তৃণমূল কংগ্রেস উপর ক্ষুব্ধ সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী দেখা করলেন রেজ্জাক মোল্লার সঙ্গে

তৃণমূল কংগ্রেস উপর  ক্ষুব্ধ  সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী  দেখা করলেন  রেজ্জাক মোল্লার  সঙ্গে

আজবাংলা     মৌলবাদীদের বিশ্বাস অর্জন করা ও তাদের হাতে রাখার জন্যই অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ফ্রন্টের (এইইউডিএফ) নেতা তথা জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি সিদিকুল্লা চৌধুরীকে মন্ত্রিসভায় সামিল করার সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই সিদিকুল্লা চৌধুরীই এখন বেশ ক্ষুব্ধ।সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রশ্নে তাঁরা বরাবর সরব। সিরিয়া থেকে সিউড়ি, গাজা থেকে গলসি— ঘটনা ঘটলেই তাঁরা প্রতিবাদে মুখর হন।

বীরভূমের যাত্রা মাদ্রাসায় জমিয়েতের একটি কর্মসূচি যোগ দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা। কর্মসূচি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রতর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য।পঞ্চায়েত নির্বাচনে গায়ের জোরে ভোট করা, আগাম প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে কেষ্ট মণ্ডলকে চোখাচোখা বাক্যে আক্রমণ শানান এই সংখ্যালঘু নেতা।

তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, রাজ্যজুড়ে এত কাজ হয়েছে, উন্নয়নের নিরিখে ভোট হবে। এখানে চড়াম চড়াম আর মশারী টাঙানোর কোন প্রয়োজন নেই।” তাঁর কথায়, “বীরভূমের ওই নেতা পথ দেখিয়েছিলেন কী ভাবে নির্বাচন করতে হয় এবং কী ভাবে জিততে হয়। এই আস্ফলন খুব মারাত্মক।”

এখানেই থামেননি সিদ্দিকুল্লা। অনুব্রতর উদ্দেশে হুঁশিয়ারি ছুড়ে দিয়ে বলেন, “জমানা বদলাচ্ছে। জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের মনোভাব তৈরি হচ্ছে। মানুষ জবাব চাইলে পালানোর পথ পাবেন না।”সম্প্রতি রামপুরহাট এবং সাঁইথিয়ায় কর্মীসভা করতে গিয়ে দুই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছেন অনুব্রত। বলেছেন ফের আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নীলাবতী সাহা প্রার্থী হবেন।

এ নিয়েও অনুব্রতর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সিদ্দিকুল্লা। যদিও মন্ত্রী তথা মঙ্গলকোটের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে কোনও গুরুত্ব দিতে নারাজ বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু এমন কী ঘটল যে সিদিকুল্লা চৌধুরী ক্ষুব্ধ হলেন? ওঁর রেগে যাওয়ার প্রধান কারণ হল তৃণমূল কংগ্রেসের হিন্দু ভোটারদের তোষণ।

হিন্দুত্বের উপরে বিজেপি যে ভাবে দাদাগিরি চালাচ্ছে সেটাই বানচাল করতে ও হিন্দু ভোটারদের নিজের দিকে আকর্ষণ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, সেটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন নেতার পছন্দ নয়।জনরোষ সৃষ্টি না হলেও, রাজ্যের নানা প্রান্তে বারবার সাম্প্রদায়িকতার স্ফূলিঙ্গ দেখা গিয়েছে। সিদিকুল্লা তাঁর দলে শীর্ষ নেতাদের জানাতে বাধ্য হন যে দলের সাম্প্রতিক ভাবমূর্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়েছে। কিন্তু তাঁর কথায় কেউ কর্ণপাত করছে না ।

তাই এবার রাজ্যের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লার বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন মন্ত্রিসভার আর এক সদস্য এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে দু’জনের। সিদ্দিকুল্লার মতে, ‘‘রেজ্জাকসাহেব বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর মতামতের গুরুত্ব রয়েছে।’’ এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার রেজ্জাক-সিদ্দিকুল্লা সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।