এমন কিছু খাবার যা আপনার শরীরে ইউরিক এসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখবে ।

এমন কিছু খাবার যা আপনার শরীরে ইউরিক এসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখবে ।

আজ বাংলা : যেই সমস্ত ব্যক্তিদের দেহে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত তাদের উদ্দেশ্যে বলা ওষুধ ছাড়াও এমন কিছু খাবার তারা গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে । তাহলে দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটলে আমরা কোন কোন খাবার খেলে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব সেটা জেনে নেওয়া যাক । 

আসলেই ইউরিক অ্যাসিড কি ইউরিক এসিড হল আমাদের দেহে  উৎপন্ন একটি জৈব পদার্থ । এই পদার্থটি উৎপন্ন হলে আমাদের শরীরে অ্যাসিড বেস ব্যালান্স বজায় রাখে । এই ব্যালেন্স আমাদের শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া রয়েছে সেগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ । তাই এই ইউরিক অ্যাসিড আমাদের দেহে সাধারণত নরমাল স্তরে থাকে কিন্তু যখন এই ইউরিক এসিডের স্তর বেশি বৃদ্ধি পায় তখন সে অবস্থাকে বলা হয় হাইপার ইউরিক অ্যাসিড যা আমাদের দেহের ক্ষতি করে । এই রকম পরিস্থিতিতে কোন কোন খাবার খেলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকবে জেনে নিন । 

১)সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে খাবারটি সেটি হল প্রথমে জল । সারাদিনের জল প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে যদি কোন সময় আমাদের শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায় তখন ডিহাইড্রেশন হয় ফলে আমাদের দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে  ।

ডিহাইড্রেশন হলে ইউরিক এসিডের ক্রিস্টালাইজেশন শুরু হয় । ক্রিস্টালাইজেশন অর্থাৎ বিভিন্ন আমাদের শরীরের জয়েন্ট গুলোতে ক্রিস্টালের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে প্রদাহ শুরু হয় তাই । শরীরের জয়েন্ট গুলোতে প্রচন্ড পরিমাণে ব্যথা অনুভব হয় ।তাই প্রতি নিয়মিত অনেক বেশি পরিমাণে জল পান করা উচিত তাহলে আমাদের দেহে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড উৎপন্ন হলে সেটি জলের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।  

২) কিরকম ধরনের মাছ খাচ্ছেন সেদিকে নজর রাখতে হবে । সামুদ্রিক কোনো মাছ খেলে কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায় । তাই নদী বা পুকুরের যে ধরনের মাছ থাকে জ্যান্ত মাছ বা ছোট মাছ সেগুলো আপনারা খেতে পারেন । এই ধরনের মাছগুলো খেলে শরীরে  ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা ।  

৩) রেডমিট অর্থাৎ খাসির মাংস খাওয়া একদমই চলবে না এর ফলে ইউরিক এসিড বেড়ে যেতে পারে । কিন্তু সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন পরিমাণমতো চিকেন খেলে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা । 

৪) প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরের প্রয়োজন হয় তাই ডিমের সাদা অংশ আমরা যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খেতে পারি আমাদের দেহে প্রোটিনের চাহিদা সম্পন্ন হবে এবং ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে না । 

৫) প্রতি নিয়মিত দুধ খাওয়ার ফলে অনেক সময় ইউরিক এসিড বেড়ে যেতে পারে তাই প্রতি নিয়মিত দুধ না খেয়ে দই খাওয়া বেশি উপকারী। প্রতি নিয়মিত দই খেলে  দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় না ।  এ ছাড়াও লাল চাল, গমের আটা , ভুট্টা ইত্যাদি ধরনের খাবার খেলে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। 

৬) সবজির মধ্যে লাউ , লাল আলু , পটল , চিচিঙ্গা , কাকরোল থর এবং  কলমি শাক এইসব যেগুলো খেলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

৭) ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যে ধরনের ফল আছে অর্থাৎ বেদানা , আমলকি , কমলালেবু, পাতি লেবু ,পেয়ারা , আনারস  , জাম এই ধরনের কোন গুলো আপনারা খেতে পারেন ভিটামিন-সি আমাদের দেহের অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড নির্গত করে এবং যাতে বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিড উৎপন্ন না হয় সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখে।