এটিকে-মোহনবাগানের ডিরেক্টরের পদ ছাড়লেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

এটিকে-মোহনবাগানের ডিরেক্টরের পদ ছাড়লেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

এটিকে মোহনবাগানের বোর্ড অব ডিরেক্টরের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সঙ্ঘাতের অভিযোগ ওঠায় এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন বলে খবর।  স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে শেষপর্যন্ত এটিকে-মোহনবাগানের ডিরেক্টরের পদ ছাড়লেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মালিকানাধীন এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ।

কিন্তু দুদিন আগেই সঞ্জীব গোয়েঙ্কা আইপিএল-এ লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার পর স্বার্থের সংঘাতে জড়ান বোর্ড সভাপতি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসেই প্রথম প্রকাশিত হয় গোয়েঙ্কা আইপিএলে দল কেনায় বোর্ড সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছেন। গোয়েঙ্কার আরপিএসজি ভেঞ্চার্স লিমিটেড ৭,০৯০ কোটি টাকার দরপত্রের বিনিময়ে নয়া লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে নেয়।

এরপরই আইএসএলে এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর পদ ধরে রাখা স্বার্থের সংঘাতের শামিল সৌরভের কাছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রশ্নের উত্তরে সৌরভ জানিয়েছেন, তিনি ডিরেক্টর পদ ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনও সৌরভকে বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের সদস্য হিসাবে দেখানো হয়েছে। চেয়ারম্যান হলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। আরও ডিরেক্টররা হলেন হর্ষবর্ধন নেওটিয়া এবং উত্‍সব পারেখ। সৌরভের পদ ছাড়ার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি গোয়েঙ্কার।

তবে দিন কয়েক আগে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, আমার মনে হয় সৌরভ মোহনবাগানের ডিরেক্টর পদ থেকে এবার সরে যাবে।  এর আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এক শীর্ষ বিসিসিআই সদস্য় বলেন, 'সৌরভ হলেন প্রেসিডেন্ট। ওঁর বোঝা উচিত। এটা প্রথম কোনও ঘটনা নয় যে ওঁ এরকম পরিস্থিতিতে পড়েনি।' এর আগে সিএবি-র সভাপতি থাকা অবস্থায় দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসাবে যোগ দিয়ে বিতর্কে পড়েন সৌরভ।

তখন অভিযোগ অস্বীকার করে সৌরভ পাল্টা বলেন, বিসিসিআই-য়ের প্রশাসক কমিটির সঙ্গে কথা বলেই এই দায়িত্ব নেন তিনি। ঘটনা হল, সরে দাঁড়ালেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার নিলাম পদ্ধতিতে সৌরভের ভূমিকা নিতে প্ৰশ্ন উঠতে বাধ্য। ২০১৯ থেকে বোর্ডের সভাপতির পদ সামলাচ্ছেন সৌরভ। বোর্ডের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সৌরভের প্রভাব রয়েছে।

আর সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে লোধা কমিটির পেশ করা স্বার্থ সংঘাতের বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বোর্ডের সঙ্গে বেসরকারি কোনও সংস্থার চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনও পদে বোর্ডের কোনও পদাধিকারী অথবা আত্মীয় স্বজনরা থাকতে পারবেন না।  গত বছর জেএসডব্লিউ সিমেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে ইনস্টাগ্রামে বাণিজ্যিক পোস্ট করে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন সৌরভ।

বোর্ড সভাপতি থাকাকালীনই দিল্লি ক্যাপিটালসের মালিক জেএসডব্লিউ-এর বিজ্ঞাপনী প্রচার কীভাবে করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। তার আগে দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর পদেও ছিলেন মহারাজ। যদিও সেই সময় তাঁর যুক্তি ছিল, বোর্ডের সভাপতি এবং জেএসডব্লিউ-য়ের ব্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তাঁর দায়িত্ব সংঘাতপূর্ণ নয়।

পরবর্তীকালে এই ইস্যুতে মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার লাইফ মেম্বার সঞ্জীব গুপ্তা স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ আনেন। যদিও সেই অভিযোগের শুনানি এখনও শুরু হয়নি। ঘটনাচক্রে, চলতি বছরের জুনে বিচারপতি ডি কে জৈন-এর মেয়াদ শেষের পরে বোর্ড এখনও পর্যন্ত ওম্বুডসম্যান এবং এথিক্স অফিসার হিসেবে কাউকে নিয়োগ করেনি।