সুইৎজারল্যান্ডঃ অবিশ্বাস্য সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড

সুইৎজারল্যান্ডঃ   অবিশ্বাস্য সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড

পর্বতমালা আর হ্রদের সমাহারে মধ্য-ইউরোপের একটি সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড। এটি ফেডারেল ধরনের একটি ছোট্ট রাষ্ট্র। দেশটির আয়তন ৪১ হাজার ২২৮ কিলোমিটার। স্থানীয় ভাষায় দেশটি ‘সুয়াতিনি’ নামে পরিচিত। কিংডম অব সুইজারল্যান্ড ১৬৪৮ সালে রোমান সাম্রাজ্য থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে দেশটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১২৯১ সালে। দেশটির পশ্চিমে ফ্রান্স, উত্তরে জার্মানি, পূর্বে অস্ট্রিয়া ও দক্ষিণে ইতালি অবস্থিত। মাত্র ৮৩ লাখ জনসংখ্যার (২০১৬) এই দেশটি শিল্প-বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্ন।

দেশটির জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশই জার্মানির অধিবাসী। এরা জার্মান ভাষায় কথা বলে। ২০ শতাংশ লোকের ভাষা ফ্রান্স, আর ৪ শতাংশ মানুষের ভাষা ইতালি। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় ভাষা ফ্রান্স, জার্মান, ইতালিয়ান ও রোমান। দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা ভারসাম্যমূলক ও অত্যন্ত সুস্থির। সুইস সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিবছর ১লা জানুয়ারি তারিখে এর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তিত হয়। ছয় বৎসরের জন্য গঠিত মন্ত্রীপরিষদের একে জন মন্ত্রী পালাক্রমে এক বৎসরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সুইজারল্যান্ডে মোট ২৬টি ক্যান্টন রয়েছে। ঐতিহাসিক কনফেডারেশনের সময় এর প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল যাদের পৃথক সীমানা ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও ছিল। বর্তমানে এর সবগুলো সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত।  বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক এ এই দেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে।এদেশে মানুষের মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ৬৭,৮২৩ সুইস ফ্রাংক (২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ)। বার্ন শহরটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী। অন্যতম বিখ্যাত অন্য দুটি শহর হলো জুরিখ এবং জেনেভা।জেনেভাকে বলা হয় বিশ্বের সম্মেলনের শহর। আল্পস পর্বতমালা ও প্রশস্ত হ্রদ সুইজারল্যান্ডকে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে রূপে ভ‚ষিত করেছে। সুইজারল্যান্ড বিশ্বের পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় একটি দেশ। সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি, ট্রেন এবং চকলেটের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। তবে সুইস ব্যাংকসমূহ পৃথিবীর সকল দেশের কালো টাকা নিরাপদের সংরক্ষণের জন্য কুখ্যাত। দেশটির কোন নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার জেনেভা (Geneva) আকৃতিতে ছোট হলেও সুইজারল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে দামী এবং বিলাসবহুল এই শহরে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিস ও সদর দফতর রয়েছে জেনেভাতে। পরিস্কার পরিছন্ন এবং জাঁকজমকপূণ এই শহর বিশ্ব সম্মেলনের জন্য সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। এছাড়া ঐতিহাসিক ভবন ও দুর্গ পরিদর্শন, আলপাইন লেকে সাতার কাটা, আউটডোর এক্টিভিটি এবং পাহাড়ের সৌন্দর্য অন্বেষণে জেনেভার তুলনা নেই। বছরের যেকোন সময়ই জেনেভা ভ্রমণে যেতে পারেন তবে গ্রীষ্মকাল অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

এছাড়া বিভিন্ন ঋতুতে অপরুপ সুইজারল্যান্ড (Switzerland) ভিন্ন ভিন্ন রুপে পর্যটকদের মন জয় করে।  জেনেভার অন্যতম আকর্ষনের নাম লেক জেনেভা। জেনেভার বুক চিরে বয়ে চলা ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই লেকে পযটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। আছে ছোট থেকে মাঝারি নৌকা বা জাহাজে লেক ভ্রমণের ব্যবস্থা। আর লেকের দুইপাশে গড়ে উঠেছে আবাসিক হোটেল, শপিংমল ও স্যুভেনিয়র শপ। জেট ডি’আউ (Jet d’Eau – Water Jet)  জেনেভার সবচেয়ে আইকনিক ও বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কের নাম জল জেট। একটি শক্তিশালী পাম্প প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 500 লিটার জল ১৪০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত করে। লেকে সাতার কাটা এবং জেট ডি’আউ এর বিস্ময়কর কৃত্রিম ঝর্ণাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।   

