রাজ্যে চলতে থাকা যাবতীয় জল্পনা রেখেই শুভেন্দু বললেন দল আমাকে তাড়াননি, আমিও ছাড়িনি

রাজ্যে চলতে থাকা যাবতীয় জল্পনা রেখেই  শুভেন্দু বললেন  দল আমাকে তাড়াননি, আমিও ছাড়িনি

করোনা থেকে ঘূর্ণিঝড় প্রতি ক্ষেত্রেই আমি মানুষের মধ্যে থেকেছি। চলে যাইনি। আমি এখনও একটি দলের প্রাথমিক সদস্য, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। রামনগরের সভায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর। এদিন সমবায় সপ্তাহ পালনের মঞ্চও ছিল কার্যত অরাজনৈতিক। এই মঞ্চেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান খোলসা করলেন না শুভেন্দু।

উল্টে সংবাদমাধ্যমের একাংশকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটা দলের প্রাথমিক সদস্য। আমি একটা মন্ত্রিসভার সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী রেখেছেন। আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি আবার আমিও দল ছাড়িনি’।বেশ কয়েক মাস তৃণমূলে সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে একাকী সভা করতে দেখা করতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দলীয় ব্য়ানার ছাড়াই। আবার, 'আমরা দাদার অনুগামী's বলেও তাঁর সমর্থনে পোস্টার পড়েছিল রাজ্য়ের বিভিন্ন জায়গায়।

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সহ নদিয়াতে সমাজকর্মীর ব্যানারে শুভেন্দু সমর্থনে পোস্টার পড়েছিল। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি বিজেপিতেও তাঁর গুরুত্ব বাড়ছিল। ভারতী ঘোষ থেকে সায়ন্তন বসু তাঁকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করছেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে।

কিন্তু সব জল্পনাই জল ঢাললেন শুভেন্দু অধিকারী নিজেই।পাশাপাশিই শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘দল করতে বিভিন্ন কারণে গেলে বিভেদ আসে। বিভেদ থেকে বিচ্ছেদও আসে। কিন্তু যতক্ষণ মন্ত্রিসভায় আছি বা দলে আছি, ততক্ষণ কোনও রাজনৈতিক কথা বলা যায় না। আমি সেটা বলতে পারি না।’’ সে কথা বলার আগেই শুভেন্দু বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘‘ওটা পেশার মতো করিনি। নেশার মতো করেছি।’’   বস্তুত, রামনগরের সভায় শুভেন্দুর বক্তব্য শুনে তৃণমূলের অনেকে মনে করছেন, আলোচনা প্রক্রিয়া এখনও জারি থাকার কারণেই তিনি ওই সভা থেকে সুর চড়ালেন না।

কিন্তু একইসঙ্গে বলে দিলেন, ‘যতক্ষণ’ মন্ত্রিসভায় এবং দলে আছেন, ‘ততক্ষণ’ তিনি দল বা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না। এমনকি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে অধিকারী পরিবারের ঘোষিত বিরোধী অখিল গিরি সম্পর্কে কোনও আক্রমণাত্মক কথাও বলেননি শুভেন্দু। বরং বলেছেন, তাঁকে দল তাড়ায়নি। মুখ্যমন্ত্রীও তাড়াননি। তিনিও দল ছাড়েননি। তৃণমূলের একটি অংশ অবশ্য মনে করছে, ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু তাঁর দলবদলের যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন।

আগামী বিধানসভা ভোটে তিনি তৃণমূলের হয়েই লড়বেন। যদিও পোড়খাওয়া রাজনীতিকরা বলছেন, ওই বিষয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি। দলের কাছে শুভেন্দু শর্ত বা শর্তাবলি রাখতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তেমনকিছু হলে তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নেবেন কি না, তা-ও দেখার। যদিও অখিল সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘শুভেন্দু দলে থাকলেন কি গেলেন, তা নিয়ে দলের কিছু যাবে-আসবে না।’’