কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে ইস্তফা প্রত্যাহার সৌমিত্র খাঁয়ের

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে ইস্তফা প্রত্যাহার সৌমিত্র খাঁয়ের

ঘটনাবহুল বুধবার! এদিন সন্ধ্যায় নির্ঘণ্ট মেনেই মোদী মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। বাংলা পেয়েছে ৪ প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৭। এই আবহে বঙ্গ বিজেপিকে বড়সড় বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে। বুধবার বেলার দিকে বাংলা থেকে কারা রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেবেন, এটা নিশ্চিত হতেই বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন সৌমিত্র খাঁ। ফেসবুক লাইভ করে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষকে। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই নাটকীয় পট পরিবর্তন।

যে সৌমিত্র খাঁ বুধবার দুপুরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি রনংদেহী ছিলেন, সন্ধ্যা নামতেই স্তিমিত ক্ষোভ। এদিন সন্ধ্যায় তিনি আরও একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। তাতে উল্লেখ, 'দুপুরের ইস্তফা তিনি প্রত্যাহার করছেন। বিজেপি নেতা বিএল সন্তোষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি যুব মোর্চার জাতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্যের নির্দেশে এই সিদ্ধান্তে।' এদিকে, ফেসবুক লাইভ করে তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু পাল্টা বিষ্ণুপুরের সাংসদকে কিছুই বলতে নারাজ শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার তিনি বলেছেন, 'সৌমিত্রকে আমি সহকর্মী মনে করি। ওর সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করব না।সৌমিত্রর ফেসবুক লাইভকে গুরুত্ব দিতে চাই না। কারও কারও ফেসবুক লাইভ করা অভ্যেস আছে। যুব মোর্চার পরবর্তী সভাপতি কে হবে, তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক করবে।' বুধবার রাজ্যে ভোট বিপর্যয়ের দায় নিয়ে যুব মোর্চার সভাপতির পদ ছেড়েছেন সৌমিত্র খাঁ। এরপরেই ফেসবুকে বিস্ফোরক লাইভ করেন। এই লাইভে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং বঙ্গ বিজেপির সভাপতিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন।

শুভেন্দুর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'বিরোধী দলনেতা আয়নায় নিজের মুখ দেখুক।' আর বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রতি মন্তব্য, 'উনি অর্ধেক বোঝেন আর অর্ধেক বোঝেন না।' তবে যুব মোর্চার পদ ছাড়লেও নরেন্দ্র মোদীর আদর্শের জন্য তিনি বিজেপিতেই আছেন। এদিন দাবি করেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ। তবে শুধু সৌমিত্র খাঁ নয়, এদিন শুভেন্দুর প্রতি বার্তা দিয়েছেন অপর এক বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, 'অযথা মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ না করতে।' দুই বিজেপি নেতার শুভেন্দুর প্রতি আক্রমণকে হাতিয়ার করে আসরে তৃণমূল।