দিল্লিতে শুভেন্দু, নিশীথ অর্জুন সৌমিত্রকেও জরুরি তলব শীর্ষ নেতৃত্বের

দিল্লিতে শুভেন্দু, নিশীথ অর্জুন সৌমিত্রকেও জরুরি তলব শীর্ষ নেতৃত্বের

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু । বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গেও তিনি দেখা করেন এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসা সহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর।

শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি গিয়েছেন গতকাল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি। এই সফর নিয়ে যখন বাংলার রাজনীতিতে চর্চা অব্যাহত ঠিক তখনই আজ আবার দিল্লি গেলেন রাজ্য বিজেপির তিন সাংসদ। সূত্রের খবর, কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং এবং বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে আচমকাই দিল্লিতে তলব করেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

কেন এই তলব তার কারণ অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী যখন দিল্লিতে আছেন, হতে পারে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে আলোচনা করেই ডাকা হয়েছে তিন জনকে। কিন্তু কেন এই তিন জন? মনে করা হচ্ছে, রাজ্য বিজেপিতে এই তিনজনই আপাতত সংগঠন থেকে উঠে আসা নেতা। আর ভোটে বিপর্যয়ের পর গেরুয়া দল যে সংগঠনকে জোরদার করতে চাইছে তা আগেই স্পষ্ট হয়েছে। একটা সময় সৌমিত্র খাঁ যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। বাঁকুড়ায় জেলা সংগঠনে রীতিমতো দাপট ছিল তাঁর।

এমনকি লোকসভা নির্বাচনের সময় আদালতের নির্দেশে নিজের এলাকায় ঢুকতে না পারলেও তাঁর জয় আটকায়নি। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অর্জুন সিংয়ের সাংগঠনিক প্রতাপ সকলেরই জানা। হুগলি নদীর ওপারেও দাপট রয়েছে তাঁর। কোচবিহারের নিশীথ প্রামাণিকের সম্বন্ধে তো অনেকে বলেন, সংগঠনই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। গোটা কোচবিহারকে হাতের তালুর মতোই চেনেন তিনি। সাংগঠনিক কাজে পারদর্শী এই তিন নেতাকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে ডেকে পাঠাল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। গেরুয়া দলের সংগঠনে যে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে,

তার পরিপ্রেক্ষিতে এই তলবের তাত্‍পর্য রয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সর্বভারতীয় বিজেপির এক নেতার কথায়, যে কোনও নির্বাচনের পরই জয়ী বা পরাজিত দলে সাংগঠনিক বদলের সম্ভাবনা থাকে। যাঁরা সাংগঠনিক সাফল্য দেখাতে পারেন তাঁরা পুরস্কার পান। যাঁরা ব্যর্থ হন, তাঁদের সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয় সংগঠনে। ফলে তৃণমূলে যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান হয়েছে, বিজেপিতেও তেমনই বদল অনিবার্য। সেটা কবে, কখন, কীভাবে হবে সেটা দল স্থির করবে।কাকতালীয় ভাবে শুভেন্দু দিল্লিতে থাকাকালীনই সেখানে গিয়েছেন রাজ্য বিজেপি-র ‘বিক্ষুব্ধ নেতা’ হিসাবে পরিচিত তথাগত রায়। মঙ্গলবার তিনিও নড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সময়ে শুভেন্দু, তথাগত, অর্জুন, নিশীথ ও সৌমিত্রর দিল্লিতে থাকা কি একেবারেই সমাপতন না এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে বিজেপি-তে।