বিরজু মহারাজ সমেত ২৭ জন বুদ্ধিজীবীকে নোটিস পাঠালো কেন্দ্র

বিরজু মহারাজ সমেত ২৭ জন বুদ্ধিজীবীকে নোটিস পাঠালো কেন্দ্র

নোটিসের কাগজে স্পষ্টই লেখা, 'এক্সটেনশন সম্ভব নয় । তাই বাড়ি ছাড়ুন !' হঠাত্‍ এরকম এক নোটিস পাওয়ায় রীতিমতো বিপাকেই পড়েছেন ৮৩ বছরের প্রবাদপ্রতীম কত্থক শিল্পী বিরজু মহারাজ । তবে তিনিই যে একা এরকম বাড়ি ছাড়ার নোটিস পেয়েছেন তা কিন্তু একেবারেই নয় ।

বিরজু মহারাজ সমেত ২৭ জন প্রবাদপ্রতীম শিল্পীকে বাড়ি ছাড়ার নোটিস পাঠাল কেন্দ্র । তালিকায় রয়েছে, চিত্রশিল্পী যতীন দাস, সন্তুরবাদক ভজন সোপারি, মোহিনীঅট্টম শিল্পী ভারতী শিবাজীর মতো নাম । নোটিসে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে ।

কেন্দ্রীয় সরকারে 'এমিনেন্ট আর্টিস্ট'-এর কোটা প্রবাদপ্রতীম শিল্পীরা দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় মাসিক খুব অল্প টাকায় যাকে বলে 'লাইসেন্স ফি'-এর বিনিময়ে বাড়ি পেয়েছিলেন । কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এই শিল্পীদের বাড়িতে থাকার মেয়াদ শেষ এবং নতুন করে এক্সটেনশন হবে না ।

নোটিস হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও লিখেছেন বিরজু মহারাজ । সংবাদমাধ্যমকে বিরজু মহারাজ জানিয়েছেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে অসুবিধার কথা জানিয়েছি । আশা করি তিনি সব দিক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে । ' অন্যদিকে, চিত্রশিল্পী যতীন দাস জানিয়েছেন 'আমার এটা ছাড়া অন্য কোনও বাড়ি নেই ।

দুম করে যাব কোথায় ? এতদিন ধরে এখানে আছি। এই বাড়ির প্রত্যেকটা ইঁটের সঙ্গে আমি যুক্ত । এই করোনা আবহে, আমাদের তো বিপদে ফেলে দেওয়া হলো ।' কুচিপুরি নৃত্যশিল্পী বনশ্রী রাও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'নোটিসের বক্তব্য পড়ে এমনটা মনে হচ্ছে, আমরা যে বাড়ি দখল করেছি ।

এদিকে ২০১৪ সালে সরকারের পক্ষ থেকে পুরনো বকেয়া হিসেবে গত চার বছরের ৯ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। দফায় দফায় তা দিয়েও দিয়েছি। তারপরেও এরকম নোটিস !'