ঘুরে আসুন  উত্তর-পূর্ব ভারতের এই  হ্রদগুলি থেকে 

ঘুরে আসুন  উত্তর-পূর্ব ভারতের এই  হ্রদগুলি থেকে 

এ দেশের  কোথাও পর্বত, কোথাও সমুদ্র, কোথাও মরুভূমি আবার কোথাও সমতল। প্রকৃতি দেবী যেন  আশীর্বাদ ঢেলে দিয়েছে দেশের প্রতিটি কোনায়।দেশের একেক জায়গার একেক রূপ। দেশের উত্তর পূর্ব অংশে রয়েছে বেশ কিছু হ্রদ। যা দেখতে পর্যটকরা ভিড় কমান প্রতি বছর।


লোকটাক হ্রদ :  মণিপুরের বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় পর্যটন ক্ষেত্র হল এই লোকটাক। মনিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে মাত্র ৩৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লোকটাক লেক।পদ্মের সতেজতা এবং গন্ধে এখন ভরপুর এই হ্রদ। এই হ্রদের মধ্যে রয়েছে একটি দ্বীপ। দ্বীপের নাম সেন্দ্রা। হ্রদের আয়তন সর্বোচ্চ ৫০০ বর্গকিলোমিটার। বর্ষায় হ্রদের আকার বৃদ্ধি পায়। মণিপুরের মোইরং এলাকায় অবস্থিত এই হ্রদ বিখ্যাত তার ভাসমান দ্বীপের কারণে। এই  দ্বীপে রয়েছে বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় অভয়ারণ্য কেইবুল লামজাও ল্যাশনাল পার্ক। এই অভয়ারণ্যে রয়েছে বিখ্যাত মণিপুরী সাংগাই হরিণ। এটি বিলুপ্ত প্রজাতির হরিণ।

পালক হ্রদ :  মিজোরামের একটি বৃহত্তম হ্রদ ও দর্শনীয় জায়গা হল পালক হ্রদ ।স্থানীয়রা একে ডাকেন পালক দিল বলে।   হ্রদের পাশে রয়েছে পালক অভয়ারণ্য। এই অরণ্যে ভারত এবং মায়ানমারের মিশ্রিত উদ্ভিদ এবং প্রাণীর খোঁজ পাওয়া যায়। প্রচুর বিরল প্রজাতির গাছপালার খোঁজ মেলে এই অরণ্যে। এছাড়াও মিলবে বহু পরিযায়ী প্রাণী। পালক হ্রদে রয়েছে অনন্য প্রজাতির নানা মাছ, চিংড়ি, শামুক, কাঁকড়া, কচ্ছপ ইত্যাদি। 


চানডুবি বিল  :  অসমের কামরূপ জেলার রাভা হাচং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক হ্রদ। গুয়াহাটি থেকে এই স্থানের দূরত্ব প্রায় ৬৪ কিমি। হ্রদ বা বিলটি অবস্থিত অসম ও মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের পাদদেশে। চাঁদ সদাগরের ডিঙি ডুবে এই বিল হওয়ার জন্যই এর নাম 'চান্দডুবি'। ভূমিকম্পে এই স্থানের ভূমি বসে গিয়েছিল। সেই থেকেই হ্রদের সৃষ্টি। হ্রদের চারপাশে রয়েছে গভীর অরণ্য, চা বাগান এবং ছোটো ছোটো গ্রাম। প্রতিবছর বহু মানুষে এখানে বনভোজনের উদ্দেশ্যে আসেন। ছোটো নৌকা চড়ে হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে চানডুবি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। 

উমিয়াম হ্রদ : মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের ১৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উমিয়াম হ্রদ । মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে  উমিয়াম হ্রদের আরেক নাম বরাপানি হ্রদ। ১৯৬০-র দশকে উমিয়াম নদীতে বাঁধ দিয়ে এর সৃষ্টি করা হয়েছিল। হ্রদ এবং বাঁধের অববাহিকা অঞ্চল প্রায় ২২০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত।   মেঘালয়ের এই উমিয়াম হ্রদ এক অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। পর্যটকরা কায়াকিং, বাটার সাইক্লিং, স্কুটিং, নৌকা চালানো ইত্যাদির জন্য এখানে ভিড় করেন।