অতিরিক্ত ঘুমের ফলে যে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়

অতিরিক্ত ঘুমের ফলে যে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়

দেহ-মন সুস্থ রাখতে ঘুমের বিকল্প নেই বলে জানান বিজ্ঞানীরা। ঘুমের অভাব দূর করা তাই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুমানো কী স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপিং ফাউন্ডেশন সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের একটি গবেষণায় বলেছে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট।যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন ইয়ংস্ট্যাড্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বলেছেন, সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন যা-ই হোক, সাত ঘণ্টার বেশি ঘুম ঠিক নয়। অন্যান্য গবেষণারও মিল পাওয়া যায় এর সঙ্গে। দেখা যায়, মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য সাত ঘণ্টা ঘুমই পর্যাপ্ত।

ওজন বৃদ্ধি : আগের পর্যবেক্ষণ থেকেই জানা যায় যে, ৬ বছরে অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের ওজন বৃদ্ধির হার স্বাভাবিক সময় ধরে ঘুমানো ব্যক্তিদের চেয়ে ২১% বেশি হয়ে থাকে। তাই অতিরিক্ত ঘুমানো আপনার শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়, যা আমরা অনেকেই পছন্দ করি না।

গর্ভধারণে সমস্যা করে : কোরিয়ায় ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখানো হয়, অতিরিক্ত ঘুমের কারণে নারীদের গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস পায়। প্রায় ৬৫০ জন নারীর ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। খ্যাতিমান অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্ট ড. ইভান রোজেনব্লাথ বলেন, ঘুমের সঙ্গে দেহের ২৪ ঘণ্টার জৈবিক চক্র, হরমোন ক্ষরণ এবং ঋতুস্রাবের বিষয়টি জড়িত। এসব আবার গর্ভধারণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

অলস মস্তিষ্ক : বলা হয়ে থাকে, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। এখানে শয়তানের কারখানা না হলেও, অতিরিক্ত ঘুম যে আপনাকে দৈনন্দিন কাজ থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রাখে, তা আর বলতে বাকি রাখে না। ঘুমের চাহিদা যত বেশি হবে, মস্তিষ্কের কাজ করার শক্তিও তত কম হবে।

হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে : আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি ২০১২ সালে এক গবেষণা চালায়। সেখানে বলা হয়, আট ঘণ্টার বেশি সময় নিয়মিত ঘুমালে হৃদযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে থাকে।

আয়ু কমতে পারে : ২০১০ সালে ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা নিয়ে একটি রিভিউ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, যাঁরা বেশি ঘুমান তাঁদের দ্রুত মৃত্যুর শঙ্কা অন্যদের চেয়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি থাকে। ওই গবেষণাগুলো ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৯ জন মানুষের ওপর পরিচালিত হয়।

ডায়াবেটিসের শঙ্কা বাড়ে : কানাডার কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, রাতে আট ঘণ্টার বেশি ঘুমের কারণে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারায় দেহ। এতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের শঙ্কা বেড়ে যায়।

স্ট্রোক : বয়স ১১ বছরের বেশি এমন ৯,৭০০ ইউরোপীয় নিয়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণা চালায়। সেখানে দেখা যায়, যারা দিনে ৮ ঘন্টার বেশি ঘুমায়, তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ৪৬% বেড়ে যায়।