতে গেলে এবার গ্রিসে যেতে হবে। গ্রিকরা মূলত বিভিন্ন দেব-দেবীর নাম অনুসারে সপ্তাহের সাতটি দিনের নাম রেখেছে।

আর এই গ্রিক পুরাণের এই দেব-দেবীরা যে যে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেসব বিষয়ে রোমানরা আবার যেসব দেবতায় বিশ্বাসী, সেই সব দেবতার নাম প্রতিস্থাপন করে নিজেদের সাতটি দিনের নামকরণ করেছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, গ্রিক জাতির লোকেরা বিভিন্ন ঐশ্বরিক সত্ত্বার নামে সাত বারের নাম রেখেছিলো। সেই গ্রিক ঐশ্বরিক সত্ত্বারা কিন্তু আবার পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান (তখন পর্যন্ত যেগুলোকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা গেছে আরকি) বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক দ্বারা সংকেতায়িত। 

Saturday: Saturn’s Day বা স্যাটার্নের দিন। স্যাটার্ন হলেন রোমান দেবতা যিনি খুশি হলে ভালো ফসল দেন কৃষকদেরকে। গ্রিক ভাষায় অনুরূপ দেবতা হলেন ক্রোনাস। অ্যাংলো-স্যাক্সন ভাষায় এই নামের কোনো প্রতিশব্দ পাওয়া যায়নি। ইংরেজিতে Saturday নামটি সরাসরি রোমান থেকে আত্তীকরণ করা হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাষায়, এ দিনকে বোঝাতে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তার অর্থ ‘স্নানবার’। সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা সপ্তাহের শনিবারে কেবল স্নান করতো, এজন্যই হয়তো এমন নাম।  

পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল যে ইংরেজি নামটি স্টেরে(Sætere) নামক একটি দেবতাকে বোঝায় যিনি উত্তর-পশ্চিম জার্মানির প্রাক-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দ্বারা উপাসিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন অ্যাংলো-স্যাক্সনসের পূর্বপুরুষ ছিলেন। স্টেরেকে সম্ভবত স্লাভ উত্সের ফসলের সাথে সম্পর্কিত ঈশ্বর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বা ভাল এবং মন্দ উভয়ের সাথেই যুক্ত একজন জটিল দেবতা লোকির অন্য নাম ছিলো স্টেরে; এই পরবর্তী পরামর্শটি জ্যাকব গ্রিমের কারণে হতে পারে। তবে, আধুনিক অভিধান Saturn বা শনি থেকে নামটি পেয়েছে।

জাপানি ভাষায় শনিবারকে বলা হয় 土曜日 (দোয়বি), যার অর্থ 'মাটির দিন' এবং এর সাথে জড়িত শব্দ হল 土星 (ডোজি): শনি (গ্রহ), যার আক্ষরিক অর্থ "মাটির তারা"। একইভাবে, কোরিয়ান ভাষায় শনিবার শব্দটি হলো 토요일 (থো ইও ইল), যার অর্থ পৃথিবীর দিন। বস্তুগত পৃথিবী চিনা জ্যোতিষশাস্ত্র এবং দর্শনে শনি গ্রহের সাথে সম্পর্কযুক্ত।  আন্তর্জাতিক মানদন্ড আইএসও ৮৬০১ অনুযায়ী শনিবার সপ্তাহের ৬ষ্ঠ দিন। তিনটি ইব্রাহিমীয় ধর্মে (ইসলাম, ইহুদী ধর্ম ও খ্রিস্ট ধর্ম) শনিবার সপ্তাহের সপ্তম দিন। ফলে অনেকে আইএসও ৮৬০১ মানদন্ড মানতে নারাজ এবং শনিবার সপ্তাহের সপ্তম দিন হিসেবে মানতে শুরু করেন।