সূর্য মন্দির | কোনার্কের সূর্য মন্দিরের অজানা ও অলৌকিক রহস্য

সূর্য মন্দির | কোনার্কের সূর্য মন্দিরের অজানা ও অলৌকিক রহস্য

আজবাংলা    ঘরের কাছে থাকা উড়িষ্যার কথা উঠলেই মনের মণি কোঠায় ভেসে ওঠে পুরীর জগন্নাথ মন্দির, নন্দন কানন বা চিল্কা হ্রদের কথা। কিন্তু পুরী থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুরনো স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোণার্কের সূর্য মন্দিরের আকর্ষণও অপরিসীম। এই মন্দিরের ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য, ভাস্কর্য তথা নির্মান শৈলী আজও বাঙ্গালিদের তীব্র আকর্ষণ করে। তাইত পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দির দর্শন করার পরই বাঙালি ভ্রমণ পিপাসুরা ছোটে পুরী থেকে ৩৫ কিমি দূরে অবস্থিত কোণার্কের সূর্য মন্দিরের দিকে।

ইংরেজিতে বলা হয় ‘সান টেম্পল’ বা ‘সোলার টেম্পল’| তবে বাংলায় আমাদের কাছে সূর্য মন্দির হিসেবে পরিচিত |১৩শ-শতাব্দীতে নির্মিত ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরী জেলার কোণার্ক শহরে অবস্থিত কোণার্ক সূর্য মন্দির |  বিশ্বাস করা হয় যে, মন্দিরটি ১২৫৫ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব গঙ্গ রাজবংশের প্রথম নরসিংহদেব এটি নির্মাণ করেছিলেন | গ্রিক উপকথার সূর্যদেবতা হিলিয়াসের মতো ভারতীয় উপমহাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজনীয় সূর্য দেবতারও রয়েছে একটি দর্শনীয় রথ, যাতে চড়ে তিনি আকাশে ঘুরে বেড়ান |

তাই দেবতার সম্মানে কোনার্কের সম্পূর্ণ সূর্য মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে একটি অতিকায় রথের মতো করে | সাতটি ঘোড়া  টেনে নিয়ে যাচ্ছে ১২ চাকার উপর অবস্থিত একটি অতিকায় রথকে, যেটি আসলে মূল মন্দির | আর এর পুরোটাই পাথরে খোদাই করা ভারী কারুকাজে পরিপূর্ণ |সূর্য মন্দিরের চূড়াগুলো পিরামিড আকৃতিতে গড়ে তোলা হয়েছে | মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্ডপ | এখানে একসময় দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে পূজানৃত্য পরিবেশন করতেন বলে জানা যায় |মন্দিরের ভিতরে রয়েছে নাটমন্দির,ভোগমন্দির ও গর্ভগৃহ | সূর্য মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৮৫৭ ফুট | তবে মন্দিরের অনেক অংশ এখন বালির চাপে বসে গেছে | বর্তমানে মন্দিরের দেউল এখনো ২০০ ফুট উঁচু | 

 চন্দ্রভাগা নদীর তীরে নির্মাণ করা হয়েছিল কোনার্ক সূর্য মন্দির | কিন্তু  ধীরে ধীরে দিন যেতে যেতে  নদীটির গতিপথ বেঁকে যায় | ফলে মন্দির থেকে নদীটির দূরত্ব বর্তমানে কয়েক কিলোমিটারের দূরত্ব |এটি নির্মাণ করা হয় কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে | পূর্বদিকে মুখ করে রাখা হয়েছে এর প্রবেশদ্বার এবং দেবতার আসন | ফলে প্রতিদিন ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আভা সরাসরি দেবতার দিকে এসে পৌঁছয় | 

 বিংশ শতাব্দীতে প্রত্নতত্ববিদরা কোনার্ক মন্দির পুনঃরাবিষ্কার করেন | ৩০০ বছর ধরে বালিরস্তূপের নিচে অনাদর ও অবহেলায় পড়ে থাকা এই সূর্য মন্দিরটিকে ১৯০৪ সালে বড়লাট লর্ড কার্জন উদ্ধার করেন |তবে তারও আগে কোন বিপর্যয়বশত মূল সূর্য মন্দিরটি অবুলুপ্ত হয় | আমরা যেটাকে মন্দির হিসেবে দেখি সেটা আসলে নাট মন্দির, মূল মন্দির নয় |কোনার্ক সূর্যমন্দির কেবল একটি মন্দির নয়। একটি রাজপ্রাসাদের যেমন ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভবন থাকে, তেমনি এখানে একাধিক মন্দির ও স্থাপনা ছিল, যেগুলোর ধ্বংসাবশেষ এখনো দেখতে পাওয়া যায়।