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটি এই সুইজারল্যান্ডে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিতি এতদিন খুবই কঠিন ছিলো। দীর্ঘ-স্থায়ীভাবে যেসব বিদেশিরা সেখানে বসবাস করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন করতে তাদেরকে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হতো। এমনকি সেখানে জন্ম নিলেও অন্যদেশী বংশোদ্ভূতরা নাগরিক হতে পারতেন না। সেই নিয়ম পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে নাগরিকত্বের কঠোর নীতি সহজ করার একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে দেশটির ভোটাররা।

ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে ৫৯ ভাগ ভোটার একে সমর্থন দিয়েছে। যার ফলে সুইজারল্যান্ডের জন্মগ্রহণকারী তৃতীয় প্রজন্মের অভিবাসী, যাদের বাবা-মা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে, তাদের নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হবে। সরকারি হিসেবে দেখা যায়, মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক নন। প্রস্তাবিত নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদেরকে আর এধরনের আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হবে না। তবে বিরোধিতারা বলছেন, এর ফলে জনগণের বিশাল একটা অংশ খুব সহজেই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। 

প্রবীণদের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো দেশ সুইজারল্যান্ড। কারণ ইউরোপের এই দেশটিতে প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও তাদের যথাযথ পরিবেশের ব্যাপারে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। এখানে ৬০ বছরের একজন মানুষ আরও ২৫ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা রাখেন। প্রবীণদের সামাজিক সংযুক্তি এবং নাগরিক স্বাধীনতার দিক থেকে সুইজারল্যান্ডের স্থান শীর্ষে। দেশটিতে ৬৫ বছরের অধিক বয়সীদের শতভাগ পেনশন দেওয়া হয়। তারপরও দেশটির প্রবীণদের ১৬ দশমিক ১ শতাংশ এখনও দারিদ্র্যপীড়িত। ইউরোপে বয়স্কদের দারিদ্র্যের গড় হারের চেয়ে এটা বেশি।

সুইজারল্যান্ডে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সিইও হলে আপনার সম্ভাবনা আছে দশমিকের আগে ছয় থেকে সাত ডিজিটের বেতন নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে আরাম–আয়েশে জীবন যাপন করার। অবাক হওয়ার কিছু নেই, গড়ে প্রতি মাসে ৬ হাজার ৫৩৮ সুইস ফ্রাঁ বা ৬ হাজার ৭৫০ ডলার, যা কিনা টাকায় ৫ লাখ ৫০ হাজার (১ সুইস ফ্রাঁ সমান ৯০ টাকার বেশি) সমপরিমাণের বেতন সুইজারল্যান্ডে উপরোক্ত পদে মিলবে। আর তাই বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় সুইজার‌ল্যান্ড অনেক বেশি আকর্ষণীয় স্থান।

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের সঙ্গে এখানেও স্থবিরতা চলছে, যা নিম্ন বেতনের শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায়ই নারী, অভিবাসী বা বিদেশি বাসিন্দাদের স্বল্প বেতনের চাকরিতে দেখা যায়। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সব স্বল্প বেতনের চাকরির অর্ধেক বিদেশি বাসিন্দারা করেন। ৫০ জন বা তারও কম কর্মচারী–সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম এবং বাড়িভাড়া বাড়ছে, যখন মজুরি কেবল মাঝারিভাবে বাড়ছে। সুইস নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য সময় কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের মতো ধনী দেশে, স্বল্প আয়ের লোকেরা প্রায়ই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় করতে বাধ্য হয় বিভিন্ন কারণে।

 সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক বৈষম্য, গবেষণা, মিডিয়া, রাজনীতি মানুষের প্রতিদিনের কথোপকথনের জনপ্রিয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সুইজারল্যান্ডকে তার উচ্চ স্তরের সম্পদ বণ্টনের জন্য প্রশংসা করেছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়া দেশগুলোর চেয়ে সুইজারল্যান্ড কম সমাজতান্ত্রিক, তবে বেশ সফল বলে নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি। তবে মানতেই হবে, সুইজারল্যান্ডের আয়করসহ অন্যান্য করব্যবস্থা, রাষ্ট্রের কল্যাণব্যবস্থার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে সম্পদের পুনর্বণ্টন এবং সামাজিক সাম্যকে প্রভাবিত করে এক অভাবনীয় সাম্য অবস্থা বজায় রেখেছে।

অনেক দেশের হাজারো মানুষ পাড়ি জমান ইউরোপের অনেক দেশে। তাদের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে ইউরোপে পা রাখেন। তারা যখন অবৈধভাবে ইউরোপে আসেন তখন তাদের সেখানে বৈধ হওয়ার আবেদন করতে হয়। এর অংশ হিসেবে তারা প্রথমে বেছে নেন রাজনৈতিক আশ্রয় বা পলিটিক্যাল অ্যাসাইলামকে। 

সুইজারল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার সাথে, কোনও শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সময়কালে সপ্তাহে পনেরো ঘন্টা অবধি খণ্ডকালীন চাকরিতে নিযুক্ত হতে পারে এবং তারা ছুটির সময়গুলিতে পুরো সময়ের চাকরিতে নিযুক্ত হতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের ৮টি অসাধারণ হানিমুন স্থান

ইন্টারলাকেন Interlaken    ইন্টারলাকেন হানিমুনের জন্য সেরা এবং প্রাচীনতম স্পট। এটি সুইজারল্যান্ডের সবথেকে ভালো শহর। এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে, স্কিইং, ল্যান্ডস্কেপ ভিউ, প্যাডলিং এবং প্যারাগ্লাইডিংয়ের কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও বার্নিজ ওভারল্যান্ডে সীমানাবর্তী অবস্থিত, পর্বতমালা – জংফ্রেউ,আইগার, ও মঞ্চ, হ্রদ – থুন এবং ব্রায়ঞ্জ।

লুসার্ন Lucerne     মন্ত্রমুগ্ধ লুসার্ন গ্রামটি, এক সুন্দর হ্রদ দ্বার সুসজ্জিত। আরো দর্শনীয় স্থান বলতে, গীর্জা এবং অপরূপ সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যে। এপ্রিল ও মে মাসে সুইজারল্যান্ড হানিমুনে, লুসার্ন ছাড়া অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এখানে খাঁটি সুইস চকোলেটর স্বাদ নিতে পারেন।

জুরিখ Zurich    জুরিখ এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র। সুইজারল্যান্ড হানিমুনের গন্তব্য স্থানের মধ্যে, অবশ্যই জুরিখের এক ঝলক আপনাকে এক আলাদা আনন্দের সন্ধান দিতে পারে। জুরিখের দর্শনীয় স্থান,- আর্ট গ্যালারী, গীর্জা, একাধিক যাদুঘর, এবং শপিং মল। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বাইক রাইডিং , হাইকিং, স্কিইং এবং পর্বতারোহণ করা যেতে পারে। জুলাই মাসে হানিমুনের করলে অবশ্যই জুরিখ মিস করবেন না।

 টিসিনো Ticino টিসিনো হ’ল সুইজারল্যান্ডের আরো এক সেরা পর্যটন কেন্দ্র। যারা অপূর্ব সৌন্দর্য নব দম্পতির হানিমুন জন্য আদর্শ। বরফে ঢাকা পাহাড় এবং অপূর্ব সুন্দর হ্রদ, যা এক নিখুঁত সংমিশ্রণ। সুজারল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিম অংশে অবস্থিত টিসিনো। হানিমুন ভ্রমণকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কমনীয় সৌন্দর্যের এই সুইস উপত্যকা। এখানে রয়েছে জল ক্রিয়া – স্বপ্নালু নৌকাবিহার ,উইন্ডসরফিং,এবং বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ। ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ড হানিমুনের জন্য, ভূমধ্যসাগরিয় অঞ্চলে, টিসিনো বেশ পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র।

