কলকাতার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে চাকরি খোয়ালেন গ্রামের ছেলে সুশীল দাস

কলকাতার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে  চাকরি খোয়ালেন গ্রামের ছেলে সুশীল দাস

  গত ২৫ জুন ভুয়ো টিকাকাণ্ডের তদন্তের দাবিকে বিধাননগরের স্বাস্থ্য ভবনে হানা দেন শুভেন্দুবাবু। সেখানে স্বাস্থ্যসচিবের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন তিনি। কী ভাবে নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের কাছে পৌঁছলেন শুভেন্দু, এই প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্যভবনের দ্বাররক্ষীর দায়িত্বে থাকা ৪ বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীকে পরদিন বরখাস্ত করতে বাধ্য করে সরকার। তার মধ্যে একজন সুশীলবাবু। কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে সদলবলে স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হয়েছিলেন খোদ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেউ আটকাতে পারেনি। স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে সোজা স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের ঘরে ঢুকে পড়েছিলেন শুভেন্দু। ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে যথোপযুক্ত তদারকির দাবি জানিয়ে এসেছিলেন। বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, 'না জানিয়েই স্বাস্থ্য ভবনে এসেছি।

জানালে স্বাস্থ্য সচিব পালিয়ে যেতেন। আমরা জানি আজকে নবান্নে তেমন কিছু নেই। তাই তিনি এখানেই থাকবেন।' আগাম কোনও খবর না দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সটান স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকে পড়ার এই ঘটনা রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই ক্ষোভের আঁচ এসে লাগল সেদিন স্বাস্থ্য ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীর কাছে। চাকরি চলে গেল তাঁর।

সুশীল দাস নামের ওই নিরাপত্তারক্ষী টাকির বাসিন্দা। বয়স ৬৩। আগে বিএসএফে কর্মরত ছিলেন তিনি। বাড়িতে রয়েছে তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ ছেলে। সংসার চালাতে চাকরি একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, গত ২৫ জুন ওই ঘটনার পরেই তাঁকে চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছে। যে বেসরকারি সংস্থার হয়ে তিনি কাজে ঢুকেছিলেন, সেখান থেকে জানানো হয় চাপে পড়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সেদিন শুভেন্দু অধিকারী আর তাঁর দলবলকে স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকতে বাধা দিয়েছিলেন দ্বারের নিরাপত্তারক্ষীরা।

কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে আটকানোর ক্ষমতা ছিল না কারও। সেদিনের ঘটনার পর থেকেই নবান্নের অলিন্দেও এ নিয়ে দিনভর ফিসফাস চলেছে অফিসারদের মধ্যে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য ভবনের সমস্ত নিরাপত্তাকর্মীকে কড়া ভাবেই নবান্নের তরফে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এমনকি নবান্নের তত্‍পরতায় স্বাস্থ্য ভবনে নতুন করে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুশীল দাসের চাকরি যাওয়া নিয়ে সোমবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

তিনি টুইটে লিখেছেন, ছেলের চিকিত্‍সা করানোর জন্য এই বয়সেও কাছ করে যাচ্ছিলেন সুশীল দাস। তাঁর স্ত্রী তৃণমূলের পঞ্চায়েত কর্মী। বিজেপি বিধায়করা ২৫ জুন স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তার কোপ পড়ল নিরাপত্তারক্ষী সুশীল দাসের উপর। ওঁর অপরাধ, আমাদের ওঁ দরজায় আটকাতে পারেনি।'রাজনীতির মার প্যাচ বোঝে না সাধারণ মানুষ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর বিরোধী দলনেতার কাছে টাকির সুশীল দাসের তাই একটাই আর্জি, আরও একটা সুযোগ তাঁকে দেওয়া হোক। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অবস্থা, তাঁর অসহায়তা সবাই বুঝুক। আরও একটা চাকরি দেওয়া হোক তাঁকে।