বিজেপির বুথ সম্পাদকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে কোচবিহার বনধ ডাক দিল বিজেপি

বিজেপির বুথ সম্পাদকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে কোচবিহার বনধ ডাক দিল  বিজেপি

ভোট যতই এগিয়ে আসছে বঙ্গে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। এরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ক্রমেই সুর চড়াচ্ছে বিজেপি শিবির। খোদ রাজ্যপাল জগদীপ খনখড়ও প্রায় প্রতিদিনিই তোপ দাগছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলে।

রাজ্যে একের পর এক বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই আবহেই আরও এক বিজেপি কর্মী খুনের খবর মিলল বাংলায়। এবারের ঘটনাস্থল উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলা। তুফানগঞ্জের নাককাটিগাছ পঞ্চায়েতের চামটা গ্রামের বিজেপির বুথ কমিটির এক সম্পাদককে  পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের নিশানায় অবশ্যই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দল। অভিযোগ নাককাটিগাছ এলাকার পূর্ব শিকারপুরে বুধবার সকালে খুন হন  বিজেপিকর্মী কালাচাঁদ কর্মকার। এই ঘটনায় আহত হন আরও দু'জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত কালাচাঁদকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

মৃতের পরিজনদের দাবি, বিজেপি করার অপরাধেই তাঁদের উপরে এই আক্রমণ। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির জেলা নেতৃত্বেরও। কুচবিহারের এসপি কে কান্নন জানিয়েছেন, কালীপুজোর ভাসানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে পূর্ব শিকারপুরের ২টি ক্লাবের মধ্যে গণ্ডগোল হয়।  দুই ক্লাবের মধ্যে বিবাদ থামাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হন ৫৫ বছরের কালাচাঁদ কর্মকার।  এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কমল বর্মণ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যে বিধানসভা ভোটের দিকে নজর দিয়ে রাজ্যকে ৫ ভাগে ভাগ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তারমধ্যে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে উত্তরবঙ্গ জোন। উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবারই শিলিগুড়ি যান বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।

এদিন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৃহস্পতিবারও তার বৈঠকের কথা রয়েছে। তার মাঝে এই খবর নতুন করে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।

এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ট্যুইট করেছেন। তিনি লেখেন, ‘কোচবিহারে বিজেপির বুথ সম্পাদক কালাচাঁদ কর্মকারকে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী পিটিয়ে হত্যা করেছে, কিন্তু প্রশাসন চোখে কাপড় বেঁধে রেখেছে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে। খুব শীঘ্রই মানুষ এর জবাব দেবে এই 'অহংকারী' সরকারকে।’