 জার্মাট Zermatt  জার্মাট, নব দম্পত্তিদের হানিমুনের জন্য মনোরম স্থানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান। এই অদ্ভুত সুন্দর শহরটি ম্যাটার্হর্নের পাদদেশে অবস্থিত এবং যারা পর্বতারোহণ এবং স্কিইংয়ের জন্য উন্মাদ তাদের জন্য আদর্শ জায়গা জার্মাট। যারা ফেব্রয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ড হানিমুনের পরিকল্পনা করেন, এই স্থানটি তাদের জন্য উপযুক্ত।

জেনেভা Geneva   নদী তীরবর্তী অবস্থিত জেনেভা, হানিমুন ভ্রমণকারীদের জন্য সুন্দর একটি আকর্ষণীয় স্থান। জেনেভার অভ্যন্তরীণ, নদী তীরবর্তী একটি শান্ত সন্ধ্যা ভ্রমণ । যা নব দম্পতিদের রোমান্টিক অনুভূতি দিতে পারে।

 

 বাসেল Basel   ঐতিহাসিক শহর বাসেল, হিস্টোরি প্রেমীদের দেখার জন্য অবশ্যই আদর্শ স্থান । এই পুরানো শহরটি, হানিমুন ভ্রমণ কারীদের ঘুরে দেখার জন্য। গোথিক ক্যাথেড্রাল চার্জ, অথবা মার্কেট স্কোয়ারে অদ্ভুত সুন্দর বইয়ের দোকান। বুটিকস এবং আরো অনেকগুলি যাদুঘর উপভোগ করতে পারেন।

 লাউসান্নে Lausanne    আপনি যদি রোমাঞ্চ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। তাহলে লাউসান্নে রয়েছে, রোমান্টিক রেস্তোঁরা এবং রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো যা এক রোমাঞ্চকর উপভোগ। শহরে কিংবদন্তি রুে ডে বোর্গ (Rue de Bourg), ওয়াইন গার্ডেন্স(wine gardens) চারিসমেটিক ক্যাথেড্রাল (charismatic cathedral)।

দেশের নাম  : সুইজারল্যান্ড রাজধানী                   

 বার্ন বৃহত্তম শহর   : জুরিখ

রাষ্ট্রীয় ভাষা  : জার্মান, ফরাসি, ইতালীয়,             

গণতন্ত্র (যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র) স্বাধীনতা : ১২ সেপ্টেম্বর ১৮৪৮

জনসংখ্যা  : প্রায় ৮৫ লক্ষ

মুদ্রা : সুইস ফ্রাংক

সময় অঞ্চল  : CET (ইউটিসি+ ১) গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) CEST (ইউটিসি+ ২)

কলিং কোড : +৪১

ইন্টারনেট টিএলডি : .ch

ভিসা ইস্যু করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • পাসপোর্ট (পাসপোর্টের মেয়াদ ৩ মাসের বেশি থাকতে হবে)
  • ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
  • আবেদনকারীর ছবি:
      - তিন মাসের মধ্যে তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
      - ছবি অবশ্যই রঙ্গিন হতে হবে এবং ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড হালকা নীল অথবা সাদা হতে হবে।
      - ছবিতে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ মুখ স্পষ্ট বোঝা যেতে হবে।
       
     
  • পাসপোর্টে কমপক্ষে একটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে
  • পাসপোর্টে ব্যক্তিগত তথ্যের পেজটির একটি ফটোকপি আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।
  • থাকার জন্য যথেষ্ট অর্থ থাকার প্রমাণ পত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ভিসার আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
  • ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিসা চার্জ নগদ জমা দিতে হবে।
  • ভিসার জন্য আবেদনের সময় ট্র্যাভেল ইন্সুরেন্স করতে হবে।

বিজনেস ভিসা:

  • ব্যবসার কাজে সুইজারল্যান্ডে যেতে চাইলে বিজনেস ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। আর আবেদনের সময় সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত যে কোম্পানির কাছে যেতে হবে, সেই কোম্পানির অরজিনাল আমন্ত্রণপত্র ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।
  • বিজনেস ভিসার জন্য আবেদন করার পূর্বের তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।
  • নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধনপত্র, যদি বিয়ে হয়ে থাকে তবে তার বিয়ের সার্টিফিকেট এবং যদি সন্তান থেকে থাকে তবে সন্তানের জন্ম নিবন্ধনপত্র জমা দিতে হবে।
  •  যে কোম্পানির হয়ে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে তার কভার লেটার অথবা ইন্ট্রোডাকশন লেটার জমা দিতে হবে।

