দেবীর আশীর্বাদ লাভ করতে এই বিশেষ রঙগুলি ধারন করুন

দেবীর আশীর্বাদ লাভ করতে এই বিশেষ রঙগুলি ধারন করুন

আজবাংলা   আর মোটে কয়েকটা দিন। হিন্দু শাস্ত্র মতে বলা হয়, ৯টি রং দিয়ে প্রতীকায়িত করা হয় এই দেবীদের মাহাত্ম্য। আসলে, দেবী পার্বতীর ৯টি ভিন্ন ভিন্ন রূপের প্রকাশ। এই নয় দেবী হলেন যথাক্রমে- কুষ্মাণ্ডা, চন্দ্রঘণ্টা, মহাগৌরী, শৈলপুত্রী, সিদ্ধিদাত্রী,কালরাত্রি, ব্রহ্মচারিণী, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী।

প্রতি শরৎকালের দেবীপক্ষের নয়টি দিনে পার্বতীর এই একেকটি রূপের উপাসনা করা হয়ে থাকে। আসুন দেখে নেওয়া যাক, কোন দিনে পার্বতীর কোন রূপের উপাসনা করা হয় এবং কোন রং  চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দেবীমাহাত্ম্যকে।

কুষ্মাণ্ডা শুভদাহস্তু মে- দেবীপক্ষের চতুর্থী তিথিতে দেবী কুষ্মাণ্ডার মাহাত্ম্য স্মরণ করেন ভক্তরা। এই দিন এবং দেবীর মাহাত্ম্যের প্রতীক লাল রং। একই সঙ্গে তা শক্তি, প্রীতি, সৃজনশীলতা এবং পবিত্রতারও প্রতীক বটে।

চন্দ্রঘণ্টে প্রণমাম্যহম- দেবীপক্ষের তৃতীয়া তিথি দেবী চন্দ্রঘণ্টার উপাসনার জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই দিনটির জন্য সাদা রং সর্বশ্রেষ্ঠ। কেন না তা দেবীর স্তুতির পাশাপাশি শান্তি, সারল্য আর পবিত্রতার বার্তা দেয়।

মহোগৌরী ভজেহহম- দেবীপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভক্তরা আরাধনা করে থাকেন দেবী মহাগৌরীর। ময়ূররের গায়ের মতো সবুজ রং এই দেবীর মাহাত্ম্যের পাশাপাশি সর্বসিদ্ধির বার্তা দেয়।

শৈলপুত্রীং যশস্বিনীম- প্রথম দিন অর্থাৎ প্রতিপদ নির্দিষ্ট করা হয়েছে দেবী শৈলপুত্রীর জন্য। এই দিনটির জন্য গ্রে বা ধূসর রং শ্রেষ্ঠ। কেন না তা ঐক্য, শান্তি আর বিজয়বার্তা নিয়ে শৈলপুত্রীর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে।

মোক্ষদায়িনী সিদ্ধিদাত্রী- দেবীপক্ষের নবমী তিথিটি দেবী সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনার জন্য নির্দিষ্ট। এই দিন এবং দেবীমাহাত্ম্যের পরিচয়বাহী রং হল পার্পল বা বেগুনি। যা সৌন্দর্য, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অভীষ্টপূরণের বার্তা দেয়। চাইলে এই নবরাত্রিতে আপনিও নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন এই নয় রঙে। দেবীর আশীর্বাদ সঙ্গেই থাকবে আপনার।

কল্যাণী কলাবতীদেবীপক্ষের সপ্তমী তিথিতে উপাসনা করা হয়ে থাকে দেবী কালরাত্রির। সবুজ রঙের মাধ্যমে দেবীর এই রূপ এবং শুভারম্ভ, ইতিবাচকতা, পুষ্টি তথা বৃদ্ধি প্রতীকায়িত হয়ে থাকে।

ব্রহ্মচারিণীং শুভাম - দেবীপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে উপাসনা করা হয় দেবী ব্রহ্মচারিণীর। এই দিনটির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে কমলা রং। এই রং শক্তি, আনন্দ, ঔজ্জ্বল্য আর জ্ঞানের পাশাপাশি ব্রহ্মচারিণীর মাহাত্ম্যের দ্যোতক।

স্কন্দমাতা পুত্রপ্রদাদেবীপক্ষের পঞ্চমী তিথি যেমন দেবী স্কন্দমাতার উপাসনার জন্য প্রশস্ত, তেমনই এই দিনটির জন্য আদর্শ হল রাজকীয় নীল রং। দেবীর অনির্বচনীয় রূপমাধুরীর পাশাপাশি এই রং শক্তি, সর্বশ্রেষ্ঠতা এবং বুদ্ধির পরিচয়বাহী।

কাত্যায়নসুতে নমোহস্তুতে- দেবীপক্ষের ষষ্ঠীর দিনটি নিবেদিত হয়েছে দেবী কাত্যায়নীর চরণে। উজ্জ্বল হলুদ রঙের দিন এটি। যা দেবীমহিমার পাশাপাশিই আনন্দ, ঔজ্জ্বল্য এবং স্ফূর্তির প্রকাশকারক মাধ্যম।