স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে অপসারণের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে অপসারণের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চেয়ারম্যান শুভশঙ্কর সরকারকে পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)৷ এ দিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই নির্দেশ দিয়েছেন৷ এসএসসি-র চেয়ারম্যানের যোগ্যতা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করে এই নির্দেশ দেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি৷

এসএসসি চেয়ারম্যানের ভুলের মাশুল হিসেবেই এই শাস্তি তাঁকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি৷ এসএসসি-তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মামলাতেই এই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট৷  শুধু অপসারণই নয়, এসএসসি-র চেয়ারম্যানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে আদালত৷ নিজের পকেট থেকেই এসএসসি চেয়ারম্যানকে এই জরিমানার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷

এসএলএসটি-র নবম এবং দশম শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভুল নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় এ দিন এই নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ এসএসসি চেয়ারম্যানের অপসারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শিক্ষা দফতরের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি৷

পাশাপাশি মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীকে কাউন্সিলিংয়ের সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ এসএসএসি চেয়ারম্যানের এই ধরনের ভুলের সম্পর্কে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে অবগত করার জন্য হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ 

চেয়ারম্যানের ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে এ দিন বিচারপতি বলেন, 'এসএমএস-এ কাউন্সিলিংয়ের তিন দিন আগে কীভাবে চাকরিপ্রার্থীকে বার্তা দেওয়া হয়? কেন ই মেল বা স্পিড পোস্টে করে নিয়োগের সুপারিশ পত্র পাঠানো হয়নি?' এসএসসি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্মিত বিচারপতি বলেন, 'কোন ধরণের চেয়ারম্যান ইনি!

কোন যোগ্যতামানে ইনি চেয়ারম্যান হিসেবে সেন্ট্রাল সার্ভিস কমিশনে কাজ করছেন ?' অভিযোগ, মামলাকারী চাকরিপ্রার্থী এসএলএসটি-র মেধা তালিকায় ১৪৯ নম্বরে ছিলেন৷ তার পরেও তিনি নিয়োগপত্র পাননি৷

অথচ ১৫৯, ১৯৬, ১৯৮ নম্বরে প্রার্থীরা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই বেনিয়মের অভিযোগেই মামলা হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এ দিন আরও নির্দেশ দিয়েছেন, শূন্যপদ অনুযায়ী মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীকে তাঁর বাড়ি থেকে সবথেকে কম দূরত্বের মধ্যে পাঁচটি স্কুলের জন্য কাউন্সিলিংয়ের সুযোগ দিতে হবে৷ পাশাপাশি, কাউন্সিলিংয়ের ৪৫ দিন আগে তাঁকে সে বিষয়ে অবগতও করতে হবে৷