প্রেমিকের বাড়িতে ৮ দিন ধরে অবস্থান, অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে

প্রেমিকের বাড়িতে ৮ দিন ধরে অবস্থান, অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে

বিয়ের দাবি নিয়ে প্রেমিক অসীম সরকারের (২৬) বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন মুক্তা রানী (২২)। এ খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন অসীম সরকার। প্রেমিককে না পেয়ে একপর্যায়ে মুক্তা অনশন শুরু করেন। টানা আট দিন প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানের পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। বাংলাদেশের পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের মুরাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুক্তা পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের সুভাষ হালদারের মেয়ে।

অসীম সরকার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া গ্রামের অনিল সরকারের ছেলে। গতকাল রাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মুক্তা রানী অসীম সরকারের বাড়িতে উপস্থিত হন। ওই সময় অসীম বাড়িতে ছিলেন না।

এরপর মুক্তা অসীমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ওই পরিবারের লোকজনকে জানিয়ে বিয়ের দাবি তোলেন। এদিকে মুক্তা বাড়িতে আসার খবর পেয়ে অসীম গা ঢাকা দেন। অসীমের পরিবারও বিয়ের দাবি মেনে নিতে অপরাগতা জানায়। এভাবে এক দিন, দুই দিন হয়ে গেলেও মুক্তা ওই বাড়ি থেকে সরেননি।এদিকে অসীমও বাড়িতে আসেননি। একপর্যায়ে মুক্তা খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেন।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নেন।  অসীমের বাবা অনিল সরকার বলেন, ওই আট দিন ধরে মুক্তা তাঁদের বাড়িতে ছিলেন। শুরুতে তাঁরা বিয়ের ব্যাপারে রাজি ছিলেন না। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পরিবার আলাপ–আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ছেলের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়েছে। জানতে চাইলে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন,

গত সোমবার দুই পরিবারের লোকজনকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে লোহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই পরিবার বিয়ের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করে। পরদিন অসীম সরকার বাড়িতে এলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান সিকদার, ইউপি সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।