চাণক্য নন মিরজাফর মুকুল রায় দাবি সৌমিত্র খাঁর

চাণক্য নন মিরজাফর মুকুল রায় দাবি সৌমিত্র খাঁর

চাণক্য নন মুকুল রায়। তিনি মিরজাফর। তাঁর জন্য ২০১৯-এ ১৮টা আসন জেেতনি বিজেপি। তীব্র নিশানা বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর। প্রসঙ্গত সৌমিত্র খাঁর এই প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগেই অনুপম হাজরা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন দলে দলবাজি বন্ধ হোক। বিধানসভা ভোটে মুকুলকে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার কারণেই কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সৌমিত্র, অর্জুন দু'জনেই আপাতত দিল্লিতে রয়েছেন। এদিন সৌমিত্র খাঁ বলেন, 'স্বাধীনতার আগে মিরজাফরকে দেখেছিল বাংলার মানুষ।

আবার সেই মিরজাফরকে আমরা দেখছি। মুকুল রায় বেইমান। উনি কোনও চাণক্য নন। যদি তাই হতেন তাহলে নিজের ছেলেকে অন্তত বীজপুর থেকে জেতাতে পারতেন।' সেইসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, 'আমি ধর্মের সঙ্গেই থাকব। আমি মনে করি নরেন্দ্র মোদী শ্রীকৃষ্ণ। এই মিরজাফরদের বিরুদ্ধে বাংলায় বিজেপির লড়াই চলবে।' তিনি আরও বলেন, 'এই মিরজাফরদের নিয়ে তৃণমূল বাংলাকে আরও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চাইবে।' তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই মুকুল রায় আর অর্জুন সিং ছিলেন বিবাদমান।

উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তাঁদের দ্বন্দ্ব ছিল সুবিদিত। এদিন মুকুল রায় তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে পৌঁছতেই তীব্র আক্রমণ শানালেন অর্জুন। ব্যারাকপুরের সাংসদ বলেন, 'মুকুল রায় গদ্দার। উনি চিরকাল গদ্দারি করেই রাজনীতি করেছেন। বিজেপির কেউ ওঁকে বিশ্বাস করত না। উনি মমতার সঙ্গেও গদ্দারি করেছেন।' মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সভাপতি করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁর এই পুরনো দলে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হতে আন্দোলিত জাতীয় রাজনীতিও। সূত্রের খবর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য নেতাদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছে, মুকুল প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ না খুলতে। 

মুকুলের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা জোরালো হচ্ছিল। বিশেষত, মুকুল-জায়াকে দেখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ হাসপাতালে যাওয়ার পর। সেইসময় প্রকাশ্যেই অভিষেকের সেই সৌজন্যবোধের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছিল মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায়কে। তার পর থেকেই পদ্মশিবিরে মুকুল এবং শুভ্রাংশুকে নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

দুপুরে মুকুল এবং শুভ্রাংশু তৃণমূল ভবনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরই ছবি পরিষ্কার হয়ে যায়। আর তার পর থেকেই মিমের বন্যা বইতে শুরু হয় নেটমাধ্যমে। তাতে অভিষেকের সঙ্গে মুকুলের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়েও কটাক্ষ করেন অনেকে। অভিষেকের ‘খবরদারি’ মেনে নিতে না পেরেই মুকুল তৃণমূল ছেড়েছিলেন বলে একসময় শোনা গিয়েছিল।সেই অভিষেকই যখন তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরাধিকারী হওয়ার পথে, সেইসময় মুকুলের ফেরার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন অনেকে। বলা হচ্ছে, ‘ভাইপোর জন্য তৃণমূল ছেড়েছিলেন। আর এখন ভাইপোর অধীনেই কাজ করতে ফিরলেন।’