মুকুলের বিধায়ক পদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্যেকে স্বাগত জনালেন শুভেন্দু

মুকুলের বিধায়ক পদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্যেকে স্বাগত  জনালেন শুভেন্দু

কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্যের পর উল্লসিত বিজেপি। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মুকুলের বিধায়ক পদের বৈধতা নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্ত নিতে বলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরেই টুইট করে প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, ‘ন্যায়ের জয় হল। ভারতের মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ মুকুল রায়ের দলত্যাগের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য মাননীয় স্পিকারকেও ছেড়ে দেয়নি। ২০১১ সালের পর প্রথমবার যখন পশ্চিমবঙ্গে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। নতুন বিধানসভা গঠিত হওয়ার প্রায় একমাস পরেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন মুকুল রায়। যা নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গত দুটি বিধানসভায় দলত্যাগ নিয়ে শুনানি করে গেলেও এই অধ্যক্ষই কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।

এদিন সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ই সদস্যপদ খারিজের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বিচারপতি এল নাগেশ্বরা এবং বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চে দুটি আলাদা আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি হয়। একটি আবেদন করেছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ এবং সচিব আর অপরটি করেছিলেন বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার।  শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০১১ সাল থেকে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস থেকে ৫০ জনের বেশি বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু একাধিকবার শুনানি হলেও, তাদের বিধায়ক পদ খারিজ হয়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর আমরা সুবিচার পাব।’’

প্রসঙ্গত, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র ও আব্দুল মান্নানও একাধিক বিধায়কের দল ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রাক্তন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও বিধায়কদের দলত্যাগ নিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই পথেই মুকুলের দলত্যাগের পর স্পিকারের কাছে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন করেছিলেন শুভেন্দুও। তিন মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলে, তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে বিষয়টি নিয়ে স্পিকার সুপ্রিম কোর্টে যান।

সেখানেই স্পিকারকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। স্পিকার বলেছেন, ‘‘আইন প্রক্রিয়াকে আমরা সব সময়ই সম্মান করে এসেছি। বিধায়কপদ খারিজের যে বিষয়টি রয়েছে, তা আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।’’ এদিন সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পরেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী টুইট করে বলেছেন, ন্যায়বিচারের জয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে তিনি ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ মুকুল রায়ের সদস্যপদ বাতিল নিয়ে অযথা বিলম্ব করছেন বলে ফের একবার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ২০১১ সালের পরে প্রথমবার দলত্যাগের আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।