হাইটেনশন টাওয়ারে মহিলা উঠে পড়ায়, এলাকায় চাঞ্চল্য

হাইটেনশন টাওয়ারে মহিলা উঠে পড়ায়, এলাকায় চাঞ্চল্য

আজবাংলা  সকাল থেকে ভিড়ে ঠাসা বারাবনির ভানোড়া মোড়ে। শাড়ি পরিহিত এক মহিলা এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনি ভাবচ্ছেন এতে আর অবাকের কি আছে? কিন্তু ওই মহিলা মোটেই মাটিতে হাঁটছেন না। তিনি হেঁটে চলেছেন, ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইনের খুঁটিতে (Electric tower)। কখনো জোরে জোরে হাঁটছেন এবার কখনো আপন মনে বসে পা দোলাচ্ছেন।

এইদিকে নীচে সকল মানুষ মনে মনে ইষ্টনাম জপ করছেন। সবাই ভাবচ্ছেন এই গেল হয়ত পা টা হড়কে। যথাসময়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আসানসোলের বারাবনি থানার পুলিশ। দমকল ও বিদ্যুৎ দপ্তরের লোকজনও এসে পৌঁছয়। কিন্তু সময় মত এসেও কিছু করা যায়না।

স্বামীর সঙ্গে বিবাদ করে বছর তিরিশের ওই মহিলা রবিবার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। ওদিকে স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মাঝেই রাতবিরেতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফের ফিরে আসেন বাড়িতে। উধাও হওয়ার সময়ে নিজের শিশুপুত্রকে ঘরে রেখেই বাড়ি ছেড়েছিলেন।

তাঁকে বিদ্যুতের খুঁটিতে চড়ে বসতে দেখা যায় সোমবার সকাল থেকে। প্রথমে কেউ লক্ষ্যই করেনি। আসলে এতটাই উঁচু, যে ঠিক ভাবে বোঝাই যায় না। এবার চীৎকার করে কিছু বললে শোনাও যায় না। এদিকে, সময়মত পুলিশ ও দমকল বাহিনী অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। জানা যায়, রাতের বেলায় ওই টাওয়ারে চড়ে বসেছিলেন।

এরপরে অবশ্য নিজের খেয়ালেই ৫ ঘন্টা অতিক্রম হওয়ার পর নিজেই নীচে নেমে আসেন। অনেকে মনে করেছেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে গরম বাড়ার দরুন আর সে থাকতে পারেনি। অগত্যা নীচে নেমে আসতে হয়। তাঁর অমন কাণ্ডের জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজনদের নাকানিচোবানি খেতে হয়েছে এদিন। তবে ওই মহিলা সাবধানে নেমে আসায় সবাই খুশি হয়েছে।