ট্যুরিস্ট ভিসা:

  • সুইজারল্যান্ডে বেড়াতে যেতে চাইলে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদনের সময় গ্যারান্টর ফর্ম, সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত আমন্ত্রণকারী অথবা ট্যুরিস্ট এজেন্ট দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।
  • ভিসার জন্য আবেদনের সময় ট্র্যাভেল ইন্সুরেন্স করতে হবে।
  • ভিসার জন্য আবেদন করার পূর্বের তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।
  •  নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধনপত্র, যদি বিয়ে হয়ে থাকে তবে তার বিয়ের সার্টিফিকেট এবং যদি সন্তান থেকে থাকে তবে সন্তানের জন্ম নিবন্ধনপত্র জমা দিতে হবে।
  •  চাকরি করলে, বেড়াতে যাওয়ার জন্য ছুটির অনুমতিপত্র।
  • সুইজারল্যান্ডে থাকার জন্য যথেষ্ট অর্থ থাকার প্রমাণ পত্র ভিসার আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

 

 

সুইজারল্যান্ড ছাত্র ভিসা

আপনার সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার্থী ভিসা টাইপ 'ডি' এর আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি নীচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে:

  • তিনটি 'সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘস্থায়ী ভিসার জন্য আবেদন'। এটি জাতীয় জাতীয় ভিসা টাইপও। ভিসার আবেদনের ফর্মগুলি সঠিক তথ্যের সাথে যথাযথভাবে পূরণ করা উচিত এবং স্বাক্ষর করতে হবে।
  • চার পাসপোর্ট ফটোগ্রাফ।
  • একটি বৈধ আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট। এই পাসপোর্টটি সুইজারল্যান্ডে থাকার পরিকল্পিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত তিন মাসের জন্য বৈধ হতে হবে।
  • সুইজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভর্তির প্রস্তাবের প্রমাণ।
  • স্বাস্থ্যের যত্ন বীমা (এই দুর্ঘটনার জন্যও আচ্ছাদিত হওয়া উচিত)
  • শিক্ষার্থীর নিবন্ধনের জন্য অর্থ প্রদানের এবং টিউশন ফি প্রদানের প্রমাণ।
  • ভাষায় সুস্পষ্ট দক্ষতার প্রমাণ। 
  • জীবিত খরচ এবং অন্যান্য স্কুল খরচ জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ। (এই গবেষণা বছরের শুরুতে 19 200 ইউরোর থাকার প্রমাণ রয়েছে।)
  • কোনও আবেদনকারী বৃত্তি বা loanণ প্রকল্পের অধীনে থাকার ক্ষেত্রে অনুদানের একটি প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি প্রয়োজন। (এই চিঠিতে অনুদানের মান এবং সময়কাল থাকতে হবে))
  • প্রেরণা একটি চিঠি (এই চিঠিতে আপনি সুইজারল্যান্ড যেতে চান এবং এটি আপনার কর্মজীবনের জন্য উপকারী কিনা তা থাকা উচিত)
  • পাঠ্যক্রম জীবন
  • পূর্ববর্তী শিক্ষা শংসাপত্র এবং ডিপ্লোমা কপি।
  • গবেষণা সমাপ্তির উপর সুইজারল্যান্ড থেকে প্রস্থান করার প্রতিশ্রুতি স্বাক্ষর।

আপনার সুইজারল্যান্ড শিক্ষার্থী ভিসা টাইপ 'সি' এর আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি নীচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে:

  • একটি বৈধ আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট।
  • প্রুফ একটি সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স বুক করেছে।
  • স্বাস্থ্যের যত্ন বীমা (এই দুর্ঘটনার জন্যও আচ্ছাদিত হওয়া উচিত)
  • শিক্ষার্থীর নিবন্ধনের জন্য অর্থ প্রদানের এবং কোর্সের জন্য ফি প্রদানের প্রমাণ।
  • যদি আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হয়, তবে একটি জন্ম শংসাপত্র অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং যদি আবেদনকারী একা আসেন বা তাদের বাবা-মা'র বা অভিভাবকের ভিসার প্রতিলিপি শিক্ষার্থীর সাথে আসছেন তবে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া উচিত।
  • থাকার সময় জুড়ে বসবাসের খরচ জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ।