দক্ষিণ দিনাজপুর |  প্রাচীনযুগে রাজাদের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে জেলা জুড়ে

দক্ষিণ দিনাজপুর |  প্রাচীনযুগে রাজাদের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে জেলা জুড়ে

১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল পশ্চিম দিনাজপুর জেলা দ্বিখণ্ডিত হয়ে ওই জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর  গঠিত হয় দক্ষিণ দিনাজপুর।বালুরঘাট এই জেলার জেলাসদর। আজ থেকে প্রায় দুহাজার বছর আগেও আলাদাভাবে দিনাজপুর অঞ্চলের অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়৷ জেলাটি পৌরানিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ৷ দিনাজপুর জেলা যেমন মৌর্য গুপ্ত পাল সেন যুগের ইতিহাস বহন করছে তেমনি ইসলামের আগমন এবং বৌদ্ধ ও জৈন সময়কালীন ঐতিহ্যে পূর্ণ৷

অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার প্রথম অস্তিত্বের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীণ পুন্ড্র সাম্রাজ্যের একটি অংশ হিসাবে৷ পুন্ড্র সাম্রাজ্যে বসবাসকারী মুল উচ্চবর্ণীয়দের পুণ্ড্র বলা হতো যাদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণদের বংশজ বলে মনে করা হয়৷ ঐতিহাসিকদের মতে পুন্ড্রবর্দ্ধন সাম্রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ বর্তমান বগুড়া জেলার করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে পাওয়া যায় ৷ সাম্রাজ্যের অন্য নগরগুলি হল পুন্ডনগর ও কোটিবর্ষ৷ পুনর্ভবা নদীতীরে বর্তমান গঙ্গারামপুরের বাণগড়ই ছিলো প্রাচীন নথিতে উল্লেখিত কোটিবর্ষ নগর৷

খ্রীষ্টপুর্ব চতুর্থ শতকে মৌর্য সাম্রাজ্যকালে দিনাজপুর অঞ্চলে জৈন ধর্মের প্রসার ঘটে ৷ ভদ্রবাহু ছিলেন মৌর্যসম্রাট অশোকের জৈনগুরু যিনি দিনাজপুরের কোটিপুর নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, উল্লেখ্য এই কোটিপুরই বর্তমান দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর বলে প্রমাণ পাওয়া যায়৷ জেলাটির বিভিন্ন জায়গায় খনন করে প্রমাণ পাওয়া যায় যে সমগ্র পৌন্ড্রবর্দ্ধন সহ উত্তর বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা ছিলো মোর্যসাম্রাজ্যের শাসনাধীন৷

পরবর্তীকালে ষষ্ঠ শতক অবধি গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসন কায়েম হয়৷ এরপর পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল ও পরে তার উত্তরসূরী মহীপালের শাসনকালে এ অঞ্চলে একাধিক কুপ ও দিঘী খনন করা হয় যার প্রমাণ কুশমণ্ডি, গঙ্গারামপুর, বংশিহারী, তপন অঞ্চলে স্পষ্ট৷  ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে যখন বাংলার দেওয়ানী ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন থেকে দিনাজপুর ব্রিটিশ শাসনের আওতাভুক্ত হয়৷

ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দিকে মালদহের বামনগোলার মদনাবতীতে প্রথম নীল কারখানা স্থাপিত হয়৷ ১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে উইলিয়াম কেরি কলকাতার পর প্রথম এই অঞ্চলে বাংলাতে বই ছাপানো শুরু করেন কিন্তু ১৭৯৯ তে নীল কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়৷অষ্টাদশ শতকের মধ্যেই সন্নাসী ফকিরদের জমি জায়গা দিয়ে দিনাজপুরে বিভিন্ন স্থানে বসতি করে দেওয়া হয়৷

