ইসরায়েলের কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালালো ছয় ফিলিস্তিনি বন্দী

ইসরায়েলের কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালালো ছয় ফিলিস্তিনি বন্দী

ইসরায়েলের সবচেয়ে সুরক্ষিত কারাগার থেকে ছয় জন ফিলিস্তিনি বন্দী পালিয়ে যাবার পর তাদের সন্ধানে এক ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ। গিলবোয়া কারাগারের একটি সেলের মেঝেতে খোঁড়া একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে ওই বন্দীদের পালিয়ে যাবার কথা জানা যায় সোমবার ভোররাতে ।

মনে করা হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে ওই সুড়ঙ্গটি খোঁড়া হয়েছিল এমনভাবে যেন সেটি দিয়ে কারাগারের প্রাচীরের বাইরে একটি রাস্তায় বেরুনো যায়। বন্দীদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন আল-আকসা মার্টার্স ব্রিগেডের একজন সাবেক নেতা জাকারিয়া জুবেইদি এবং ইসলামিক হিজাদের পাঁচ জন সদস্য রয়েছেন।

তাদের পাঁচজনই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছিলেন। হত্যাপ্রচেষ্টাসহ প্রায় দুই ডজন মামলায় জুবেইদির বিচার চলছিল। একজন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তা এ ঘটনাকে "একটি বড় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা" বলে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনাকে "বীরোচিত" বলে স্বাগত জানিয়েছে। 

স্থানীয় কৃষকরা গিলবোয়া কারাগারের নিকটবর্তী ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে "কিছু সন্দেহজনক লোককে" দৌড়াতে দেখে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার পর এ ঘটনার কথা জানা যায়। এর পর কারা কর্মকর্তারা মঙ্গলবার ভোর চারটায় বন্দীদের গুণে দেখতে পান যে ছয় ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, ওই ফিলিস্তিনিরা যে কারাগারের কক্ষটিতে থাকতেন সেটির বাথরুমে গর্ত খুঁড়ে ওই সুড়ঙ্গটি তৈরি করেন - যার শেষ মাথা ছিল জেলের ঠিক বাইরে একটি মাটির রাস্তায়।

সুড়ঙ্গটি কারাগারের প্রাচীর থেকে কয়েক মিটার দূরে গিয়ে শেষ হয়েছিল। এটি আগাছা দিয়ে ঢাকা ছিল সেটি। তারা চোরাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাইরের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। ওই লোকেরা ওই স্থানে তাদের জন্য একটি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পেতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। 

পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের নিকটবর্তী উত্তর ইসরায়েলে অবস্থিত উচ্চ নিরাপত্তার গিলবোয়া কারাগারকে অনেকে নাম দিয়েছেন 'দ্য সেফ' বা সিন্দুক । ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে। তারা যেন ৯ মাইল দূরের পশ্চিম তীর বা জর্ডানে পৌঁছাতে না পারেন সে জন্য রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী এ ঘটনাকে বীরোচিত বলে আখ্যায়িত করে বলেছে, এটা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে হতবাক করে দেবে। আর হামাসের একজন মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেছেন - এ এক মহান বিজয় যা প্রমাণ করে যে "ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী আমাদের সাহসী সৈনিকদের ইচ্ছা ও সংকল্পকে পরাভূত করা যাবে না।"