ব্যক্তিগত ফোননম্বরে গোপনে নজরদারি | শিরোনামে ইজরায়েলের পেগাসাসের নাম

ব্যক্তিগত ফোননম্বরে গোপনে নজরদারি |  শিরোনামে ইজরায়েলের পেগাসাসের নাম

ভারতবর্ষে ৩০০ ব্যক্তিগত ফোননম্বরের উপর চলছিল গোপন নজরদারি! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এল বিশ্বমিডিয়ার এক অন্তর্দন্তে। যে তদন্তে ভারত ছাড়াও বিশ্বের তাবড় তাবড় সংবাদমাধ্যম রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান। আর এই বিশ্বজুড়ে চলা অন্তর্তদন্তে এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে নেতৃত্বে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং প্যারিসের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংবাদমাধ্যম ফরবিডেন স্টোরিস। ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও বিশ্বের আরও ১৬টি মিডিয়া হাউস এই অন্তর্তদন্তে সামিল হয়েছিল।

দাবি করা হয়েছে, পেগাসাস নামে একটি স্পাইওয়ার অ্যাপ যা সাধারণত জঙ্গি কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালাতে বা মিলিটারি ইনটেলিজেন্সের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেই অ্যাপ দিয়ে এই গোপন নজরদারি চলছিল। ইজরায়েলের এনএসও বলে একটি সংস্থা পেগাসাস বলে এই স্পাইওয়ারের নির্মাতা সংস্থা এবং এই অ্যাপটিকে মিলিটারি ইনটেলিজেন্সের লাইসেন্সও দিয়েছে ইজরায়েল সরকার।

এই চাঞ্চল্যকর মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মোট পঞ্চাশ হাজার ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। এই ফোন নম্বরগুলি বিশ্বজুড়ে এমনকিছু দেশের যেখানকার সরকার কোনও না কোনও সময়ে নাগরিক অথবা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা অথবা সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের উপরে গোপন নজরদারির জন্য অভিযুক্ত হয়েছে।

এমনকী এই দেশগুলির মধ্যে বেশকিছু দেশের সরকার আবার পেগাসাস অ্যাপ-এর নির্মাতা সংস্থা এনএসও-র কাছ থেকে মিলিটারি ইনটেলিজেন্সির প্রযুক্তি কেনার গ্রাহক। মিডিয়ার অন্তর্তদন্তে দাবি করা হয়েছে, পঞ্চাশ হাজার যে ফোন নম্বর তালিকা পেগাসাস অ্যাপের লিকড ডেটায় সামনে এসেছে সেখানে অন্তত ৩৭টি এমন সেলফোন নম্বর রয়েছে যার উপরে গোপন নজরদারি চালানোর একদম যথাযথ প্রমাণ রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট-সহ বিশ্বের ১৭টি মিডিয়ার চালানো এই অন্তর্তদন্তের রিপোর্টে এও দাবি করা হয়েছে যে, যে ৩৭টি নম্বরের উপরে নিশ্চিতভাবে গোপন নজরদারি হয়েছে- তারমধ্যে বেশকিছু নম্বর সিনিয়র সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, বিজনেস এক্সিকিউটিভস রয়েছেন। এর বাইরেও এমন দুজন মহিলার নম্বর এই ৩৭টি নম্বরের তালিকাতে রয়েছে যারা সৌদি আরবের খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাসোগ্গি-র সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

 ভারতের একটি সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টাল, যারা এই অন্তর্তদন্তের শরিক ছিল, তারা এমনও দাবি করেছে যে ইজরায়েলের স্পাইওয়ার পেগাসাসের মাধ্যমে দেশের অন্তত ৩০০ নম্বরের উপরে গোপন নজরদারি চলছিল। এর মধ্যে ৪০টি নম্বর হয় কোনও সিনিয়র সাংবাদিক অথবা মানবাধিকার কর্মী অথবা সরকারি আধিকারিকের। এমনকী যে সব সিনিয়ার সাংবাদিকের নম্বরে গোপন নজরদারি চালানো হচ্ছিল তারা হিন্দুস্তান টাইমস, নিউজ ১৮, দ্য হিন্দু এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো প্রোথিতযশা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছে এই নিউজ পোর্টাল।

ইন্ডিয়া টুডে-র এক্সিকিউটিভ এডিটর শিশির গুপ্তও এই নজরদারির তালিকায় ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টে ঠিক কি বলা হয়েছে? দাবি করা হয়েছে, যে নম্বরগুলোর উপরে গোপনে নজরদারি চলছিল সেগুলো থেকে তথ্য বের করার জন্য হয় হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল অথবা পেগাসাস অ্যাপ দিয়ে তাতে ভার্চুয়াল হামলা চালানো হয়েছিল। পেগাসাস দিয়ে ১০টি ভারতীয় নম্বরে যে নজরদারি চলেছে তা ফরেনসিক পরীক্ষায় সামনে এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে মিডিয়া রিপোর্টে। যদিও, অ্যাপ-এর নির্মাতা সংস্থা এনএসও এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

তারা সাফ জানিয়েছে, তাদের তৈরি এই অ্যাপ কোনওভাবেই বিশিষ্ট সম্মানিয় ব্যক্তিদের উপর নজরদারি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়নি। এনএসও এমন দাবি করেছে যে সব দেশ এই মুহূর্তে পেগাসাস ব্যবহার করছে তাতে কেউ এর অপপ্রয়োগ করছে না। তবে যে পঞ্চাশ হাজার নম্বরের কথা সামনে আসছে তা অন্য কোনও কারণে তাদের গ্রাহক দেশগুলির সরকার ব্যবহার করলেও করতে পারে বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এনএসও। ভারতীয় নিউজ পোর্টাল যারা এই অন্তর্তদন্তের সঙ্গে জড়িত তাদের দাবি যে সব সাংবাদিকের নম্বর এতে রয়েছে তারা সকলেই দিল্লিতে সাংবাদিকতা করেন।