পরে তারাই আবার সাধারণ মানুষর ওপর লুঠতরাজ শুরু করলে ইষ্ট ইন্ডিয়া কম্পানির তত্তাবধানে তার অবসান ঘটে৷১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহর সময় এই জেলা নিজ স্থান অক্ষুণ্ণ রাখে৷তেভাগা ও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে দক্ষিণ দিনাজপুরের অবদান অনস্বীকার্য৷  ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দে প্রথমবার বঙ্গভঙ্গের সময় এই জেলার জনগণ প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে।লাল মোহন ঘোষের নেতৃত্বে বৎসরকালীন বয়কট তথা জেলা রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামীণস্তরের সরকারী নীতির বিরোধীতা চলতে থাকে৷ মহারাজা গিরিজানাথ রায় তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেন৷

১৯১৯ সনে জাতীয় কংগ্রেসের সহযোগীতায় সমান্তরাল প্রশাসন তৈরী করা হয় ও ১৯২৪ সনে শ্রী পুর্ণচণ্দ্র দাস গ্রেপ্তার হন৷ ১৯৪২ এ পুর্ণচণ্দ্র দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বালুরঘাটে ভারতবন্ধ ডাকা হয়৷ ১৪ ই সেপ্টেম্বর শ্রী সরোজ রঞ্জন চ্যাটার্জ্জীর নেতৃত্বে বালুরঘাটে আট হাজার লোক জড়ো হয় ও সরকারী দপ্তরে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়৷দিনাজপুর জেলা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৯৪৭ সাালে বাংলা ভাগের সময়৷

বালুরঘাট, রায়গঞ্জ ও গঙ্গারামপুর মহকুমা ভারতীয় যুক্ত রাষ্ট্রে যুক্ত হলেও বাকী দিনাজপুর ও পূর্ববঙ্গে দ্বিখণ্ডিত থাকে দিনাজপুর ও রাজশাহীর মধ্যে।১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের দক্ষিণাংশের ২২১৯ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল তথা বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর মহকুমাদ্বয় নিয়ে নতুন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়৷

 বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর এই দুটি মহুকুমা নিয়ে এই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গঠিত।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পূর্বদিকে অবস্থান বালুরঘাট মহুকুমার, এই মহুকুমা ৪ টি  সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত৷

বালুরঘাট সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৩০৭ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১১ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত,  সেগুলি হল   পতিরাম, গোপালবাটি, অমৃতখণ্ড, চিঙগিশপুর, এক্স নজিরপুর,ভাটপাড়া, বোল্লা,  চকভৃগু,  দানগা, বোল্লা, বোয়ালদার, জলঘর ৷ সদরটি বালুরঘাট-এ অবস্থিত৷

কুমারগঞ্জ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ২১৮ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত, সেগুলি হল ভউর, দেওর, জাকিরপুর, মোহনা,  বাটুন  রামকৃষ্ণপুর, সাফানগর, সমঝিয়া৷ সদরটি কুমারগঞ্জ-এ অবস্থিত৷

হিলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৮২ গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৫ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত, সেগুলি হল হিলি, পানজুল,বিনশিরা, জামালপুর, ধলাপাড়া৷ সদরটি হিলি-তে অবস্থিত৷

তপন সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ২৭৯ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত , সেগুলি হল হজরতপুর, রামচন্দ্রপুর, রামপাড়া চেঞ্চরা, আচমতপুর, আউটিনা, গুরাইল, তপন,  হেরখুড়া, দীপখণ্ড, গোফানগর, মালঞ্চ৷ সদরটি তপন-এ অবস্থিত৷

বালুরঘাট মহুকুমার পৌরসভাটি হলো বালুরঘাট৷দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পশ্চিম দিকে অবস্থিত গঙ্গারামপুর মহুকুমা , এই মহুকুমা   ৪ টি  সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত৷

কুশমণ্ডি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ২৩১ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৮ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত ,  সেগুলি হল কালিকামোড়া, দেউল,কুশমণ্ডি, করঞ্জ, উদয়পুর,  বেড়াইল, আকচা,  মাটিগাঁও৷ সদরটি কুশমণ্ডি-তে অবস্থিত৷

গঙ্গারামপুর সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ২০২ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১১ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত , সেগুলি হল   গঙ্গারামপুর, দামদামা, নন্দনপুর, বেলবাড়ি-১ ও ২, উদয়, বাচুরিয়া,  অশোকগ্রাম,শুকদেবপুর, চালুন, জাহাঙ্গিরপুর, ৷ সদরটি গঙ্গারামপুর-এ অবস্থিত৷

বংশিহারী সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ১৬১ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৫ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত ,  সেগুলি হল গাঙ্গুরিয়া, শিবপুর, এলাহাবাদ, ব্রজবল্লপুর,  মহাবাড়ি৷ সদরটি বংশিহারী-তে অবস্থিত৷

হরিরামপুর সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ১৫১ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৬ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত,    সেগুলি হল সঈদপুর, পুন্ডরী,  সিরসি, গোকর্ণ, বাইরহট্ট, বাগিচাপুর ৷ সদরটি হরিরামপুর-এ অবস্থিত৷ গঙ্গারামপুর মহুকুমা পৌরসভাটি হলো গঙ্গারামপুর৷দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পাঁচটি জনগণনা নগর হলো  পার পতিরাম (বালুরঘাট) , গোপালপুর (গঙ্গারামপুর) , হরিরামপুর (হরিরামপুর) , চকভৃগু (বালুরঘাট) ,  ডাকরা (বালুরঘাট)

 দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আয়ের প্রধান উৎস হল  কৃষিকাজ। ইক্ষু, পাট, তৈলবীজ ইত্যাদি বেশি উৎপন্ন হয় এই জেলায় । বালুরঘাট শিল্পাঞ্চল ছাড়া অন্যকোনো বড়ো বা মাঝারি শিল্পাঞ্চল প্রায় নেই ফলে জেলাটি শিল্পোন্নত ও নয় ৷ কৃষিজ পাট ও তৈলবীজকে কেন্দ্র করে সদরগুলিতে ছোটো ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠলেও তা পর্যাপ্ত নয় ৷ স্থলবন্দর হিলি ও ঐতিহাসিক স্থানের কারণে জেলাটিতে বহু পর্যটকের আগমন হয়। জেলাটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে,  বিভিন্ন প্রত্নস্থল, প্রাচীনযুগে রাজাদের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন পাওয়া যায় এই জেলা জুড়ে৷

 প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ধর্মীয় স্থল  পর্যটনশিল্পে কিছুটা  উন্নতিসাধন করেছে , যা জেলাটির অর্থনীতির অন্যতম উৎস৷২০১১ সালের জনগননা অনুসারে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জনসংখ্যা ১,৬৭৬,২৭৬ ভারতে 715টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যা অনুসারে এটির স্থান ২৯৫তম।২০০১-২০১১ তে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১১.৫২%। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার লিঙ্গানুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষে ৯৫৬ জন নারী এবং সাক্ষরতার হার ২০০১ সালে ৬৩.৫৯% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১ সালে ৭২.৮২% (পুরুষ সাক্ষরতা ৭৮.৩৭% ও নারী সাক্ষরতা ৬৭.০১%) হয়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে সমগ্র রেলপথের দৈর্ঘ ৫৭ কিলোমিটার ৷এই জেলার কিছু উল্লেখযোগ্য রেল স্টেশন ও জংশনগুলি হল বালুরঘাট স্টেশন , বুনিয়াদপুর স্টেশন , বালুরঘাট রেল স্টেশন , গঙ্গারামপুর স্টেশন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার  একমাত্র জাতীয় সড়কটি হলো - ৫১২ নং জাতীয় সড়ক দক্ষিণ দিনাজপুরে যার দৈর্ঘ ৮৩ কিলোমিটার ৷ এছাড়া ১০ নং রাজ্য সড়ক ও একাধিক জেলা সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক রয়েছে ৷ এগুলির মধ্যে অধিকাংশই নির্মীয়মান ৷অন্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমানা আছে এই জেলায়।

উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক; মালদহ জেলার গাজোল , বামনগোলা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের সাথে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তরাজ্য সীমানা আছে৷ বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, হাকিমপুর, বিরামপুর, দিনাজপুর, বিরল উপজেলা ,  জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট, পাঁচবিবি উপজেলা ,  নওগাঁ জেলার সাপাহার, পত্নীতলা, ধামুরহাট উপজেলার সাথে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা আছে।

 দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো  আনন্দবাগান শিক্ষা নিকেতন , বালুরঘাট , অগ্রণী মহিলা সমিতি বিদ্যালয় , বালুরঘাট , বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ,  আশুতোষ বালিকা বিদ্যালয় , বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বয়রাপাড়া এফ.পি. উচ্চ বিদ্যালয় , অভিযাত্রী বিদ্যানিকেতন , বাঘাযতীন এ.এফ.পি. বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর এফ.পি উচ্চ বিদ্যালয় , নালন্দা বিদ্যাপীঠ,বালুরঘাট , বালুরঘাট এল.এম. আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয় , হিলি আর.এন. উচ্চ বিদ্যালয় , মহীপাল উচ্চ বিদ্যালয় , এছাড়াও আরও অনেক বিদ্যালয় আছে এই জেলা জুড়ে।

এই জেলা জুড়ে রয়েছে অনেক কলেজ  টেকনো গ্লোবাল , বালুরঘাট , কোটিবর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, গঙ্গারামপুর মহাবিদ্যালয় , কুশমণ্ডি মহাবিদ্যালয় , গঙ্গারামপুর বি.এড. মহাবিদ্যালয় , দক্ষিণ দিনাজপুর বি.এড. মহাবিদ্যালয় , বালুরঘাট মহিলা মহাবিদ্যালয় , কুমারগঞ্জ মহাবিদ্যালয় , হিলি বহুশিল্পপ্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় , গঙ্গারামপুর বহুশিল্পপ্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় , টেকনো গ্লোবাল , বালুরঘাট ছাড়াও বহু কলেজ রয়ে এই জেলায়।

 খাঁ বা খান এই লোক সংস্কৃতিটি এই জেলার সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত ৷ তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির সম্প্রদায়ের লোকের মাধ্যমে মূলত এই ধারাটি রক্ষিত ৷ গানেরকথা ও বার্তালাপগুলি হয় স্থানীয় উপভাষা অনুযায়ী ৷ মানহানিকর বা অবৈধ কোনো স্থানীয় ঘটনাকে উপস্থাপন করা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই 'খান' এর উদ্দেশ্য ৷ এই সম্প্রদায়ের লোক বংশিহারী ও কুশমণ্ডি অঞ্চলে বেশি দেখা যায় ৷ দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের কিছু গ্রামেই নাটুয়া নাচ করার রীতি আছে ৷

এই জেলা জুড়ে রয়েছে অনেক পর্যটন স্থল।বুনিয়াদপুর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে বড় গ্রামে অবস্থিত  বড়গ্রাম রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ,এই ধ্বংসাবশেষের আয়তন প্রায় পাঁচ বিঘার মতো।এছাড়াও এই জেলার পর্যটন স্থলগুলি হল  দুমদুমা দুর্গ , বাণগড় প্রত্নস্থল , বালুরঘাট জেলা গ্রন্থাগার , বালুরঘাট মিউজিয়াম, বাইরহট্ট প্রত্নস্থল, রামসাগর হরিণ অভয়ারণ্য , কীচক কুণ্ড , আরণ্যক, বালুরঘাট , সারঙবাড়ি জঙ্গল , সরনবাড়ি উদ্যাণ, হিলি , বোল্লা কালীমন্দির , মা বিদ্যেশ্বরী মন্দির, পাতিরাম , ডালদিঘি , গঙ্গারামপুর , আলতাদিঘি , বংশিহারী , গৌরদিঘি , বংশিহারী , কালাদিঘি , গঙ্গারামপুর , মালিয়ানদিঘি , বংশিহারী , তপনদিঘি , তপন, প্রাণসাগর , গঙ্গারামপুর। এই জেলার কিছু বাখ্যাত অনুষ্ঠান ও মেলা হল বালুরঘাট চামুন্ডা মেলা , পীরের মেলা , চরক মেলা , বারুনী স্নান , বোল্লা মেলা , বোলবোম , বিদ্যেশ্বরী মাতার বাৎসরিক যজ্ঞানুষ্ঠান।