ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সবেদার গুনাবলী

ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সবেদার গুনাবলী

খেতে সবাই খুব পছন্দ করে। এটি খুবই মিষ্টি ফল। গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে এ ফলটি ভীষণ জনপ্রিয়। নরম শাঁসযুক্ত ও সুমিষ্ট এ ফলটিকে স্বাদের বিচারে সেরা ফলের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে শুধু স্বাদে নয়, গুণেও অনন্য এ ফলটি। নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সবেদা। তবে এই সুস্বাদু ও মিষ্টি ফলের পুষ্টিগুণ ও ত্বকের পরিচর্চার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা হয়তো অনেকেই জানি না।জেনে নেওয়া যাক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সবেদা কত কার্যকরী–

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়: সবেদায় রয়েছে ভিটামিন এ ও সি যা ত্বকে সুন্দর ও উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। সবেদা ফলে আরও রয়েছে ভিটামিন ই যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও ত্বককে কোমল করে তোলে। এছাড়াও, এটি রিঙ্কেলস ও বলিরেখা দূর করতে সহায়তা করে।

সবেদার ফেস প্যাক : উজ্জ্বল ত্বক পেতে সবেদার ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ফেস প্যাক তৈরির জন্য এক চা চামচ সবেদার শাঁস, এক চা চামচ দুধ ও এক চা চামচ বেসন নিন। একটি পাত্রের মধ্যে সমস্ত উপাদান ভাল করে মিশিয়ে একটি উপকারী পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই পেস্টটি আপনার মুখ এবং গলায় লাগান। ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, প্যাকটি শুকিয়ে গেলে, হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

চুলের স্বাস্থ্যোন্নতি : চুলের স্বাস্থ্যোন্নতির ক্ষেত্রেও সবেদা খুবই উপযোগী একটি ফল। এতে উপস্থিত ভিটামিন এ ত্বকের গ্রন্থিতে সিবাম নামক তৈলাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে। শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি হলে অ্যালোপেসিয়া বা টাক পরার মতন সমস্যা প্রতিরোধ করে। মনে করা হয় যে সবেদার বীজ থেকে নিষ্কাশিত তেল স্ক্যাল্প ময়শ্চারাইজ করে চুল নরম করতে সাহায্য করে। নরম চুল মাথার আলাদা রকম সৌন্দর্য এনে দেয়।

ত্বকের ইনফেকশন কমাতে : সবেদা ফলের বীজের ঔষুধি গুণাগুণ অনেক বেশি। চামড়ার যে কোন ধরণের ইনফেকশন দূর করতে সবদা বীজের তেল বেশ কার্যকর। সবেদা ফল ত্বকের অয়েন্টমেন্ট হিসেবে কাজ করে।

সবেদার হেয়ার মাস্ক : চুলে ফাটল এবং চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সবেদার হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে এক চামচ সবেদার তেলে আধ চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো এবং এক চামচ সবেদা বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি গ্যাসে কিছুক্ষণ গরম করে নিতে হয়। এবার তেল ছেঁকে একটি বোতলে স্টোর করে নিন। এই তেলটি স্ক্যাল্পে লাগান এবং কয়েক মিনিট মাসাজ করুন। মাসাজের এক ঘণ্টা পরে চুল স্বাভাবিক জল গিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই তেলটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করুন।